অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কে ভাসমান প্রায় তিন হাজার হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব হকারকে কোন রকম পুনর্বাসন ছাড়াই রাস্তা থেকে তুলে দেয়া হয়। পেটের দায়ে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও রাস্তায় হকারি করতে গিয়ে পুলিশের মারধরের শিকার হচ্ছেন হকাররা। এসব হকার পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন না খেয়ে মরার দশা।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের এসব হকারকে উচ্ছেদ করা হয়। যা নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ওই সময় নারায়ণগঞ্জের এমপি একেএম শামীম ওসমান হকারদের পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে নানা রাজনীতিও হয় এখানে।
এদিকে রবিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তিন হাজার হকারদের নিয়ে সংগঠন হকার্স সংগ্রাম পরিষদ। এ সমস্যার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান আলোচনারভিত্তিতেই হওয়া সম্ভব বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীকে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। এর আগে হকাররা নারায়ণঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ ও মিছিলও করেন।
জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম বলেন, রোজা আর ঈদ শুধু ধনীশ্রেণির জন্য একা নয়। আমাদেরও স্ত্রী-সন্তান পরিবার-পরিজন আছে। আমরা অবৈধ উপার্জন করি না। আমরা বেঁচে থাকতে চাই। আমাদের সমস্যার সমাধান চাই।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার সমস্যাকে কেন্দ্র করে আমরা ইতিপূর্বে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাংসদ সেলিম ওসমান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছি। এ সমস্যার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান আলোচনারভিত্তিতেই হওয়া সম্ভব। আলোচনারভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান তারা করতে পারবেন বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত হকার সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। তাই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, সহ-সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলীপ দাস, হকার্স লীগের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবদুর রহিম মুন্সী, হকার্স ইউনিয়নের নেতা আলমগীর হোসেন পলাশ, মো. সোহেল মিয়া, আব্দুল গনি ও রানা প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকারদের উচ্ছেদ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পুলিশ প্রশাসন। এ নিয়ে হকাররা যান এমপি শামীম ওসমানের কাছে। তখন শামীম ওসমান হকারদের নিয়ে ১৪ জানুয়ারি সমাবেশ করে হকারদের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে দুই দিনের সময় বেঁধে দেন। নতুবা তিনি নিজেই হকারদের বসানোর ব্যাপারে মত দেন। এ নিয়ে ১৬ জানুয়ারি দুই গ্রুপের হকার ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন হকারদের সঙ্গে বৈঠক করে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়কে হকারদের বসতে অনুমতি দেয়। কিন্তু তারপরও হকারদের দাবি পুনর্বাসন নতুবা বিবিরোডেই হকারদের বসতে দিতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























