ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগীর স্বজন-চালককে লাঞ্ছিত, পথে বৃদ্ধের মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :  

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ায় তারা রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় দুই দফা আটকে চালক ও রোগীর স্বজনদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর সেই রোগী ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা যান।

মারা যাওয়া রোগীর নাম জমশেদ আলী ঢালী (৬০)। তার বাড়ি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকায়। মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

পালং থানা ও মারা যাওয়া ব্যক্তির স্বজন যোবায়েদ হোসেন রোমান জানান, ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার জমশেদ আলী মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বজনরা সকাল ৯টার দিকে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

রোগীর স্বজনরা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর পর চালক আরও এক হাজার টাকা বেশি দাবি করেন। তখন তারা ঢাকা থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার দিকে রওনা হন।

এ সময় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সদস্যরা দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়। তারা দাবি করতে থাকে- স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে কেন বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে রোগীর স্বজন ও চালককে দুই দফা লাঞ্ছিত করে তারা।

অ্যাম্বুলেন্সচালক সালমান বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন লোক ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের জামতলা এলাকায় দুই দফায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রেখে আমাদের লাঞ্ছিত করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেই। পথিমধ্যে রোগী জমশেদ আলী মারা যান।

এরপর রাত ৯টার দিকে জমশেদ আলীর লাশ নিয়ে স্বজনরা শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় আসেন। তারা ঘটনাটি প্রথমে মৌখিকভাবে পুলিশকে জানান। পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বলে।

জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন বলেন, স্থানীয় সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় যাওয়ার পথে দুটি স্থানে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা অসুস্থ নানাকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হই। ঢাকায় পৌঁছলেও হাসপাতালে পৌঁছতে পারিনি, তার আগেই আমার নানা মারা গেছেন।

এ ব্যাপারে অ্যাম্বুলেন্স চালক সুমন খান মোবাইল ফোনে বলেন, ঢাকায় চলাচল করে এমন একটি অ্যাম্বুলেন্সে শরীয়তপুর হাসপাতালের রোগী উঠানোর কারণ জানতে চেয়েছিলাম চালকের কাছে। এর বেশি কিছু নয়। আমি কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখিনি। এ অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, অভিযোগটি মৌখিক হওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তারা লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এছাড়াও শরীয়তপুরের অ্যাম্বুলেন্সচালকরা প্রায়ই রোগীদের হয়রানি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদ আহমেদ বলেন, সকালের দিকে বয়স্ক এক লোক স্ট্রোকের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ আগস্ট শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ওঠানোর কারণে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা তা আটকে রাখেন। তখন ওই অ্যাম্বুলেন্সে এক নবজাতক শিশু মারা যায়। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা পালং মডেল থানায় ১৬ আগস্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক চালক আবু তাহের, তার ছেলে সবুজ দেওয়ানসহ চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগীর স্বজন-চালককে লাঞ্ছিত, পথে বৃদ্ধের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :  

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ায় তারা রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় দুই দফা আটকে চালক ও রোগীর স্বজনদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর সেই রোগী ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা যান।

মারা যাওয়া রোগীর নাম জমশেদ আলী ঢালী (৬০)। তার বাড়ি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকায়। মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

পালং থানা ও মারা যাওয়া ব্যক্তির স্বজন যোবায়েদ হোসেন রোমান জানান, ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার জমশেদ আলী মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বজনরা সকাল ৯টার দিকে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

রোগীর স্বজনরা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর পর চালক আরও এক হাজার টাকা বেশি দাবি করেন। তখন তারা ঢাকা থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার দিকে রওনা হন।

এ সময় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সদস্যরা দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়। তারা দাবি করতে থাকে- স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে কেন বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে রোগীর স্বজন ও চালককে দুই দফা লাঞ্ছিত করে তারা।

অ্যাম্বুলেন্সচালক সালমান বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন লোক ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের জামতলা এলাকায় দুই দফায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রেখে আমাদের লাঞ্ছিত করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেই। পথিমধ্যে রোগী জমশেদ আলী মারা যান।

এরপর রাত ৯টার দিকে জমশেদ আলীর লাশ নিয়ে স্বজনরা শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় আসেন। তারা ঘটনাটি প্রথমে মৌখিকভাবে পুলিশকে জানান। পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বলে।

জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন বলেন, স্থানীয় সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় যাওয়ার পথে দুটি স্থানে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা অসুস্থ নানাকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হই। ঢাকায় পৌঁছলেও হাসপাতালে পৌঁছতে পারিনি, তার আগেই আমার নানা মারা গেছেন।

এ ব্যাপারে অ্যাম্বুলেন্স চালক সুমন খান মোবাইল ফোনে বলেন, ঢাকায় চলাচল করে এমন একটি অ্যাম্বুলেন্সে শরীয়তপুর হাসপাতালের রোগী উঠানোর কারণ জানতে চেয়েছিলাম চালকের কাছে। এর বেশি কিছু নয়। আমি কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখিনি। এ অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, অভিযোগটি মৌখিক হওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তারা লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এছাড়াও শরীয়তপুরের অ্যাম্বুলেন্সচালকরা প্রায়ই রোগীদের হয়রানি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদ আহমেদ বলেন, সকালের দিকে বয়স্ক এক লোক স্ট্রোকের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ আগস্ট শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ওঠানোর কারণে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা তা আটকে রাখেন। তখন ওই অ্যাম্বুলেন্সে এক নবজাতক শিশু মারা যায়। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা পালং মডেল থানায় ১৬ আগস্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক চালক আবু তাহের, তার ছেলে সবুজ দেওয়ানসহ চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।