অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ও সাদুল্যাপুর উপজেলায় পৃথক দুটি নির্যাতনের ঘটনায় উর্মি বেগম (২৭) ও ফুলরানী বেগম (৪৬) নামে দুই গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে নির্যাতনের ঘটনায় ওই দুই গৃহবধূকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক গৃহবধূর স্বামীকে আটক করেছে।
শনিবার সকালে উর্মি বেগমের লাশ বাড়ির টয়লেটে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ফুলরানীর লাশ বাড়ির পাশে একটি মরে যাওয়া খালে লাগানো ধানক্ষেতে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ঘটনায় উর্মি বেগম (২৭) উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের মেয়ে উর্মি বেগম।
আজাদুল ইসলাম জানান, দুই বছর আগে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বালুপাড়া মহল্লার মনিমের সঙ্গে বিয়ে দেন উর্মির।
কিন্তু বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ কারণে উর্মিকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। দাম্পত্য কলহের জেরেই মনিম ও তার পরিবারের লোকজন উর্মিকে হত্যা করে লাশ টয়লেটে ঝুলিয়ে রাখে বলে আজাদুল ইসলাম দাবি করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, উর্মির মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহজনক। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর স্বামী মনিম মিয়া পলাতক রয়েছে। তাকে খুঁজে পেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। লাশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অপরদিকে,নিহত ফুলরানী বেগম (৪৬) সাদুল্যাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভাজাকালাই গ্রামের গোফফার মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। গোফ্ফারের প্রথম স্ত্রী মারা গেছেন। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে গোফফার মিয়া এ বয়সেও প্রায়ই ফুলরানীকে মারধর করতেন।
শুক্রবার বিকালে গোফফার ফুলরানীকে বেদম মারধর করেন।
শনিবার সকালে বাড়ির পাশের মরে যাওয়া খালে রোপণকৃত ধানক্ষেতে ফুলরানীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজন।
তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ফুলরানীর স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরেই গোফফার ফুলরানীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে রাখে।
এর আগে গোফফারের নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের কেউ কেউ।
সাদুল্যাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমরানুল কবীর বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ফুলরানীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী গোফফারকে আটক করা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















