অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে খুন হওয়া রংপুরের আইনজীবী রথিশ চন্দ্র সোনা বাবুকে হত্যার পর কামরুল ইসলাম মরদেহ গুম করার স্থান হিসেবে বেছে নেন তার বড় ভাই ঢাকায় বসবাসরত খাদেমুল ইসলামের নির্মাণাধীন বাড়ি। ওই বাড়িতেই মরদেহ গুম করার সিদ্ধান্ত হিসেবে ভিন্ন কথা বলে স্কুলের দুইজন ছাত্রকে দিয়ে গর্ত খুঁড়িয়ে নেন। এছাড়াও সেখানে তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কোচিং ক্লাস করাবেন বলেও ছাত্রছাত্রীদের জানান স্ত্রী দীপা ভৌমিক।
তাদের পরিকল্পনা ছিলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কামরুল ওই বাড়িটি সংস্কারের নামে সেখানে মেঝে প্লাস্টার করে নিতেন এবং কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেজন্য কোচিং ক্লাস শুরু করে দিতেন।
এদিকে সোনা বাবু নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন খুনি কামরুল ইসলাম জাফরী মাস্টার। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দীপার সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গিয়েছিলেন কামরুল ইসলাম। এ সময় বিভিন্ন ফলমূল নিয়ে দীপার হাতে দিয়ে তাকে সান্ত্বনাও দিয়েছিলেন।
খুনের ঘটনায় কেউ যেন তাকে সন্দেহ করতে না পারে সেজন্য এই ঘটনার সাথে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রচার করেছিলেন তিনি।
এলকাবাসী জানান, শনিবার সকালে বাবু সোনার নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর তার বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় তাজহাট স্কুলের শিক্ষক কামরুল মাস্টার। বিকেলের দিকে বিভিন্ন ফলমূল নিয়ে ওই বাড়িতে আসেন কামরুল। এ সময় দীপাকে ফল খেতে বলেন এবং সান্ত্বনা দিতে থাকেন। একই স্কুলে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চাকরি করছেন বাবু সোনার স্ত্রী সিগ্ধা সরকার দীপা ভৌমিক। সেখানেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুইদিন (শনি ও রোববার : ৩১ মার্চ-১ এপ্রিল) কামরুল বাবু সোনার বাড়ি ও তার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করেছেন। এ সময় বাড়িতে আসা লোকজনদের সামনে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে নিজেও আলোচনা করেন। প্রচার করতে থাকেন যে বাবু সোনা নিখোঁজের ঘটনায় জামায়াত-শিবির বা জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সূত্র মতে, ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শনিবার স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও কামরুল ইসলাম তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক ২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এছাড়াও তাদের নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে বাবুপাড়া এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























