ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

মাদক ছাড়লেও ভালো হতে দিচ্ছে না পুলিশ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করে মাদক ব্যবসা ছাড়লেও স্থানীয় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ভালো হতে দিচ্ছে না। মাসোয়ারা না দেয়ায় পরিবারের সদস্যদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।

এমন অভিযোগে যশোরের অভয়নগরের কর্মরত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা দায়রা জজ আদালতে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়েছে। আসামিরা হলেন বাসুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহম্মেদ ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খাদেমুল গাফফার।

অভয়নগর উপজেলার ইছামতি গ্রামের হাজী কাইয়ুম মোল­ার ছেলে আবুল কালাম রোববার জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছেন। আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ গ্রহণ করে আগামী ১০ এপ্রিল আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

মামলার অভিযোগে উলে­খ করা হয়েছে, আবুল কালাম মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা করতেন। গত ৩০ জানুয়ারি তিনি মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য যশোর পুলিশ সুপারের কাছে একটি আবেদন করেন। তার এ আবেদন গ্রহণ করেছে পুলিশ সুপার কার্যালয়।

মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ায় স্থানীয় বাশুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ক্যাশিয়ার তাকে টাকার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্যাম্পের পুলিশ তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এর মধ্যে ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খাদেমুল গাফফার তাকে লোক মারফত ও ফোন করে দেখা করতে বলেন।

কালাম মোল্লা তার সঙ্গে দেখা না করায় চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে কালাম মোল্লার কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তার ভাই তরিকুল ইসলামকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যান এএসআই খাদেমুল গাফফার।

তরিকুলের কাছ থেকে ৩২ কেজি গাঁজা, ৫শ’ গ্রাম হেরোইন ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে আবুল কালামকে জানানো হয়। এএসআই খাদেমুল গাফফার তাকে দ্রুত তার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে বলেন। উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই কথা বলেন।

পরে তরিকুলের স্ত্রী রোকসানা খাতুন ক্যাম্পে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে। এএসআই খাদেমুল গাফফার টাকা নেয়ার পর রোকসানা খাতুনের গলার সোনার চেইন ও কানের দুল খুলে নেন স্বামী তরিকুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেবেন না বলে। টাকা, গহনা নেয়ার পরও তরিকুল ইসলামকে মাদক মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং করা হয়েছে। এ বিষয়টি জানতে পেরে ওই দুই কর্মকর্তা আবুল কালামকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাশুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহম্মেদ ও এএসআই খাদেমুল গাফফারের বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

মোবাইলফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং করায় তারা চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন। মোবাইলের কথোপকথনের রেকর্ডিং ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সোর্স ইমরুলকে বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন ওই কর্মকর্তা। ইমরুল বাড়িতে এসে আমাকে না পেয়ে রেকর্ডিং ফেরত ও ৩০ হাজার টাকা দিলে আর হয়রানি করবে না বলে জানিয়েছে। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

মাদক ছাড়লেও ভালো হতে দিচ্ছে না পুলিশ

আপডেট সময় ০১:৫৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করে মাদক ব্যবসা ছাড়লেও স্থানীয় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ভালো হতে দিচ্ছে না। মাসোয়ারা না দেয়ায় পরিবারের সদস্যদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।

এমন অভিযোগে যশোরের অভয়নগরের কর্মরত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা দায়রা জজ আদালতে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়েছে। আসামিরা হলেন বাসুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহম্মেদ ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খাদেমুল গাফফার।

অভয়নগর উপজেলার ইছামতি গ্রামের হাজী কাইয়ুম মোল­ার ছেলে আবুল কালাম রোববার জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছেন। আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ গ্রহণ করে আগামী ১০ এপ্রিল আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

মামলার অভিযোগে উলে­খ করা হয়েছে, আবুল কালাম মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা করতেন। গত ৩০ জানুয়ারি তিনি মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য যশোর পুলিশ সুপারের কাছে একটি আবেদন করেন। তার এ আবেদন গ্রহণ করেছে পুলিশ সুপার কার্যালয়।

মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ায় স্থানীয় বাশুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ক্যাশিয়ার তাকে টাকার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্যাম্পের পুলিশ তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এর মধ্যে ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খাদেমুল গাফফার তাকে লোক মারফত ও ফোন করে দেখা করতে বলেন।

কালাম মোল্লা তার সঙ্গে দেখা না করায় চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে কালাম মোল্লার কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তার ভাই তরিকুল ইসলামকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যান এএসআই খাদেমুল গাফফার।

তরিকুলের কাছ থেকে ৩২ কেজি গাঁজা, ৫শ’ গ্রাম হেরোইন ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে আবুল কালামকে জানানো হয়। এএসআই খাদেমুল গাফফার তাকে দ্রুত তার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে বলেন। উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই কথা বলেন।

পরে তরিকুলের স্ত্রী রোকসানা খাতুন ক্যাম্পে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে। এএসআই খাদেমুল গাফফার টাকা নেয়ার পর রোকসানা খাতুনের গলার সোনার চেইন ও কানের দুল খুলে নেন স্বামী তরিকুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেবেন না বলে। টাকা, গহনা নেয়ার পরও তরিকুল ইসলামকে মাদক মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং করা হয়েছে। এ বিষয়টি জানতে পেরে ওই দুই কর্মকর্তা আবুল কালামকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাশুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহম্মেদ ও এএসআই খাদেমুল গাফফারের বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

মোবাইলফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং করায় তারা চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন। মোবাইলের কথোপকথনের রেকর্ডিং ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সোর্স ইমরুলকে বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন ওই কর্মকর্তা। ইমরুল বাড়িতে এসে আমাকে না পেয়ে রেকর্ডিং ফেরত ও ৩০ হাজার টাকা দিলে আর হয়রানি করবে না বলে জানিয়েছে। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।