আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
এক টিভি অনুষ্ঠানে ধর্ষণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করায় তোপের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা ও অভিনেতা মিশা সওদাগর। তাদের এই আলোচনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পরই বয়ে যাচ্ছে নিন্দার ঝড়। সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন দুজনই। কেউ বলছেন ‘কুৎসিত’ ঘটনার জন্ম দিয়েছেন মিশা-পূর্ণিমা। আবার কেউ বলছেন ‘স্পর্শকাতর’ বিষয় নিয়ে এভাবে আলোচনা করা ন্যাক্কারজনক।
এক আইনজীবী বলেন, এটা এক ধরনের পর্নোগ্রাফি, শুধু ছবিতে যা দেখি তা পর্নোগ্রাফি নয়… ধর্ষণ নিয়ে ভাল লাগার কথা বলাও পর্নোগ্রাফি। ধর্ষণের মতো সিরিয়াস বিষয়ে তারকাদের এরকম কথাবার্তা খুবই কুৎসিত ও অমার্জিত, তাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ফাহমিদুল হক বলেন,পূর্ণিমা নিজে একজন নারী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে এরকম বিষয় নিয়ে হাসিতামাশা করতে পারেন না, তার অপরাধ হয়েছে। অনুষ্ঠানটা প্রচার করে অনৈতিক কাজ করেছে চ্যানেলটি। এটি এমনই একটি অপরাধ, যার কোনো ক্ষমা নেই।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন ফেইসবুকে লিখেছেন, ফর্মুলা ফিল্মগুলোতে ধর্ষণ যতবার উপস্থিত হয়, তা গল্পের প্রয়োজনে নয়, ধর্ষণ উপযোগী করে চিত্রনাট্য রচিত হয়। তার সঙ্গে থাকে যৌন নিপীড়নের রোমান্টিককরণ।
এদিকে তীব্র সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছেন পূর্ণিমা। এই অভিনেত্রী বলেন, আমি যদি কোনো ভুল বা অন্যায় করে থাকি বা কারও মনে আঘাত করে থাকি এই বিষয়টা তুলে এনে, আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমি কাউকে আঘাত করার জন্য, কাউকে নিচু করার জন্য বা বিষয়টি নিয়ে হাস্যকর কোনো কিছু করার জন্য কাজটা করিনি। আমি নিজেও একজন নারী। আমার সন্তান আছে। আমিও বাকিদের কথা চিন্তা করি।
এদিকে মিশা বলেন, প্রশ্নকর্তাকে এমন কোনো প্রশ্ন করা উচিৎ নয়, যেটা আমাদের সমাজে খারাপ প্রভাব ফেলে। প্রডিউসার কিংবা স্ক্রিপ্ট রাইটারকে অবশ্যই সচেতন হওয়া উচিৎ যাতে সমাজে খারাপ প্রভাব না পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ আরটিভিতে প্রচারিত হয় ‘এবং পূর্ণিমা’ টকশো। সেখানে পূর্ণিমার উপস্থাপনায় অতিথি ছিলেন খলনায়ক মিশা সওদাগর। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ধর্ষণ আলোচনায় মেতে উঠেন দুজনই।
এসময় পূর্ণিমা মিশাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি সিনেমায় কতবার ধর্ষণ করেছেন?’ উত্তরে মিশা বলেন, ‘যতবার আমাকে পরিচালক বলেছে ততবার করেছি…’। পূর্ণিমার এরপরের প্রশ্ন আগের প্রশ্নের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়, ‘কার সাথে ধর্ষণ সিন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? জবাবে মিশা বলেন, মৌসুমী ও পূর্ণিমার সাথে।
পূর্ণিমার পরের প্রশ্ন, কেন বিশেষ দুইজনের সাথেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?, এখনও (ধর্ষণ) করতে ইচ্ছা হয়? ধর্ষণ সিন থাকলে আপনি না করেন নাকি করতে চান? উত্তরে মিশা বলেন, গল্পের প্রয়োজনে পরিচালকের নির্দেশনায় ধর্ষণ দৃশ্যে অভিনয় করেন তিনি।
তাদের আলোচনা দেখে অনেকেই বলেছেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষণ দৃশ্য যে যৌন সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য আরোপ করা হয়, দুই অভিনেতা-অভিনেত্রীর কথায় তারই যথার্থতা মেলে। দেশে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা ধর্ষণের পেছনে গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্রের ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























