অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবার কার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেয় এ নিয় চলছে আলোচনা। গত নির্বাচন দলের প্রার্থী আজমতউল্লাহ এবং আলোচিত নেতা জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও আরও দুই নেতা ভোটের মাঠে সক্রিয়।
তবে আজমত এবং জাহাঙ্গীর আলম দুই জনই মনোনয়নের বিষয়ে সংকেত পাওয়ার দাবি করে নির্বাচনী এলাকা এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন।
পাঁচ বছর আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অবাক করা জয়ের আগ পর্যন্ত আলোচনায় ছিল প্রার্থিতা নিয়ে আওয়ামী লীগে নাটকীয়তা।
ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আজমতউল্লাহকে সমর্থন দিলেও দলের আরেক নেতা জাহাঙ্গীর আলম ভোট করবেন জানিয়ে অটল ছিলেন। পরে হঠাৎ উধাও হয়ে যান জাহাঙ্গীর আর পরে একটি হাসপাতালে সন্ধান মেলে তার।
দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশের পর জাহাঙ্গীর ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু কাঁদতে কাঁদতে তার এই ঘোষণার কারণে দলের ভেতর তৈরি হয় বিভেদের ফল পরে ভোটে।
আজ এই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা হচ্ছে। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে পাঁচ বছর আগে আওয়ামী লীগে সেই নাটকীয়তা।
তবে এটার ক্ষমতাসীন দলে সম্ভাব্য প্রার্থী গতবারের মতো দুই জন নন। প্রায় ৩৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে আগাম প্রচারে আছেন আওয়ামী লীগের দুই জনের পাশাপাশি যুবলীগের দুই নেতা।
এরা হলেন: মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।
সকাল থেকে রাত অবধি বিভিন্ন নামে সভা, ওয়াজ মাহফিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন সবাই। তার তাদেরকে ঘিরে নেতাকর্মীরাও বিভিক্ত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হচ্ছেন বিব্রত। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে কাকে দাওয়াত করবেন সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে আয়োজকদের।
গত নির্বাচনে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়া জাহাঙ্গীর আলম এবার সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে তার সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছেন।
অপরদিকে সভাপতি আজমত উল্লা খান নৌকা প্রতীক পাওয়ার ‘চূড়ান্ত সংকেত’ পেয়েছেন দাবি করে বৃহস্পতিবার তার সমর্থকরাও এলাকায় মিষ্টি মুখ করিয়েছেন। সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন তার সমর্থকরাও।
দুই জন ‘সবুজ সংকেত’ কীভাবে পান?-জানতে চাইলে আজমত উল্লাহ খান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন এবং পরিচালনা করার জন্য একজন দক্ষ নগর পিতার প্রয়োজন। এই অভিজ্ঞতা, দক্ষতা আমার পূর্বে রয়েছে যার কারণে দল আমাকেই আগামী নির্বাচনে নমিনেশন দেবে। সময় হলেই আমার সমর্থনের বিষয়ে পজিটিভ কিছুই জানতে পারবেন।’
একই প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দল আমাকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আমি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও মহল্লায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে শরিক হয়ে আগামী সিটি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করছি।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ‘দুইজনই একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করায় আমরা সাধারণ নেতাকর্মীরা হতাশার মধ্যে রয়েছি। কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে কার পক্ষে কাজ করবে এই নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান সমস্যা। আশা করছি দলের কেন্দ্র থেকে এই বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করবে।
আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের পাঁচ মহানগরে ভোট হবে। এই ভোটের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রভাবক হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তাই দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরকে মোকাবেলায় প্রস্তুত হচ্ছে।
এর মধ্যে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ দলীয় কোন্দল নিয়ে চিন্তিত। কারণ রাজশাহী ছাড়া সব কমিটি সিটি করপোরেশনেই দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছে যারা একে অপরকে আবার মানতে চান না।
৩০ মার্চ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেরও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিদ্রোহ সামাল দিতে না পারলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গতবার দলীয় কোন্দলের কারণে হাতছাড়া হওয়া গাজীপুর এবার যেন বিব্রতকর ফল না হয়, সে জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্র সচেতন বলে জানিয়েছেন দলের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে গতবারের মতো পরিস্থিতি এবার হবে না। আমরা আগেই সব মিটমাট করে ফেলব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















