অাকাশ ইতিহাস ডেস্ক:
আজ সোমবার ১৯ মার্চ ২০১৮ সাল
ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।
তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে দৈনিক আকাশের পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’।
১৯ মার্চ, ২০১৮, সোমবার। ৫ই চৈত্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। একনজরে দেখে নিন ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
স্যার আজিজুল হকের মৃত্যু
দানবীর, সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ স্যার আজিজুল হকের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪৭ সালের এই দিনে কলকাতায় মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৮৯২ সালের ২৭ নভেম্বর তার জন্ম শান্তিপুরের নদীয়ায়। এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে আজিজুল হকের জন্ম। পিতা মুসী মনিরুদ্দিন আহমদ। পিতৃব্য কবি মোজাম্মেল হক। পিতামাতার একমাত্র সন্তান আজিজুল হক শৈশবেই মাতৃহারা হয়ে যান। ১৯০৭ সালে শান্তিপুর মুসলিম ইংরেজি হাই স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। এ কলেজ থেকে ১৯০৯ সালে এফএ এবং ১৯১১ সালে ডিস্টিংশনসহ বিএ পাস করেন। ১৯১৪ সালে বিএল ডিগ্রি লাভ করে পরের বছরই কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে আইন ব্যবসায় যোগ দেন। ১৯২৬ সালে নদীয়া জেলা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন ১৯২৬ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত। কৃষ্ণনগর মিউনিসিপ্যালটির চেয়ারম্যান হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় । ১৯৩৪-এর ১৫ জুন বঙ্গীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হন। ১৯৩৭ সালে লীগ কোয়ালিশন দলের সদস্যদের ভোটে ব্যবস্থাপক সভার স্পিকার নির্বাচিত হয়ে ১৯৪২ পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। মাঝে ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। ১৯৪২ সালে ভারতের হাই কমিশনার হয়ে চলে যান বিলেতে। দেশে ফিরে ১৯৪৩ সালে ভারতের বড়লাটের শিল্প, বাণিজ্য ও খাদ্য বিভাগের কেবিনেট মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৫-এ মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করে আবার শুরু করেন আইন ব্যবসা। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার ও গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। অবিভক্ত বঙ্গের বিশিষ্ট রাজনীতিক কুটনীতিক, শিক্ষাবিদ, আইনবিদ, লিখক হিসাবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় আজিজুল হকের কীর্তির মধ্যে রয়েছে সরকারি স্কুলে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি থেকে বাংলায় চালু, প্রাথমিক শিক্ষা পরিকল্পনাকে এ্যাক্টে পরিণত করা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ চালু করা, শিক্ষা সপ্তাহ পালন কর্মসূচি প্রবর্তন ইত্যাদি।
ফার্সি ১৩২৯ সালের ২৯ শে ইসফান্দ অর্থাৎ ইংরেজী ১৯৫১ সালের এ দিনে ইরানের তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করা হয়। ইংরেজ এবং তাদের ক্রীড়নক শাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিণতিতে তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করা হয়। ইরানের সংসদ এবং সিনেট এই সংক্রান্ত বিল অনুমোদন করে। আয়াতুল্লাহ কাশানীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী গ্রুপ ও সংসদের জাতীয়তাবাদীদের সহায়তায় ইরানের সিনেট এবং সংসদ তেল শিল্পের জাতীয়করণের বিলটি আইনে পরিণত হয়। এই আইন কার্যকরী করা ও ইরানে বৃটিশ অয়েল কোম্পানীর কর্তৃত্ব গুটিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ডক্টর মোঃ মোসাদ্দেক ১৯৫১ সালে ইরানের প্রধানমন্ত্রী হন। বৃটিশ অয়েল কোম্পানী ইরানের বিরুদ্ধে হেগের আদালতে মামলা দায়ের করে। কিন্তু হেগের আদালত ইরানের পক্ষে রায় প্রদান করে। তবে এ সময় পাশ্চাত্যের দেশগুলো ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়।
১৮৮৩ সালের এ দিনে বৃটেনের বিখ্যাত রসায়নবিদ স্যার নরম্যান হাওরথ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাইড্রোকার্বন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন। এ ছাড়া শর্করা নিয়েও তিনি ব্যাপক গবেষণা করেছেন। তিনি হাইড্রকার্বন নিয়ে অসংখ্য বৈজ্ঞানকি পত্র লিখেছেন। তার এ সব রচনা হাইড্রোকার্বন রসায়নের অগ্রগতিকে সম্ভবপর করেছে। এ ছাড়া তিনি কৃত্রিম ভাবে এসকোরবিক এসিড তৈরি করতে সক্ষম হন, তার এই সাফল্যের ফলে ভিটামিন সি উৎপাদনের ব্যয় লক্ষণীয় ভাবে হ্রাস পায়। তার বই দি কনস্টিউট অব সুগারস ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৫০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।
১৯০০ সালের এ দিনে ফ্রান্সের খ্যাতনামা পর্দাথবিদ এবং রসায়বিদ ফ্রেদারিক জুলি জন্মগ্রহণ করেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তিনি জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি শিক্ষা শেষ করার পর খ্যাতনাম পর্দাথবিদ এবং রেডিয়ামের আবিষ্কারক মেরি কুরির সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৩৫ সালে ফ্রেদারিক জুলি এবং তার স্ত্রী জুলি-কুরিকে রসায়নে যুগ্ম ভাবে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় ।
২০০৩ সালের এ দিনে জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী ইরাকের উপর আগ্রাসন শুরু করে। সাদ্দামের শাসনাধীন ইরাকের কাছে মারণাস্ত্র রয়েছে বা মারণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলো। তিন সপ্তার মধ্যেই আগ্রাসী বাহিনী সাদ্দামের পতন ঘটায় এবং ইরাকের প্রধান প্রধান শহর দখল করে নেয়। ২০০৩ সালের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকের বিরুদ্ধে বড়ো সড়ো সেনা অভিযান শেষ করা হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু এরপর ইরাকে ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা হয়। বিদেশী বাহিনীর উপস্থিতির কারণে সেখানে এক রক্তক্ষয়ী গেরিলা যুদ্ধের সূচনা হয়। তবে ইরাকের মারণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য আগ্রাসন চালিয়ে ইরাক দখল করা হলেও শেষ পর্যন্ত ইরাকে কোনো মারণাস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায় নি।
১৯৭১ সালের এ দিনে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বহুল বির্তকিত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কোনো পক্ষই আর তা নবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে নি।
১৯৭১ সালের এ দিনে ভূমিকম্প এবং তার পরবর্তী নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেমন ভূমিধস, বন্যা প্রভৃতি কারণে পেরুর একটি শহর পরিপূর্ণ ভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। চুনগার নামের এ শহরটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে অন্তত ৬০০ অধিবাসীর মৃত্যু হয়। সাগর পৃষ্টের ১০ হাজার ফুট উপর অবস্থিত এ শহরটি রাজধানী লিমা থেকে ৫৫ মাইল উত্তরে অবস্থিত ছিলো।
- ৬ জন অভিভাবকের অধীনে মার্গারেট স্কটল্যান্ডের রানী হিসেবে অভিষিক্ত (১২৮৬)
- রাশিয়া-তুরস্কের যুদ্ধ ঘোষণা (১৭১১)
- স্পেনের রাজা চতুর্থ চার্লসের ক্ষমতা ত্যাগ (১৮০৮)
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের ভারতবর্ষ ত্যাগ (১৮৩৮)
- উত্তর-পূর্ব ভারতে আজাদ হিন্দ ফৌজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন (১৯৪৪)
- জার্মান সৈন্যদের হাঙ্গেরী দখল (১৯৪৪ বাংলাদেশ-ভারত ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন (১৯৭২)
- মিশর-ইসরাইল শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর (১৯৭৯)
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















