ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিদেশের মাটিতে চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটি স্থাপন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করল চীন। আফ্রিকা মহাদেশ ও পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে মঙ্গলবার জিবুতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সামরিক ঘাঁটি চালু করা হয়। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ দিনে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পতাকা উড়িয়ে ঘাঁটিটি উদ্বোধন করা হয়।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, তুরস্কের মত শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর বিদেশের মাটিতে সামরিক ঘাঁটি থাকলেও সে দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল চীন। এবার তাদের কাতারেও পা রাখল দেশটি। কৌশলগত অবস্থানের কারণে জিবুতিকে বেছে নিল বেইজিং। লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশদ্বারের কাছেই জিবুতির অবস্থান। দেশটিতে অবশ্য আমেরিকা, জাপান ও ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের নৌবাহিনীর উপ-কমান্ডার তিয়ান ঝং এবং জিবুতির প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ তিনশোরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে। ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত জিবুতিতে চীনের এই সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছে ভারত। ভারতের আশঙ্কা, এই নৌঘাঁটিকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করবে চীন, যা ভারতের স্বার্থের জন্য অনুকূল নয়। উল্লেখ্য, জিবুতির অবস্থান ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে। নয়াদিল্লি মনে করে, বাংলাদেশ, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে চীনের সামরিক ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার যে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ বা মুক্তোর মালা নামে পরিচিত পরিকল্পনা আছে, জিবুতি হবে চীনের নতুন আরও এক ‘স্ট্রিং অব পার্লস’।

তবে বেইজিং বলছে, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিরক্ষা ও মানবিক সাহায্য প্রদানে চীনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এই অঞ্চলের সামরিক সহযোগিতা, নৌবাহিনী এবং উদ্ধার অভিযানেও অংশ নেবে চীনের সেনারা। চীনের সরকারনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘চীনের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যেই দেশের সামরিক উন্নয়ন অপরিহার্য। এটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে নয়।’

সম্প্রতি আফ্রিকায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্রুত সামরিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে কাজে এগিয়ে এসেছে চীন। ২০১৫ সালে আফ্রিকার দেশগুলির এক সম্মেলনে আফ্রিকার উন্নয়নে ছ’হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করে চীন। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে নিজের প্রভাব বাড়াত চীনের তৎপড়তা লক্ষ করা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বিদেশের মাটিতে চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটি স্থাপন

আপডেট সময় ০৬:৩৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করল চীন। আফ্রিকা মহাদেশ ও পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে মঙ্গলবার জিবুতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সামরিক ঘাঁটি চালু করা হয়। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ দিনে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পতাকা উড়িয়ে ঘাঁটিটি উদ্বোধন করা হয়।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, তুরস্কের মত শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর বিদেশের মাটিতে সামরিক ঘাঁটি থাকলেও সে দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল চীন। এবার তাদের কাতারেও পা রাখল দেশটি। কৌশলগত অবস্থানের কারণে জিবুতিকে বেছে নিল বেইজিং। লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশদ্বারের কাছেই জিবুতির অবস্থান। দেশটিতে অবশ্য আমেরিকা, জাপান ও ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের নৌবাহিনীর উপ-কমান্ডার তিয়ান ঝং এবং জিবুতির প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ তিনশোরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে। ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত জিবুতিতে চীনের এই সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছে ভারত। ভারতের আশঙ্কা, এই নৌঘাঁটিকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করবে চীন, যা ভারতের স্বার্থের জন্য অনুকূল নয়। উল্লেখ্য, জিবুতির অবস্থান ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে। নয়াদিল্লি মনে করে, বাংলাদেশ, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে চীনের সামরিক ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার যে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ বা মুক্তোর মালা নামে পরিচিত পরিকল্পনা আছে, জিবুতি হবে চীনের নতুন আরও এক ‘স্ট্রিং অব পার্লস’।

তবে বেইজিং বলছে, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিরক্ষা ও মানবিক সাহায্য প্রদানে চীনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এই অঞ্চলের সামরিক সহযোগিতা, নৌবাহিনী এবং উদ্ধার অভিযানেও অংশ নেবে চীনের সেনারা। চীনের সরকারনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘চীনের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যেই দেশের সামরিক উন্নয়ন অপরিহার্য। এটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে নয়।’

সম্প্রতি আফ্রিকায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্রুত সামরিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে কাজে এগিয়ে এসেছে চীন। ২০১৫ সালে আফ্রিকার দেশগুলির এক সম্মেলনে আফ্রিকার উন্নয়নে ছ’হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করে চীন। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে নিজের প্রভাব বাড়াত চীনের তৎপড়তা লক্ষ করা যায়।