ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পাইলটের ভুলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়: নেপাল কর্তৃপক্ষ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাইলটের দিক ভুলের কারণে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে নেপালগামী ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য কাঠমন্ডু পোস্ট।

রাজ কুমার ছেত্রি বলেন, বিমানটি যখন নয় নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে দক্ষিণ (০২) রানওয়েতে নামার অনুমতি দেয়। কিন্তু পাইলটি বিমানটিকে উত্তর (০২) রানওয়ের দিকে নিয়ে যায়। তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোনো সমস্যা আছে কি না। এর জবাবে পাইলট জানিয়েছিলেন, কোনো সমস্যা নেই। অবতরণের আগে দুবার আকাশে চক্কর দেয় বিমানটি। আবার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, সবকিছু কি ঠিক আছে? জবাবে পাইলট জানান, ঠিক আছে। এরপর অবতরণে অসংগতি দেখে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিমানটি ঠিকভাবে অবতরণ করছে না। কিন্তু এ কথার কোনো জবাব পাইলটের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। এরপর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএস-বাংলার বিমানটি বিমানবন্দরে পার্ক করা থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানের লেজের সঙ্গে প্রায় লেগেই যাচ্ছিল।

মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রি বলেন, অবতরণের সময় যথাযথ নির্দেশনায় থাকা উচিত ছিল বিমানটির। কিন্তু বিমানটি কোনো কারণে ওই নির্দেশনায় ছিল না। একপর্যায়ে বিমানটি বিমানবন্দরের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে ও সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫১মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমানটি নেপালের উদ্দেশে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় বিমানের ৫০ জন আরোহী নিহত হয়। হাসপাতালে আছেন ১৬ জন এবং নিখোঁজ অন্য আরোহীরা।

বিমানটির দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আর্নিকো পান্ডে নামের একজন নেপালের মাই রিপাবলিকিয়াকে জানান, বিমানটি খুব আস্তে উড়ছিল। বিমানটি টার্মিনালের দক্ষিণ দিকে ঘোরার চেষ্টা করছে আর তখনই এটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। এ সময় বিমান থেকে ধোয়ার কুণ্ডুলি উড়তে দেখা যায়।

নেপালের পর্যটনমন্ত্রী সুরেশ আচার্যকে উদ্ধৃত করে কাঠমন্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে ১৭ জন যাত্রীকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুর জানান, বিমানটি অবতরণ করার সময় এর গায়ে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানটি বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাইলটের ভুলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়: নেপাল কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় ০৫:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাইলটের দিক ভুলের কারণে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে নেপালগামী ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য কাঠমন্ডু পোস্ট।

রাজ কুমার ছেত্রি বলেন, বিমানটি যখন নয় নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে দক্ষিণ (০২) রানওয়েতে নামার অনুমতি দেয়। কিন্তু পাইলটি বিমানটিকে উত্তর (০২) রানওয়ের দিকে নিয়ে যায়। তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোনো সমস্যা আছে কি না। এর জবাবে পাইলট জানিয়েছিলেন, কোনো সমস্যা নেই। অবতরণের আগে দুবার আকাশে চক্কর দেয় বিমানটি। আবার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, সবকিছু কি ঠিক আছে? জবাবে পাইলট জানান, ঠিক আছে। এরপর অবতরণে অসংগতি দেখে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিমানটি ঠিকভাবে অবতরণ করছে না। কিন্তু এ কথার কোনো জবাব পাইলটের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। এরপর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএস-বাংলার বিমানটি বিমানবন্দরে পার্ক করা থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানের লেজের সঙ্গে প্রায় লেগেই যাচ্ছিল।

মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রি বলেন, অবতরণের সময় যথাযথ নির্দেশনায় থাকা উচিত ছিল বিমানটির। কিন্তু বিমানটি কোনো কারণে ওই নির্দেশনায় ছিল না। একপর্যায়ে বিমানটি বিমানবন্দরের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে ও সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫১মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমানটি নেপালের উদ্দেশে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় বিমানের ৫০ জন আরোহী নিহত হয়। হাসপাতালে আছেন ১৬ জন এবং নিখোঁজ অন্য আরোহীরা।

বিমানটির দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আর্নিকো পান্ডে নামের একজন নেপালের মাই রিপাবলিকিয়াকে জানান, বিমানটি খুব আস্তে উড়ছিল। বিমানটি টার্মিনালের দক্ষিণ দিকে ঘোরার চেষ্টা করছে আর তখনই এটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। এ সময় বিমান থেকে ধোয়ার কুণ্ডুলি উড়তে দেখা যায়।

নেপালের পর্যটনমন্ত্রী সুরেশ আচার্যকে উদ্ধৃত করে কাঠমন্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে ১৭ জন যাত্রীকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুর জানান, বিমানটি অবতরণ করার সময় এর গায়ে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানটি বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।