ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

বিমানে ত্রুটি নয়, দায়ী ত্রিভুবনের ভুল সংকেত: ইউএস বাংলা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নেপালী কর্তৃপক্ষ পাইলটদের দায়ী করলেও বিমান পরিচালনাকারী ইউএস বাংলা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেছে নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরের ভুল সংকেতকে।

ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফের দাবি, নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কট্রোল টাওয়ারের (এটিসি) থেকে তাদের পাইলটকে ভুল সংকেত দেয়া হয়েছে। ফলে কোথায় অবতরণ করতে হবে, সেটি তারা বুঝতে পারেননি।

নেপালের স্থানীয় সময় বেলা দুইটা ২০ মিনিটের দিকে মোট ৭১ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এটি পর্যালোচনার পর দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে। তবে এরই মধ্যে দুর্ঘটনার জন্য নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাইলটের ভুলকে দায়ী করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছে।

বিমানটি অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বলে নেপাল বিমান সংস্থাটির মহাপরিচালক সঞ্জিব গৌতম বলেন, ‘রানওয়ের দক্ষিণ দিক থেকে বিমানটি অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটি উত্তর দিক দিয়ে অবতরণ করে।’

তবে সন্ধ্যায় বাংলাদেশে রাজধানীর বারিধারায় ইউএসবাংলার করপোরেট কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উল্টো দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ।

ইউএস বাংলার সিইও বলেন, ‘এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কট্রোল টাওয়ার) আমাদের পাইলটদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। ফলে কোথায় বিমান অবতরণ করতে হবে, সেটি আমাদের পাইলটরা জানতে পারেননি।’

দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না দাবি করে ইমরান আসিফ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি যে, আমাদের পাইলট নয়, এটিসি টাওয়ারের অবহেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

‘বিমান বিধ্বংন্ত হওয়ার পূর্বেই ক্যাপ্টেন আবিদের সাথে কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টর এটিসির সাথে যে কথাপোকথন হয়, সেটা ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকে আমাদের ক্যাপ্টেনের কাছে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। আমরা এটা ইনভেস্টিগেট করছি।’

নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরটি দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে পরিচিত। এই বিমানবন্দরে ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ হয়েছে।

জীবিত ১৬ জনের পরিচয়

দুর্ঘটনার পর যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৬ জন নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলেও জানান ইউএস বাংলা সিইও।

এরা হলেন: ইমরানা কবির হাসি, পিঞ্জি ধামী, সামিরা বেজাংকার, কবির হোসেন, মেহেদী হাসান, রেজওয়ানা আব্দুল্লাহ, সোহারনা সাইয়িদা কামরুনন্নাহার, শাহরিন আহমেদ, শাহিন ব্যাপারী, কিশোর চিপাতী, হারি প্রসাদ সুবেদী, দায়রাম তামরাকার, কেশব পান্ডে, বাসন্ত বহুড়া, আশিশ রনজিত এবং বিনোদরাজ পডুয়াল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানে ত্রুটি নয়, দায়ী ত্রিভুবনের ভুল সংকেত: ইউএস বাংলা

আপডেট সময় ০৪:৩২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নেপালী কর্তৃপক্ষ পাইলটদের দায়ী করলেও বিমান পরিচালনাকারী ইউএস বাংলা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেছে নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরের ভুল সংকেতকে।

ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফের দাবি, নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কট্রোল টাওয়ারের (এটিসি) থেকে তাদের পাইলটকে ভুল সংকেত দেয়া হয়েছে। ফলে কোথায় অবতরণ করতে হবে, সেটি তারা বুঝতে পারেননি।

নেপালের স্থানীয় সময় বেলা দুইটা ২০ মিনিটের দিকে মোট ৭১ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এটি পর্যালোচনার পর দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে। তবে এরই মধ্যে দুর্ঘটনার জন্য নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাইলটের ভুলকে দায়ী করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছে।

বিমানটি অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বলে নেপাল বিমান সংস্থাটির মহাপরিচালক সঞ্জিব গৌতম বলেন, ‘রানওয়ের দক্ষিণ দিক থেকে বিমানটি অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটি উত্তর দিক দিয়ে অবতরণ করে।’

তবে সন্ধ্যায় বাংলাদেশে রাজধানীর বারিধারায় ইউএসবাংলার করপোরেট কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উল্টো দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ।

ইউএস বাংলার সিইও বলেন, ‘এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কট্রোল টাওয়ার) আমাদের পাইলটদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। ফলে কোথায় বিমান অবতরণ করতে হবে, সেটি আমাদের পাইলটরা জানতে পারেননি।’

দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না দাবি করে ইমরান আসিফ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি যে, আমাদের পাইলট নয়, এটিসি টাওয়ারের অবহেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

‘বিমান বিধ্বংন্ত হওয়ার পূর্বেই ক্যাপ্টেন আবিদের সাথে কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টর এটিসির সাথে যে কথাপোকথন হয়, সেটা ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকে আমাদের ক্যাপ্টেনের কাছে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। আমরা এটা ইনভেস্টিগেট করছি।’

নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরটি দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে পরিচিত। এই বিমানবন্দরে ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ হয়েছে।

জীবিত ১৬ জনের পরিচয়

দুর্ঘটনার পর যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৬ জন নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলেও জানান ইউএস বাংলা সিইও।

এরা হলেন: ইমরানা কবির হাসি, পিঞ্জি ধামী, সামিরা বেজাংকার, কবির হোসেন, মেহেদী হাসান, রেজওয়ানা আব্দুল্লাহ, সোহারনা সাইয়িদা কামরুনন্নাহার, শাহরিন আহমেদ, শাহিন ব্যাপারী, কিশোর চিপাতী, হারি প্রসাদ সুবেদী, দায়রাম তামরাকার, কেশব পান্ডে, বাসন্ত বহুড়া, আশিশ রনজিত এবং বিনোদরাজ পডুয়াল।