ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

বীর বিক্রম আবদুর রহমান আর নেই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৭১এর সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম হাবিলদার আবদুর রহমান (৮০) আর নেই। সোমবার সকালে বড়ধলিয়া তার নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান (ইন্না………..রাজিউন)।

বাদ আসর জগদীশপুর তেমুনিয়ায় জানাযা শেষে সিলেট সেনানিবাসের লে. আবরারের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের সেনাসদস্যরা তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মুহাম্মদ জাকারিয়া ও মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বড়ধলিয়া গ্রামে জামে মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আবদুর রহমান বীর বিক্রমের মৃত্যুতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মুর্শেদ খান, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা ক্যাপ্টেন (অব.) কাজী কবির উদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী পাঠান, ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মালেক মধু, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা নিজামুল হক রানা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীদাম দাশগুপ্ত প্রমুখ শোক ও মরহুম পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বীর বিক্রম আবদুর রহমান মাধবপুর উপজেলার বড়ধলিয়া গ্রামে ১৯৩৭ সালে ১২ মে জন্ম গ্রহণ করেন। ছয় ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ট। জগদীশপুর জেসি হাইস্কুলে অধ্যয়নকালে ১৯৫৮ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। চট্টগ্রাম সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লা সেনানিবাসে প্রথম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন।

১৯৬৫ সালে তিনি লাহুরের বিডিয়া সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ শেষে ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানে এসে যশোর সেনানিবাসে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তেলিয়াপাড়া বাঁশ বাড়িতে প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেন।

১৯৭১ সালের ৬ মে তেলিয়াপাড়া হেড কোয়াটারে আক্রমণ করে। ওই যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এসময় পাক সৈন্যরা ধরতে তাকে এগিয়ে আসেন। তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে কয়েকজন পাক সেনাকে হত্যা করে। এ অবস্থায় তার ওপর শত্রুপক্ষ গুলি বর্ষণ করে। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে একটি মেশিন গান দিয়ে পাক সৈন্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এতে প্রায় শতাধিক পাক সেনা নিহত হয়। পরে পাক বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৭ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে অবসরের পর জীবিকার তিনি সাতছড়ি চা বাগানে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ ভিত্তিতে প্রহরীর কাজ করতেন। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বীর বিক্রমের ভাতাভোগী হন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

বীর বিক্রম আবদুর রহমান আর নেই

আপডেট সময় ১২:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৭১এর সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম হাবিলদার আবদুর রহমান (৮০) আর নেই। সোমবার সকালে বড়ধলিয়া তার নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান (ইন্না………..রাজিউন)।

বাদ আসর জগদীশপুর তেমুনিয়ায় জানাযা শেষে সিলেট সেনানিবাসের লে. আবরারের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের সেনাসদস্যরা তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মুহাম্মদ জাকারিয়া ও মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বড়ধলিয়া গ্রামে জামে মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আবদুর রহমান বীর বিক্রমের মৃত্যুতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মুর্শেদ খান, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা ক্যাপ্টেন (অব.) কাজী কবির উদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী পাঠান, ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মালেক মধু, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা নিজামুল হক রানা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীদাম দাশগুপ্ত প্রমুখ শোক ও মরহুম পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বীর বিক্রম আবদুর রহমান মাধবপুর উপজেলার বড়ধলিয়া গ্রামে ১৯৩৭ সালে ১২ মে জন্ম গ্রহণ করেন। ছয় ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ট। জগদীশপুর জেসি হাইস্কুলে অধ্যয়নকালে ১৯৫৮ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। চট্টগ্রাম সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লা সেনানিবাসে প্রথম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন।

১৯৬৫ সালে তিনি লাহুরের বিডিয়া সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ শেষে ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানে এসে যশোর সেনানিবাসে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তেলিয়াপাড়া বাঁশ বাড়িতে প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেন।

১৯৭১ সালের ৬ মে তেলিয়াপাড়া হেড কোয়াটারে আক্রমণ করে। ওই যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এসময় পাক সৈন্যরা ধরতে তাকে এগিয়ে আসেন। তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে কয়েকজন পাক সেনাকে হত্যা করে। এ অবস্থায় তার ওপর শত্রুপক্ষ গুলি বর্ষণ করে। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে একটি মেশিন গান দিয়ে পাক সৈন্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এতে প্রায় শতাধিক পাক সেনা নিহত হয়। পরে পাক বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৭ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে অবসরের পর জীবিকার তিনি সাতছড়ি চা বাগানে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ ভিত্তিতে প্রহরীর কাজ করতেন। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বীর বিক্রমের ভাতাভোগী হন।