ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্বামী নিখোঁজ থাকলে কি স্ত্রী তালাক দিতে পারবেন?

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ে একটি পারিবারিক বন্ধন। এই বন্ধনকে জোড়ালো করতে দুই হাত এক করে নেয়া হয় সারা জীবন একসঙ্গে থাকার পণ। কিন্তু এই সংসার জীবন সবসময় সুখকর হয় না। কখনো কখনো এই সুখের সংসারে নেমে আসে তিক্ততার ছায়া। আর তখনই

আসে তালাকের প্রশ্ন।
তালাক কী ?

বর্তমান সময়ে বিয়ে বিচ্ছেদের হার অনেক বেশি। কিন্তু অনেকের এ বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় তারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর সময় বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে তাদের দেনমোহর ও ভরণ-পোষণ থেকে বঞ্চিত করা হয়। মুসলিম পারিবারিক আইনে বিয়ের মাধ্যমে স্থাপিত সম্পর্ককে আইনগত উপায়ে ভেঙে দেওয়াকে তালাক বা বিয়ে বিচ্ছেদ বলে।

কাবিননামার ১৮ নং কলামে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষমতা দেয়াকে তালাক-ই-তৌফিজ বলে। এই তালাক-ই-তৌফিজ এর ক্ষমতা দেয়া থাকলে স্ত্রী আদালতের আশ্রয় ছাড়াই স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। এছাড়া কোনো নারীর স্বামী দীর্ঘদিন যাবত নিখোঁজ থাকলে তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবেন।

এক্ষেত্রে স্বামীর মতোই স্ত্রী তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবেন। নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে।

নিম্নে লিখিত যেকোন উপায়ে একজন স্ত্রী তালাক সম্পন্ন করতে পারেন।

আদালত

একজন স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন।

কাবিননামার ১৮ নং কলামে

কাবিন নামার ১৮ নং কলামে বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ থাকলে, একজন স্ত্রী কারণবশতঃ বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন।

স্বামী-স্ত্রী সিদ্ধান্ত

স্বামী স্ত্রী যদি সিদ্ধান্ত নেন যে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাবেন। তবে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিবাবহ বিচ্ছেদ ঘটোতে পারেন।

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী একজন স্ত্রী যেসব কারণে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন।

স্বামী নিখোঁজ থাকলে

যদি চার বছর যাবৎ স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে বা কোন খোঁজ খবর না নিলে ও ২ বছর যাবৎ স্ত্রীর খোরপোষ প্রদানে অবহেলা বা ব্যর্থ হলে একজন নারী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারনেবন।

একাধিক বিয়ে

কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া একাধিক বিবাহ বন্ধনে অবদ্ধ হয় তবে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারবে।

৭ বছর কারাদণ্ড

কোনা অপরাধ সংঘটনের কারণে স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে একজন স্ত্রী তালাকের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আব্দুল্লাহ আবু (পিপি), হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্বামী নিখোঁজ থাকলে কি স্ত্রী তালাক দিতে পারবেন?

আপডেট সময় ০৭:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মার্চ ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ে একটি পারিবারিক বন্ধন। এই বন্ধনকে জোড়ালো করতে দুই হাত এক করে নেয়া হয় সারা জীবন একসঙ্গে থাকার পণ। কিন্তু এই সংসার জীবন সবসময় সুখকর হয় না। কখনো কখনো এই সুখের সংসারে নেমে আসে তিক্ততার ছায়া। আর তখনই

আসে তালাকের প্রশ্ন।
তালাক কী ?

বর্তমান সময়ে বিয়ে বিচ্ছেদের হার অনেক বেশি। কিন্তু অনেকের এ বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় তারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর সময় বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে তাদের দেনমোহর ও ভরণ-পোষণ থেকে বঞ্চিত করা হয়। মুসলিম পারিবারিক আইনে বিয়ের মাধ্যমে স্থাপিত সম্পর্ককে আইনগত উপায়ে ভেঙে দেওয়াকে তালাক বা বিয়ে বিচ্ছেদ বলে।

কাবিননামার ১৮ নং কলামে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষমতা দেয়াকে তালাক-ই-তৌফিজ বলে। এই তালাক-ই-তৌফিজ এর ক্ষমতা দেয়া থাকলে স্ত্রী আদালতের আশ্রয় ছাড়াই স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। এছাড়া কোনো নারীর স্বামী দীর্ঘদিন যাবত নিখোঁজ থাকলে তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবেন।

এক্ষেত্রে স্বামীর মতোই স্ত্রী তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবেন। নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে।

নিম্নে লিখিত যেকোন উপায়ে একজন স্ত্রী তালাক সম্পন্ন করতে পারেন।

আদালত

একজন স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন।

কাবিননামার ১৮ নং কলামে

কাবিন নামার ১৮ নং কলামে বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ থাকলে, একজন স্ত্রী কারণবশতঃ বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন।

স্বামী-স্ত্রী সিদ্ধান্ত

স্বামী স্ত্রী যদি সিদ্ধান্ত নেন যে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাবেন। তবে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিবাবহ বিচ্ছেদ ঘটোতে পারেন।

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী একজন স্ত্রী যেসব কারণে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন।

স্বামী নিখোঁজ থাকলে

যদি চার বছর যাবৎ স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে বা কোন খোঁজ খবর না নিলে ও ২ বছর যাবৎ স্ত্রীর খোরপোষ প্রদানে অবহেলা বা ব্যর্থ হলে একজন নারী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারনেবন।

একাধিক বিয়ে

কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া একাধিক বিবাহ বন্ধনে অবদ্ধ হয় তবে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারবে।

৭ বছর কারাদণ্ড

কোনা অপরাধ সংঘটনের কারণে স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে একজন স্ত্রী তালাকের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আব্দুল্লাহ আবু (পিপি), হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী।