অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে দেয়া রায়ের কপি পেতে বিলম্বের জন্য বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীদেরকে দায়ী করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের কপি না পাওয়ায় আপিল ও জামিন আবেদন করতে পারছেন না খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আর এই বিলম্বের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপকে দায়ী করছেন তারা।
তবে কামরুল বলেন, ‘রায় ঘোষণার সাথে সাথে সার্টিফাইড কপির জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো দরখাস্ত দেওয়া হয় নাই। তারা দরখাস্ত দিয়েছে দু-দিন পরে। অর্থাৎ অহেতুক তারা বিলম্ব করে রবিবারে তারা দরখাস্ত দিয়েছে।’ রায়ের সার্টিফাইড কপি অবশ্যই তারা পাবেন, আদালতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। সার্টিফাইড কপি টাইপ হবে তারপর তারা পাবেন। এখানে সরকারের কোনো বিষয় নাই, এটা আদালতের বিষয়।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। এই মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আরও অদক্ষতা দেখিয়েছেন বলে মনে করেন খাদ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘তারা ডিভিশন প্রাপ্তির বিষয়ে দরখাস্ত দিয়েছে দুদিন পর। এগুলোর কারণ, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এবং অহেতুক একটা ধুম্রজাল সৃষ্টির চেষ্টা।’
খালেদা জিয়াকে তার সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী সুযোগ সুবিধার কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে তাকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদাই দেয়া হয়নি আদালতের আদেশ না থাকায়।
কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি এবং বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়া কারাগারে অন্য কাউকে ডিভিশন বা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিতে হলে আদালতের নির্দেশ লাগে। অবশ্য তিন দিন পর রবিবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করেন এবং আদেশ পেয়ে সেদিন সন্ধ্যাতেই খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়।
খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে কামরুল বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন হবে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে। সেখানে কে আসলো কে আসলো না সেটা দেখা হবে না।’ খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, এটা তাদের ব্যাপার। সেসব নিয়ে সরকারের মাথা ঘামানোর সময় নেই।
‘তারেক লন্ডনে বসে ষডযন্ত্র করছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে। নির্বাচন বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু এই নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। বিএনপিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দলের মৃত্যুঘণ্টা না বাজাতে চাইলে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন।’
তবে আন্দোলনের নামে উচ্ছৃঙ্খলতা-বিশৃংঙ্খলা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন খাদ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘আন্দোলনের নামে কেউ যদি রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, সরকারের ক্ষতি করে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হচ্ছে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকদের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে বিএনপি উচ্ছৃঙ্খলতা করেছে বলেও অভিযোগ করেন কামরুল। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আলোচনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি মোবারক আলী শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















