অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কর্পোরেট সেক্টরকে সমাজের প্রতি আরো বেশি দায়বদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এবং জামিয়া হামদার্দ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘Changed Social Responsibility’ শীর্ষক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যায়ের সম্মানিত উপাচার্য ও PHD চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত ছিলেন। ড. আতিউর রহমান আরও বলেন, যদিও বাংলাদেশে ভারতের মত CSR সংক্রান্ত কোন নীতিমালা নেই, তবুও বাংলাদেশ ব্যাংক CSR এর প্রতি মনোযোগী হবার জন্য ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট দিক নিদের্শনা দিয়েছে। পরবর্তী সেশনে তাঁর “Contributions of CSR for financial Inclusion” শীর্ষক উপস্থাপনায় বিষয়টিকে আরোও ব্যাপকভাবে তুলে ধরেন। ড. আতিউর তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সামাজিক খাতে অর্থায়নের নীতিমালা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রম- এই উভয়ক্ষেত্র পরিচালনায় অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সার্বজনিন ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স ও আর্থিক সেবা প্রদানের বিষয়গুলোর ওপর ড. আতিউর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি এই বিষয়গুলো অর্জনে সরকারের সাথে বিভিন্ন বেসরকারি খাত, ব্যক্তিগত খাত তথা সাধারন মানুষের সমন্বয়ের দরকার বলে মত প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সিএসআর প্রক্রিয়ার যথাযথ বাস্তবায়ন বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে সম্পূর্ণ দারিদ্র্য দূরীকরণে ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে সরকারের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে। সামাজিক দায়বদ্ধতায় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সিএসআর-এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভূক্তির ধারণাটির লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক, তাদের সিএসআর নীতিমালার অংশ হিসেবে সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সমগ্র আর্থিক সেক্টরকে তাদের মোট মুনাফার একটি অংশ প্রদানের উৎসাহিত করেছে। তিনি আরও বলেন, আর্থিক বছর ২০১৫-তে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব সিএসআর তহবিল থেকে ৭০টি প্রকল্পে অনুদান প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ এর মত উন্নয়নশীল দেশগুলো টেকসই অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই উদ্ভাবন, চাহিদা এবং বিশ্বাসের একটি নৈতিক চক্র অনুসরণ করতে পারে। এর জন্য দরকার উদ্ভাবনী শক্তি, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে সংযোগ, আর্থিক সাক্ষরতা, ভোক্তা সুরক্ষা, এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন। অবশেষে, তিনি দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য এ অঞ্চলের জনগণের কথা মাথায় রেখে একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়নের উদাত্ত আহ্বান জানান। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদেশি ব্যাংকগুলির সুপরিকল্পিত নীতিমালা এই অঞ্চলের সিএসআর কর্মসূচির সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























