ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবিস্কারের সাথে তাল মিলিয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষার মান নিয়ে তোলা প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন এই মান কীভাবে নির্ধারণ হবে। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষায় নানা পরিবর্তন আনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

রবিবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত শিক্ষা সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। প্রাথমিকে প্রায় শতভাগ ছাত্র ভর্তির পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষায়ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছরের চেয়ে প্রায় আড়াই লাখ বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

গত কয়েক বছরে সবধরনের পরীক্ষায় পাসের হারও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। তবে শিক্ষাবিদ এবং সমালোচকরা দাবি করছেন, শিক্ষায় সংখ্যাগত অগ্রগতি যত হয়েছে, গুণগত মানের দিক থেকে তত অগ্রগতি হয়নি।

এসব সমালোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও অনেক অনেক সময় অনেকে বলেন, শিক্ষা মানসম্মত হচ্ছে না, শিক্ষা মানসম্মত হচ্ছে না। এটা কিন্তু এমন একটা বিষয়… শিক্ষার মানটা আপনি কীভাবে নির্ধারণ করবেন?’

‘কারণ, মান উন্নয়ন একটা ধারাবাহিক বিষয়। আজকে যেটা আপনার মনে হবে আধুনিক, কালকে কিন্তু আগামীতে ওটা পুরনো হয়ে যাবে।’

‘শিক্ষা যেহেতু একটা ধারাবাহিক বিষয়, কজেই সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার বিষয় বাছাই করতে হবে, নির্দিষ্ট করতে হবে এবং শিক্ষা প্রণয়ন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। কারণ আজকে যেটা আমাদের উন্নত বলে মনে হচ্ছে, আধুনিক ও সময়োচিত বলে বিবেচ্য হচ্ছে, সেটা … দেখা যাবে পাঁচ বছরের মধ্যেই সেটা পুরাতন হয়ে গেল।’

সারা বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিনিয়ন গবেষণা হচ্ছে, নতুন নতুন আবিস্কার হচ্ছে। এই নতুন নতুন আবিস্কারের সাথে তাল মিলিয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করতে হবে।’

‘কাজেই আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হলে এবং শিক্ষা দিতে হলে সেই বিষয়টা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিষয় এখন চলে এসেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্র সম্পদ আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যথেষ্ট কাজে লাগবে। কিন্তু এর ওপর গবেষণা বা কিছু করার কোনো বিষয় আমাদের আগে ছিল না। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সাবজেক্টটা দেয়া হয়েছে।’

‘সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট আমরা কক্সবাজারেও করে দিয়েছি, সেখানে আমরা একটা সি অ্যাকুরিয়ামও করব। সেখানে কেউ গবেষণা করতে পারবে অথবা কেউ যদি দেখতে চায়, সেটাও করবে।’

মেরিটাইমন বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয় করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রযুক্তি ‍ও কারিগরি শিক্ষার ওপর সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে দেখেছি কারিগরি শিক্ষায় এক শতাংশ ছেলে মেয়ে পড়ে, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী সংখ্যা কম ছিল।’

‘১৯৯৬ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেছি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে আমরা সেটা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবিস্কারের সাথে তাল মিলিয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৪৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষার মান নিয়ে তোলা প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন এই মান কীভাবে নির্ধারণ হবে। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষায় নানা পরিবর্তন আনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

রবিবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত শিক্ষা সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। প্রাথমিকে প্রায় শতভাগ ছাত্র ভর্তির পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষায়ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছরের চেয়ে প্রায় আড়াই লাখ বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

গত কয়েক বছরে সবধরনের পরীক্ষায় পাসের হারও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। তবে শিক্ষাবিদ এবং সমালোচকরা দাবি করছেন, শিক্ষায় সংখ্যাগত অগ্রগতি যত হয়েছে, গুণগত মানের দিক থেকে তত অগ্রগতি হয়নি।

এসব সমালোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও অনেক অনেক সময় অনেকে বলেন, শিক্ষা মানসম্মত হচ্ছে না, শিক্ষা মানসম্মত হচ্ছে না। এটা কিন্তু এমন একটা বিষয়… শিক্ষার মানটা আপনি কীভাবে নির্ধারণ করবেন?’

‘কারণ, মান উন্নয়ন একটা ধারাবাহিক বিষয়। আজকে যেটা আপনার মনে হবে আধুনিক, কালকে কিন্তু আগামীতে ওটা পুরনো হয়ে যাবে।’

‘শিক্ষা যেহেতু একটা ধারাবাহিক বিষয়, কজেই সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার বিষয় বাছাই করতে হবে, নির্দিষ্ট করতে হবে এবং শিক্ষা প্রণয়ন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। কারণ আজকে যেটা আমাদের উন্নত বলে মনে হচ্ছে, আধুনিক ও সময়োচিত বলে বিবেচ্য হচ্ছে, সেটা … দেখা যাবে পাঁচ বছরের মধ্যেই সেটা পুরাতন হয়ে গেল।’

সারা বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিনিয়ন গবেষণা হচ্ছে, নতুন নতুন আবিস্কার হচ্ছে। এই নতুন নতুন আবিস্কারের সাথে তাল মিলিয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করতে হবে।’

‘কাজেই আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হলে এবং শিক্ষা দিতে হলে সেই বিষয়টা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিষয় এখন চলে এসেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্র সম্পদ আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যথেষ্ট কাজে লাগবে। কিন্তু এর ওপর গবেষণা বা কিছু করার কোনো বিষয় আমাদের আগে ছিল না। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সাবজেক্টটা দেয়া হয়েছে।’

‘সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট আমরা কক্সবাজারেও করে দিয়েছি, সেখানে আমরা একটা সি অ্যাকুরিয়ামও করব। সেখানে কেউ গবেষণা করতে পারবে অথবা কেউ যদি দেখতে চায়, সেটাও করবে।’

মেরিটাইমন বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয় করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রযুক্তি ‍ও কারিগরি শিক্ষার ওপর সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে দেখেছি কারিগরি শিক্ষায় এক শতাংশ ছেলে মেয়ে পড়ে, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী সংখ্যা কম ছিল।’

‘১৯৯৬ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেছি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে আমরা সেটা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি।’