ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

আমেরিকার স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ বাশার ৪০ বছর পর নিজ জন্মস্থানে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিজ জন্মস্থান পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এসেছেন আমেরিকা প্রবাসী রিপাবলিকান পার্টির সদস্য আবুল বাশার খান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক পরিচিত মুখ ভান্ডারিয়ার সন্তান আবুল বাশার। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি আমেরিকার নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়ে নির্বাচনে স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হয়েছেন।

টানা ৪০ বছরের প্রবাস জীবনে ২০০৬ সাল থেকে কয়েক দফা নির্বাচনে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ভোটে জিতে আসছেন। তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ারের সি ব্রুকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তিনি সেখানে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, জননিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া শহরের খান বাড়ির সন্তান আবুল বাশার খান গত রবিবার তার তিন প্রবাসী বন্ধুকে নিয়ে নিজের জন্মস্থান ভান্ডারিয়ায় আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আবুল বাশার খানকে দেখতে স্থানীয় মানুষ ভিড় করেন। তিনিও এলাকাবাসীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তার তিন প্রবাসী বন্ধু কুষ্টিয়ার শফিক খান, নোয়াখালীর সেলিম খান ও চট্টগ্রামের আবু কামাল আজাদকে নিয়ে সোমবার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার রাধানগর গ্রামের শিক্ষাপল্লী ও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বাড়িসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। ৪০ বছর প্রবাস জীবনের পর নিজ ভিটেমাটিতে ঘুরতে তিনি খুব আনন্দ পাচ্ছেন বলে জানান।

আমেরিকায় বসবাসরত দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক হিসেবে আবুল খানই প্রথম ব্যক্তি, যিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

ভান্ডারিয়া উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী খান বাড়ির মৃত মাহাবুব উদ্দিন খান কাঞ্চন ও শাহানারা বেগমের বড় ছেলে আবুল বাশার। তার বাবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ছিলেন।

আবুল খান জানান, ১৯৬০ সালের ১ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। তারা দুই ভাই দুই বোন। পরিবারের সবাই আমেরিক প্রবাসী। তবে ছোট বোন রোজী খান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি সবার বড়। আবুল খান ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি আমেরিকায় যান। এর আগে ঢাকার মুসলিম গভ. হাইস্কুল থেকে ১৯৭৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৭৮ সালে নটরডেম কলেজ হতে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে তিন বছর পড়ার পর স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা গিয়ে আর ফেরেননি। আমেরিকা বসবাসরত অবস্থায় ১৯৮৪ সালে নিজ জেলা পিরোজপুরের মরজিয়া হুদা খানকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির ঘরে ছেলে আতিক খান ও মেয়ে নূসরাত জাহানও আমেরিকা প্রবাসী।

আবুল বাশার খান আমেরিকা যাবার পর নিউইয়র্ক শহরে প্রথমে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার সিটির সি ব্রুক শহরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিনে নেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ছাড়া সেখানে একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল। ২০০৬ সালে তিনি সি ব্রুকে প্লানিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হন। চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে সেই তার প্রথম নির্বাচনে জয় লাভ করা। এরপর ২০০৬ সালে ওই শহরের বাজেট কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে সি ব্রুক বোর্ড অব সিলেক্টম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তৃতীয় দফায় নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০১১ সালে সি ব্রুকে তিনবছর মেয়াদে ওই পদে পুনরায় তিনি নির্বাচিত হয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টসহ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণে ভূমিকা রাখেন।

২০১২ সালের ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ারে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এ পদে তিনিই একমাত্র বাঙালি যিনি প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়েই এ নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ওই শহরের বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও এনার্জি বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।

২০১৪ সালেও তিনি ওই পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে ৫জন আমেরিকান প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে নিউ হ্যাম্পশায়ারে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ওই পদে থেকে সেখানে নগর উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

আমেরিকার স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ বাশার ৪০ বছর পর নিজ জন্মস্থানে

আপডেট সময় ০৯:১৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিজ জন্মস্থান পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এসেছেন আমেরিকা প্রবাসী রিপাবলিকান পার্টির সদস্য আবুল বাশার খান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক পরিচিত মুখ ভান্ডারিয়ার সন্তান আবুল বাশার। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি আমেরিকার নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়ে নির্বাচনে স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হয়েছেন।

টানা ৪০ বছরের প্রবাস জীবনে ২০০৬ সাল থেকে কয়েক দফা নির্বাচনে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ভোটে জিতে আসছেন। তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ারের সি ব্রুকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তিনি সেখানে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, জননিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া শহরের খান বাড়ির সন্তান আবুল বাশার খান গত রবিবার তার তিন প্রবাসী বন্ধুকে নিয়ে নিজের জন্মস্থান ভান্ডারিয়ায় আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আবুল বাশার খানকে দেখতে স্থানীয় মানুষ ভিড় করেন। তিনিও এলাকাবাসীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তার তিন প্রবাসী বন্ধু কুষ্টিয়ার শফিক খান, নোয়াখালীর সেলিম খান ও চট্টগ্রামের আবু কামাল আজাদকে নিয়ে সোমবার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার রাধানগর গ্রামের শিক্ষাপল্লী ও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বাড়িসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। ৪০ বছর প্রবাস জীবনের পর নিজ ভিটেমাটিতে ঘুরতে তিনি খুব আনন্দ পাচ্ছেন বলে জানান।

আমেরিকায় বসবাসরত দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক হিসেবে আবুল খানই প্রথম ব্যক্তি, যিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

ভান্ডারিয়া উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী খান বাড়ির মৃত মাহাবুব উদ্দিন খান কাঞ্চন ও শাহানারা বেগমের বড় ছেলে আবুল বাশার। তার বাবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ছিলেন।

আবুল খান জানান, ১৯৬০ সালের ১ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। তারা দুই ভাই দুই বোন। পরিবারের সবাই আমেরিক প্রবাসী। তবে ছোট বোন রোজী খান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি সবার বড়। আবুল খান ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি আমেরিকায় যান। এর আগে ঢাকার মুসলিম গভ. হাইস্কুল থেকে ১৯৭৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৭৮ সালে নটরডেম কলেজ হতে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে তিন বছর পড়ার পর স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা গিয়ে আর ফেরেননি। আমেরিকা বসবাসরত অবস্থায় ১৯৮৪ সালে নিজ জেলা পিরোজপুরের মরজিয়া হুদা খানকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির ঘরে ছেলে আতিক খান ও মেয়ে নূসরাত জাহানও আমেরিকা প্রবাসী।

আবুল বাশার খান আমেরিকা যাবার পর নিউইয়র্ক শহরে প্রথমে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার সিটির সি ব্রুক শহরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিনে নেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ছাড়া সেখানে একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল। ২০০৬ সালে তিনি সি ব্রুকে প্লানিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হন। চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে সেই তার প্রথম নির্বাচনে জয় লাভ করা। এরপর ২০০৬ সালে ওই শহরের বাজেট কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে সি ব্রুক বোর্ড অব সিলেক্টম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তৃতীয় দফায় নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০১১ সালে সি ব্রুকে তিনবছর মেয়াদে ওই পদে পুনরায় তিনি নির্বাচিত হয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টসহ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণে ভূমিকা রাখেন।

২০১২ সালের ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ারে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এ পদে তিনিই একমাত্র বাঙালি যিনি প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়েই এ নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ওই শহরের বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও এনার্জি বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।

২০১৪ সালেও তিনি ওই পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে ৫জন আমেরিকান প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে নিউ হ্যাম্পশায়ারে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ওই পদে থেকে সেখানে নগর উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।