ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আ.লীগ দুর্নীতি করে অর্থনীতির বেহাল দশা করে গেছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক নির্বাচনের আগে থেকেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে জামায়াত: মির্জা ফখরুল জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: সিটিটিসি জ্বালানির কারণে রফতানি কমেছে—এমন ধারণা ভুল: পাটমন্ত্রী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র রাউজানে টিলা কাটা নিয়ে বিরোধে বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) শেষার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়ানো হয়েছে এবং সরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমানো হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় এই মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আগের মুদ্রানীতিতে এটা ছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনের পঞ্চম তলার জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে নতুন এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির।

মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ফজলে কবির বলেন, ‘বেসরকারি খাতে অস্বাভাবিকভাবে ঋণের প্রবাহ বেড়ে যাওয়া, নির্বাচনের বছরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়া, আমদানির চাপ বেড়ে যাওয়াসহ বেশ কয়েকটি কারণে এ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

গভর্নর বলেন, ‘বেসরকারি খাতে অব্যাহতভাবে বাড়ছে ঋণ বিতরণ। বর্তমানে এই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশেরও বেশি। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আবার চাল, পেঁয়াজসহ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির হারও বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।’

ফজলে কবির বলেন, ‘বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডে প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে ঋণের যোগান সংকোচন না এনে লক্ষ্যমাত্রা ১৫ দশমিক আট শতাংশই রাখা হবে। ২০১৭-১৮ বছরেও এই লক্ষ্যমাত্রা একই ছিল।’

সেই সঙ্গে সুদহার নীতিতেও পরিবর্তন আনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো ও রিভার্স রেপোতে সুদের হার ছিল পর্যায়ক্রমে ৬ দশমিক ৭৫ ও ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে সুদের হারে পরিবর্তন আনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গভর্নর বলেন, ‘ আগামী জুন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি থাকার কথা ৫ দশমিক ৮ শতাংশের নিচে। কিন্তু এরই মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার অসহনীয় মাত্রায় রয়েছে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ; যা নভেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ৮৩ ভাগ। এ মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ; যা নভেম্বরেও ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।’

ঋণ কার্যরক্রমে কঠোর শৃঙ্খলা আরোপের কথা জানিয়ে কার্যক্রম হাতে নেয়ার ব্যাপারে গভর্নর বলেন, ‘আমরা চাই করপোরেট গ্রাহকদের মেয়াদী প্রকল্প বিনিয়োগ অর্থায়নের ব্যাংকগুলোর ওপর অতিনির্ভশীলতা কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে মূলধন বাজারে বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহে গ্রাহকদের উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক ঋণের অডি রেশিওর কথা জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, ‘রেশিও কমবে। তবে কতটা কমবে তা আমরা এখন জানাতে পারবো না। এটি নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে।’

কবে নাগাদ জানা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে রেশিওর কথা আপনাদের জানিয়ে দেব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কলেজছাত্রের বানানো গো-কার্ট চালালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উৎসাহ

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণা

আপডেট সময় ১১:২০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) শেষার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়ানো হয়েছে এবং সরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমানো হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় এই মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আগের মুদ্রানীতিতে এটা ছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনের পঞ্চম তলার জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে নতুন এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির।

মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ফজলে কবির বলেন, ‘বেসরকারি খাতে অস্বাভাবিকভাবে ঋণের প্রবাহ বেড়ে যাওয়া, নির্বাচনের বছরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়া, আমদানির চাপ বেড়ে যাওয়াসহ বেশ কয়েকটি কারণে এ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

গভর্নর বলেন, ‘বেসরকারি খাতে অব্যাহতভাবে বাড়ছে ঋণ বিতরণ। বর্তমানে এই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশেরও বেশি। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আবার চাল, পেঁয়াজসহ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির হারও বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।’

ফজলে কবির বলেন, ‘বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডে প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে ঋণের যোগান সংকোচন না এনে লক্ষ্যমাত্রা ১৫ দশমিক আট শতাংশই রাখা হবে। ২০১৭-১৮ বছরেও এই লক্ষ্যমাত্রা একই ছিল।’

সেই সঙ্গে সুদহার নীতিতেও পরিবর্তন আনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো ও রিভার্স রেপোতে সুদের হার ছিল পর্যায়ক্রমে ৬ দশমিক ৭৫ ও ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে সুদের হারে পরিবর্তন আনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গভর্নর বলেন, ‘ আগামী জুন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি থাকার কথা ৫ দশমিক ৮ শতাংশের নিচে। কিন্তু এরই মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার অসহনীয় মাত্রায় রয়েছে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ; যা নভেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ৮৩ ভাগ। এ মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ; যা নভেম্বরেও ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।’

ঋণ কার্যরক্রমে কঠোর শৃঙ্খলা আরোপের কথা জানিয়ে কার্যক্রম হাতে নেয়ার ব্যাপারে গভর্নর বলেন, ‘আমরা চাই করপোরেট গ্রাহকদের মেয়াদী প্রকল্প বিনিয়োগ অর্থায়নের ব্যাংকগুলোর ওপর অতিনির্ভশীলতা কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে মূলধন বাজারে বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহে গ্রাহকদের উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক ঋণের অডি রেশিওর কথা জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, ‘রেশিও কমবে। তবে কতটা কমবে তা আমরা এখন জানাতে পারবো না। এটি নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে।’

কবে নাগাদ জানা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে রেশিওর কথা আপনাদের জানিয়ে দেব।’