ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

শিগগিরই অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযান সৌদি আরবে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

অবৈধ শ্রমিক বা বিদেশীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ আর বাড়াবে না সৌদি আরব। এখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। ধরা পড়লেই ভোগ করতে হবে শাস্তি। এমন ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি আরবের পাসপোর্ট বিভাগের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সোলাইমান আল ইয়াহিয়া।

বুধবার স্থানীয় আল মদিনা পত্রিকাকে তিনি এসব কথা বলেন। তার ভাষায়, যারা আবাসিক ও শ্রম আইন লঙ্ঘন করে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন তাদেরকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চার মাসের সময় দেয়া হয়েছিল। এর মেয়াদ শুরু হয় মার্চের শেষের দিকে। পরে তা এক মাস বৃদ্ধি করা হয়। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে সোমবার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সৌদি গেজেট। এরই মধ্যে এ পত্রিকায়ই খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ৫০ হাজার বাংলাদেশী সৌদি আরব থেকে ফিরছেন। যারা সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেন নি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সোলাইমান আল ইয়াহিয়া। এর মধ্যে কোনো বাংলাদেশী আছেন কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তিনি বলেছেন, সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেন নি যেসব মানুষ তারা অবিবেচক। তারা আইনের প্রতি কোনো সম্মান দেখায় না। তাই তাদেরকে এখন শাস্তি ভোগ করতে হবে। স্বেচ্ছায় সৌদি আরব ছাড়া ও পরে যেকোনো সময় বৈধভাবে আবার সৌদি আরবে আসার জন্য সুযোগ রাখা হয়েছিল তাদের জন্য। এটা ছিল তাদের জন্য স্বর্ণালী সুযোগ।

সোলাইমান আল ইয়াহিয়ার মতে, এরই মধ্যে এ সুযোগ নিয়ে মোট ৬ লাখেরও বেশি অবৈধ শ্রমিক বা বিদেশী সৌদি আরব ছেড়েছেন। পরে তাদের মধ্য থেকে আবার নতুন কাজের ভিসা নিয়ে বৈধভাবে সৌদি আরবে ফিরে এসেছেন ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। যারা সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট রাখা হয় নি। ফলে সহজেই তারা বৈধভাবে আবার প্রবেশ করতে পারবেন সৌদি আরবে। সোলাইমান আল ইয়াহিয়া আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা সাধারণ ক্ষমার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও সৌদি আরবে অবস্থান করবেন তাদেরকে জরিমানা করা হবে এবং দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে।

শিগগিরই আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুরু হবে। এতে অংশ নেবে সরকারের ১৯টি বিভাগ। এরই মধ্যে বৈধ ইকামা আছে এমন অনেক শ্রমিক নিজেদের মতো কাজ করে যাচ্ছেন। তাদেরকে জেদ্দার বিভিন্ন সড়কে ও ব্রিজের নিচে দেখা যাচ্ছে। এসব মানুষের কেউ কেউ বলছেন, পরিণতি যা-ই হোক না কেন তারা সৌদি আরবেই থাকবেন। কারণ, দেশে ফিরে তাদের আয়ের কোনো পথ নেই। মদিনায় বসবাস করেন মোহাম্মদ আল সাঈদ নামে এক মিশরীয়। কিন্তু তিনি নিজে নিজেই কাজ জুটিয়ে নিয়েছেন জেদ্দায়। তার ভাষায়, আমি স্বেচ্ছায় সৌদি আরব ছাড়বো না। আমি সাধারণ ক্ষমার কথা শুনেছি। তবে তার ফলে যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে তাতে আমি ভীত নই। ইথিওপিয়ার নাম না জানা এক নাগরিক সৌদি আরবে ৭ বছর অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। এ সময়ে তাকে বেশ কয়েকবার বের করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু যতবারই তাকে বের করে দেয়া হয়েছে, তিনি ততবারই ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তার ভাষায়, আমার কাছে কোনো ইকামা নেই। তাই আমার হারানোরও কিছু নেই। যতক্ষণ পর্যন্তু ধরা পড়ি আর দেশে ফেরত পাঠানো না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সৌদি আরবেই থাকবো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

শিগগিরই অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযান সৌদি আরবে

আপডেট সময় ০৩:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

অবৈধ শ্রমিক বা বিদেশীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ আর বাড়াবে না সৌদি আরব। এখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। ধরা পড়লেই ভোগ করতে হবে শাস্তি। এমন ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি আরবের পাসপোর্ট বিভাগের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সোলাইমান আল ইয়াহিয়া।

বুধবার স্থানীয় আল মদিনা পত্রিকাকে তিনি এসব কথা বলেন। তার ভাষায়, যারা আবাসিক ও শ্রম আইন লঙ্ঘন করে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন তাদেরকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চার মাসের সময় দেয়া হয়েছিল। এর মেয়াদ শুরু হয় মার্চের শেষের দিকে। পরে তা এক মাস বৃদ্ধি করা হয়। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে সোমবার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সৌদি গেজেট। এরই মধ্যে এ পত্রিকায়ই খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ৫০ হাজার বাংলাদেশী সৌদি আরব থেকে ফিরছেন। যারা সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেন নি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সোলাইমান আল ইয়াহিয়া। এর মধ্যে কোনো বাংলাদেশী আছেন কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তিনি বলেছেন, সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেন নি যেসব মানুষ তারা অবিবেচক। তারা আইনের প্রতি কোনো সম্মান দেখায় না। তাই তাদেরকে এখন শাস্তি ভোগ করতে হবে। স্বেচ্ছায় সৌদি আরব ছাড়া ও পরে যেকোনো সময় বৈধভাবে আবার সৌদি আরবে আসার জন্য সুযোগ রাখা হয়েছিল তাদের জন্য। এটা ছিল তাদের জন্য স্বর্ণালী সুযোগ।

সোলাইমান আল ইয়াহিয়ার মতে, এরই মধ্যে এ সুযোগ নিয়ে মোট ৬ লাখেরও বেশি অবৈধ শ্রমিক বা বিদেশী সৌদি আরব ছেড়েছেন। পরে তাদের মধ্য থেকে আবার নতুন কাজের ভিসা নিয়ে বৈধভাবে সৌদি আরবে ফিরে এসেছেন ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। যারা সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট রাখা হয় নি। ফলে সহজেই তারা বৈধভাবে আবার প্রবেশ করতে পারবেন সৌদি আরবে। সোলাইমান আল ইয়াহিয়া আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা সাধারণ ক্ষমার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও সৌদি আরবে অবস্থান করবেন তাদেরকে জরিমানা করা হবে এবং দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে।

শিগগিরই আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুরু হবে। এতে অংশ নেবে সরকারের ১৯টি বিভাগ। এরই মধ্যে বৈধ ইকামা আছে এমন অনেক শ্রমিক নিজেদের মতো কাজ করে যাচ্ছেন। তাদেরকে জেদ্দার বিভিন্ন সড়কে ও ব্রিজের নিচে দেখা যাচ্ছে। এসব মানুষের কেউ কেউ বলছেন, পরিণতি যা-ই হোক না কেন তারা সৌদি আরবেই থাকবেন। কারণ, দেশে ফিরে তাদের আয়ের কোনো পথ নেই। মদিনায় বসবাস করেন মোহাম্মদ আল সাঈদ নামে এক মিশরীয়। কিন্তু তিনি নিজে নিজেই কাজ জুটিয়ে নিয়েছেন জেদ্দায়। তার ভাষায়, আমি স্বেচ্ছায় সৌদি আরব ছাড়বো না। আমি সাধারণ ক্ষমার কথা শুনেছি। তবে তার ফলে যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে তাতে আমি ভীত নই। ইথিওপিয়ার নাম না জানা এক নাগরিক সৌদি আরবে ৭ বছর অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। এ সময়ে তাকে বেশ কয়েকবার বের করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু যতবারই তাকে বের করে দেয়া হয়েছে, তিনি ততবারই ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তার ভাষায়, আমার কাছে কোনো ইকামা নেই। তাই আমার হারানোরও কিছু নেই। যতক্ষণ পর্যন্তু ধরা পড়ি আর দেশে ফেরত পাঠানো না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সৌদি আরবেই থাকবো।