ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

পাচার ঠেকাতে ইলিশ রফতানির সুযোগ দেবে সরকার: নারায়ণ চন্দ্র

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘পাচার ঠেকাতে’ ইলিশ রফতানির সুযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, আমরা রফতানির দিকে যেতে চাচ্ছি এই কারণেও যে আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সে জন্য আমরা কিছুটা রফতানি করতে চাই। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় সাড়ে পাঁচ বছর পর ইলিশ রফতানির বাধা কাটল। ২০১২ সালের ১ আগস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী থেকে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, আমরা রফতানির (ইলিশ) দিকেও যেতে চাইছি। এ কারণে যে আমাদের উৎপাদন হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। সে জন্য রফতানি করতে চাই। আর রফতানি না করলে অনেক সময় মাছ কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে চলে যায়। এতে রাজস্ব থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়। আমরা যদি রফতানি করি, তা হলে ওপেন পথটা করে দেওয়া যায়। গোপনে যাওয়ার পথটা তখন অনেকটা সংকুচিত হয়ে যায়।

রফতানি হলেও মা ইলিশ সংরক্ষণে গত কয়েক বছর ধরে সরকার যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ডিম ছাড়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি, জাটকা নিধন বন্ধ রাখার প্রকল্প চলবে। ইলিশ মাছের বিচরণ ক্ষেত্রগুলোও সংরক্ষিত রাখা হবে।

মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে। তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ দশমিক ৯৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টন।

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুধের ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিজ আমিষ, দুধ, ডিমসহ সব ক্ষেত্রে অতিদ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চাই।

মাংসের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কম। চেষ্টা করছি অন্যগুলো (মাংসের দাম) নিয়ন্ত্রণে আনতে। উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়। এই খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দাম কমবে। দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক গরু উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই বলে জানান প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

পাচার ঠেকাতে ইলিশ রফতানির সুযোগ দেবে সরকার: নারায়ণ চন্দ্র

আপডেট সময় ১০:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘পাচার ঠেকাতে’ ইলিশ রফতানির সুযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, আমরা রফতানির দিকে যেতে চাচ্ছি এই কারণেও যে আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সে জন্য আমরা কিছুটা রফতানি করতে চাই। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় সাড়ে পাঁচ বছর পর ইলিশ রফতানির বাধা কাটল। ২০১২ সালের ১ আগস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী থেকে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, আমরা রফতানির (ইলিশ) দিকেও যেতে চাইছি। এ কারণে যে আমাদের উৎপাদন হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। সে জন্য রফতানি করতে চাই। আর রফতানি না করলে অনেক সময় মাছ কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে চলে যায়। এতে রাজস্ব থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়। আমরা যদি রফতানি করি, তা হলে ওপেন পথটা করে দেওয়া যায়। গোপনে যাওয়ার পথটা তখন অনেকটা সংকুচিত হয়ে যায়।

রফতানি হলেও মা ইলিশ সংরক্ষণে গত কয়েক বছর ধরে সরকার যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ডিম ছাড়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি, জাটকা নিধন বন্ধ রাখার প্রকল্প চলবে। ইলিশ মাছের বিচরণ ক্ষেত্রগুলোও সংরক্ষিত রাখা হবে।

মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে। তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ দশমিক ৯৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টন।

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুধের ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিজ আমিষ, দুধ, ডিমসহ সব ক্ষেত্রে অতিদ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চাই।

মাংসের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কম। চেষ্টা করছি অন্যগুলো (মাংসের দাম) নিয়ন্ত্রণে আনতে। উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়। এই খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দাম কমবে। দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক গরু উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই বলে জানান প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ।