ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পাচার ঠেকাতে ইলিশ রফতানির সুযোগ দেবে সরকার: নারায়ণ চন্দ্র

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘পাচার ঠেকাতে’ ইলিশ রফতানির সুযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, আমরা রফতানির দিকে যেতে চাচ্ছি এই কারণেও যে আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সে জন্য আমরা কিছুটা রফতানি করতে চাই। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় সাড়ে পাঁচ বছর পর ইলিশ রফতানির বাধা কাটল। ২০১২ সালের ১ আগস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী থেকে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, আমরা রফতানির (ইলিশ) দিকেও যেতে চাইছি। এ কারণে যে আমাদের উৎপাদন হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। সে জন্য রফতানি করতে চাই। আর রফতানি না করলে অনেক সময় মাছ কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে চলে যায়। এতে রাজস্ব থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়। আমরা যদি রফতানি করি, তা হলে ওপেন পথটা করে দেওয়া যায়। গোপনে যাওয়ার পথটা তখন অনেকটা সংকুচিত হয়ে যায়।

রফতানি হলেও মা ইলিশ সংরক্ষণে গত কয়েক বছর ধরে সরকার যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ডিম ছাড়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি, জাটকা নিধন বন্ধ রাখার প্রকল্প চলবে। ইলিশ মাছের বিচরণ ক্ষেত্রগুলোও সংরক্ষিত রাখা হবে।

মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে। তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ দশমিক ৯৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টন।

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুধের ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিজ আমিষ, দুধ, ডিমসহ সব ক্ষেত্রে অতিদ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চাই।

মাংসের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কম। চেষ্টা করছি অন্যগুলো (মাংসের দাম) নিয়ন্ত্রণে আনতে। উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়। এই খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দাম কমবে। দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক গরু উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই বলে জানান প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাচার ঠেকাতে ইলিশ রফতানির সুযোগ দেবে সরকার: নারায়ণ চন্দ্র

আপডেট সময় ১০:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘পাচার ঠেকাতে’ ইলিশ রফতানির সুযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, আমরা রফতানির দিকে যেতে চাচ্ছি এই কারণেও যে আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সে জন্য আমরা কিছুটা রফতানি করতে চাই। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় সাড়ে পাঁচ বছর পর ইলিশ রফতানির বাধা কাটল। ২০১২ সালের ১ আগস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী থেকে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, আমরা রফতানির (ইলিশ) দিকেও যেতে চাইছি। এ কারণে যে আমাদের উৎপাদন হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। সে জন্য রফতানি করতে চাই। আর রফতানি না করলে অনেক সময় মাছ কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে চলে যায়। এতে রাজস্ব থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়। আমরা যদি রফতানি করি, তা হলে ওপেন পথটা করে দেওয়া যায়। গোপনে যাওয়ার পথটা তখন অনেকটা সংকুচিত হয়ে যায়।

রফতানি হলেও মা ইলিশ সংরক্ষণে গত কয়েক বছর ধরে সরকার যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ডিম ছাড়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি, জাটকা নিধন বন্ধ রাখার প্রকল্প চলবে। ইলিশ মাছের বিচরণ ক্ষেত্রগুলোও সংরক্ষিত রাখা হবে।

মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে। তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ দশমিক ৯৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টন।

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুধের ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিজ আমিষ, দুধ, ডিমসহ সব ক্ষেত্রে অতিদ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চাই।

মাংসের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কম। চেষ্টা করছি অন্যগুলো (মাংসের দাম) নিয়ন্ত্রণে আনতে। উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়। এই খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দাম কমবে। দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক গরু উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই বলে জানান প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ।