অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে শুক্রবার এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জনগণ যখন পুলিশকে বন্ধু ভাবতে পারবে, তখন তারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করবে। তাই জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যেতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সেবার মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ আরো গণমুখী ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে- দেশবাসীর এটাই প্রত্যাশা।’
পুলিশ সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে
আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তৎকালীন পুলিশের বীর সদস্যরা। তাঁরা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ১২৬২ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেন। রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার সূর্যসন্তান বীর পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা বিধানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ‘শৃঙ্খলা নিরাপত্তা প্রগতি’ মন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যেক সদস্য দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য ভূমিকা দেশেবিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। মাদকের বিস্তাররোধ ও সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধ দমনেও পুলিশ যথেষ্ঠ সফলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রেখে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশ সদস্যগণ তাদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়ে যাবেন।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুপরিচিত। জাতিসংঘের আওতায় পৃথিবীর যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা উঁচুমানের পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন, যা বাংলাদেশের গৌরব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পুলিশের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ আধুনিক পুলিশ বাহিনী গঠনে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ‘আমি আশা করি, এ সকল পদক্ষেপ বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করবে।’
তিনি পুলিশ সপ্তাহ ২০১৮ এর সকল আয়োজনের সফলতা কামনা করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















