অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ‘বম্ব সাইক্লোন’ হচ্ছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।এ ঘটনায় মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এর প্রভাব সবেচেয়ে বেশি পড়ছে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। শীতকালীন এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার বিমানের সিডিউল বাতিল করা হয়েছে। একই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব কানাডাতেও। দেশটির বোস্টন অঙ্গরাজ্যে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস হয়েছে।
‘বোম্ব সাইক্লোন’ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে সপ্তাহব্যাপী চলতে পারে বলে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছে শুক্র ও শনিবার দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। দেশটিতে প্রায় ৬০ মিলিয়ন মানুষ ঝড়ের মধ্যে পড়েছে।
বোস্টনে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ১৯২১ সালের পর এই জোয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে। নতুন বছরের প্রথম প্রহরে শুরু হাড় কাঁপানো শৈত্য প্রবাহের অবনতি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোরে। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার সঙ্গে যোগ হয় ৫০ থেকে ৬০ মাইল বেগে প্রবাহিত তুষার ঝড়, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘বোমা সাইক্লোন’ বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাউথ ক্যারলিনা, নর্থ ক্যারলিনা, উইসকনসিন, মিসৌরি, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ডিসি, পেনসিলভেনিয়া, ডেলাওয়্যার, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ভারমন্ট, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় দেড় কোটি বাসিন্দা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এক রকম গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তিন লাখের বেশি বাংলাদেশিও।
তীব্র ঠাণ্ডায় ১৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়ে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর মধ্যে উইসকনসিনে ছয়জন, টেক্সাসে চারজন নর্থ ক্যারোলিনায় তিনজন এবং মিসৌরি, মিশিগান ও নর্থ ডাকোটায় একজন করে মারা গেছেন।
এসব এলাকায় ১২ ইঞ্চি থেকে ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতের জাতীয় আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, এছাড়া বোস্টন ও লং আইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। গলে যাওয়া বরফের পানিতে ডুবে যায় বস্টনের রাস্তা।
দুর্যোগের কারণে নিউইয়র্ক, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, বাল্টিমোর, প্রভিডেন্স, রোড আইল্যান্ডসহ ১১টি শহরের সব স্কুলে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়। সরকারি অফিসে উপস্থিতির ওপর ছিল না কোনো বাধ্যকতা।
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ম্যাসেচুসেটস ও কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। লোকজনকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন রাজ্য গভর্নরেরা।
নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সির বিভিন্ন এয়ারপোর্টের দুই হাজার ফ্লাইটসহ বস্টন, ফিলাডেলফিয়া, ভার্জিনিয়া এলাকার চার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয় বলে জানান পোর্ট অথরিটির নির্বাহী পরিচালক রিক কটন।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড, ওজনপার্ক, পার্কচেস্টার, হাডসন, নিউজার্সির প্যাটারসন, আটলান্টিক সিটি, পেনাসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া, আপারডারবি, মিল বোর্ন সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকার সব দোকানপাট ছিল জনমানব শূন্য।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















