অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না বলে বিএনপিকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি জানিয়েছে, শুক্রবার সমাবেশ করতে চাইলে ঘরোয়া পরিবেশ করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে ডিএমপি কার্যালয় মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে দৈনিক আকাশকে একথা জানিয়েছেন বিএনপির প্রতিনিধি দলের একজন নেতা।
৫ জানুয়ারিকে বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে। তবে এখন পর্যন্ত কেবল ২০১৬ সালেই তারা রাজধানীতে সমাবেশ করতে পেরেছিল। এবারও এদিন সমাবেশ করতে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু তাদের বদলে উদ্যান বরাদ্দ দেয়া হয় একটি ধর্মভিত্তিক দলকে। এরপর বিএনপি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চায়। আর সমাবেশের জন্য ‘ব্যাপক প্রস্তুতি’ নেয়ার কথাও জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষিত সমাবেশের আগের দিন বিকালে বিএনপিকে চা চক্রের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ। দলের নেতারা ভেবেছিলেন তারা নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি পেতে যাচ্ছেন। তবে পুলিশ তাদেরকে সে অনুমতি দেয়নি বলে দৈনিক আকাশকে জানিয়েছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
পুলিশ কী জানিয়েছে-এমন প্রশ্নে এ্যানী বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে আমাদের সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। আমরা চাইলে যে কোনো দিন সমাবেশ করতে কোনো সমস্যা নেই বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সেটা ইনডোরে করতে হবে।’ বিএনপির প্রচার সম্পাদক জানান, বিএনপিকে এই মুহূর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে সমাবেশ করতে হলে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিএনপি বৈঠকে কী জানিয়েছে, এমন প্রশ্নে এ্যাণী বলেন, ‘এখন আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমপিকে জানানোর কথা বলে এসেছি।’ শুক্রবার নয়াপল্টনে সমাবেশ করার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না এমন প্রশ্নে এ্যানী বলেন, ‘আমরা নয়াপল্টনে সমাবেশ করার কথা বলেছিলাম। তবে রাস্তায় এই মুহূর্তে সমাবেশ না করতে ডিএমপি কমিশনার আমাদের অনুরোধ করেছেন।’
প্রতিনিধি দলে এ্যানী ছাড়াও আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আব্দুস সালাম ছিলেন। ৫ জানুয়ারিকে আওয়ামী লীগ পালন করে গণতন্ত্রের বিষয় দিবস হিসেবে। এদিক বিএনপি উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশের অনুমতি না পেলেও আওয়ামী লীগ ঢাকার দুটি এলাকায় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। এর একটি হবে বনানীর পূজা মাঠে, অপরটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। সমাবেশ শেষে বিজয় শোভাযাত্রার কর্মসূচিও আছে ক্ষমতাসীন দলটির।
২০১০ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংস কর্মসূচির মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর বর্জনের মুখে ভোটে জিতে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। অবশ্য এই নির্বাচনে দেড় শতাধিক প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















