অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী। উখিয়ার কুতুপালং এক নম্বর ব্লকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন মন্ত্রী। এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, ২২ জানুয়ারির মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি এবং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া নির্ধারণে সম্প্রতি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়েছে। ওই সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী কবে নাগাদ এই প্রক্রিয়া শুরু হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাননি।
তবে আজ সড়কমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক সুনির্দিষ্ট করে ২২ জানুয়ারির মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির কথা বললেন। গত শতকের আশির দশক থেকে নানা সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। তাদের আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে। তবে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে গত ২৫ আগস্টের পর।
ওবায়দুল কাদের জানান, গত চার মাসে সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগের রোহিঙ্গা শরণার্থী মিলিয়ে দেশে এখন তাদের সংখ্যা ১২ লাখ বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে সে দেশের সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ওই স্মারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কাজ করতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয় এবং গত ১৯ ডিসেম্বর সেটি গঠিত হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে ১৫ জন করে ৩০ জন কর্মকর্তা এই গ্রুপে রয়েছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কোন প্রক্রিয়ায় হবে, সেটি এই গ্রুপেরই নির্ধারণ করার কথা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা মনে করি রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত যাবে। এ জন্য প্রত্যাবাসন চুক্তি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে।’
সড়কমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়েছেন, এখনো তা অব্যাহত রেখেছেন, যার ফলে বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। আর ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই সহায়তা চালু থাকবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে সড়কমন্ত্রীর কথা বলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ ফারুখ, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, কক্সবাজার আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, উখিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
এরপর উখিয়া সদর পাতাবাড়িতে বৌদ্ধদের রেবতপ্রিয় মহাথের-এর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও মহাসম্মেলনে যোগ দেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























