ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ : আলী রীয়াজ ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি জনগণই স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

রাজশাহীতে শিশু হত্যায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর একটি শিশু হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও এক আসামিকে অমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ি ডাইংপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মাজেদুর রহমান ওরফে সাগর (১৯), আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রিপন সরকার ওরফে লিটন (২৫) এবং হযরত আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৫)। অমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আসিনুর বেগম (৩০)। তিনি আসামি সাগরের সৎ মা। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসিনুর বেগমকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ মামলায় সাগরের বাবা আবুল কাশেমসহ আরও দুজন আসামি ছিলেন। আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তারা হলেন- একই গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩০) এবং আবদুল হাকিমের ছেলে মো. সাহাবুদ্দিন (২৪)।

আদালতের বিশেষ পিপি এন্তাজুল হক বাবু এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর বেড়াবাড়ি ডাইংপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ফজলে হোসেন ওরফে রাব্বিকে (১০) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। মামলার ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর আসামি নাজমুল ও রিপন শিশু রাব্বিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য সাগরের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাগর ওই শিশুকে ডেকে নিয়ে যান। সাগরের বাড়ির পাশে আসামি নাজমুল ও রিপন আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন।

সেখানে রাব্বিকে নিয়ে যাওয়া হলে রিপন ও নাজমুল রাব্বিকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় রাব্বির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। কেটে নেয়া হয় দুই হাত এবং জিহ্বাও। এরপর তার লাশ বিলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে একটি নালার ভেতর রেখে মাটিচাপা দেয়া হয়।

এ ঘটনার পরদিন ছেলে নিখোঁজ থাকার ব্যাপারে আবুল হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ওই দিনই বিকেলে সাহাবুদ্দিন আবুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে জানান, রাব্বি নিখোঁজ থাকার ব্যাপারে কেউ একজন মুঠোফোনে তার সঙ্গে কথা বলবেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোনটি ধরলে তাকে জানানো হয়, রাব্বি তাদের হেফাজতে আছে। তাকে ফেরত পেতে হলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।

কথা বলার সময় ফোনের ওপাশের ওই ব্যক্তির কথা রেকর্ড করা হয়। এরপর তা শুনে গ্রামবাসী ধারণা করেন, কণ্ঠটি গ্রামের আমিনুলের। যোগাযোগের স্বার্থে সাহাবুদ্দিনের মুঠোফোনটি ওই সময় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছেই রাখা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থানায় একটি অপহরণের মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, যে মুঠোফোন থেকে কল দিয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে সে ফোনে অন্য একটি সিম ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর পুলিশ সাহাবুদ্দিনের মুঠোফোন থেকেই ওই নম্বরটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে দেখা যায়, সাহাবুদ্দিনের ফোনে ‘আসিনুর কাকি’ নামে নম্বরটি সেভ করা আছে।

এরপর পুলিশ আসিনুরের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় মুঠোফোন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আসিনুর, তার স্বামী কাশেম এবং ছেলে সাগরকে গ্রেপ্তারও করা হয়। পরদিন সাগর হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ পরে রিপন ও নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে। ফোনে কথা বলেছেন, এমন সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় আমিনুলকেও।

এরপর ২৬ ডিসেম্বর শিশু রাব্বির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসিনুর বেগমও আদালতে জবানবন্দি দেন। তিনি তার জবানবন্দিতে বলেন, বাড়ির পাশে হত্যার সময় রাব্বির চিৎকার তিনি শুনেছিলেন। ঘটনাটি বুঝতেও পেরেছিলেন। কিন্তু আসামি নাজমুল ও রিপন তাকে হুমকি দিয়েছেলিনে যে, ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে এবং তার স্বামীকেও হত্যা করা হবে। তাই তিনি কারও কাছে ঘটনা প্রকাশ করেননি।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেছেন, ঘটনা জেনেও প্রকাশ না করাটিও অপরাধ। আসিনুর বেগম এ অপরাধই করেছেন। এ জন্য তাকে অমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হলো। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই তাদের সাজা দেয়া হয়েছে।

আদালত আরও বলেছেন, সাহাবুদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন করে আসামিরা আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এতে সাহাবুদ্দিনের কোনো অপরাধ পাওয়া যায়নি। তাই তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। আর আমিনুলের কণ্ঠ ও রেকর্ড করা কণ্ঠ কোনো বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়নি। শুধু কয়েকজন মানুষের ধারণার ভিত্তিতে কাউকে সনাক্ত করা যায় না। অন্য আসামিরা তার সংশ্লিষ্টতার কথাও বলেননি। তাই তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছে আবুল কাশেমকেও।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্রে এই সাতজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় তারা সবাই আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে দণ্ডপ্রাপ্তদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এক মাসের মধ্যে তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ : আলী রীয়াজ

রাজশাহীতে শিশু হত্যায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ১০:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর একটি শিশু হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও এক আসামিকে অমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ি ডাইংপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মাজেদুর রহমান ওরফে সাগর (১৯), আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রিপন সরকার ওরফে লিটন (২৫) এবং হযরত আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৫)। অমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আসিনুর বেগম (৩০)। তিনি আসামি সাগরের সৎ মা। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসিনুর বেগমকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ মামলায় সাগরের বাবা আবুল কাশেমসহ আরও দুজন আসামি ছিলেন। আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তারা হলেন- একই গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩০) এবং আবদুল হাকিমের ছেলে মো. সাহাবুদ্দিন (২৪)।

আদালতের বিশেষ পিপি এন্তাজুল হক বাবু এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর বেড়াবাড়ি ডাইংপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ফজলে হোসেন ওরফে রাব্বিকে (১০) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। মামলার ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর আসামি নাজমুল ও রিপন শিশু রাব্বিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য সাগরের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাগর ওই শিশুকে ডেকে নিয়ে যান। সাগরের বাড়ির পাশে আসামি নাজমুল ও রিপন আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন।

সেখানে রাব্বিকে নিয়ে যাওয়া হলে রিপন ও নাজমুল রাব্বিকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় রাব্বির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। কেটে নেয়া হয় দুই হাত এবং জিহ্বাও। এরপর তার লাশ বিলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে একটি নালার ভেতর রেখে মাটিচাপা দেয়া হয়।

এ ঘটনার পরদিন ছেলে নিখোঁজ থাকার ব্যাপারে আবুল হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ওই দিনই বিকেলে সাহাবুদ্দিন আবুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে জানান, রাব্বি নিখোঁজ থাকার ব্যাপারে কেউ একজন মুঠোফোনে তার সঙ্গে কথা বলবেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোনটি ধরলে তাকে জানানো হয়, রাব্বি তাদের হেফাজতে আছে। তাকে ফেরত পেতে হলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।

কথা বলার সময় ফোনের ওপাশের ওই ব্যক্তির কথা রেকর্ড করা হয়। এরপর তা শুনে গ্রামবাসী ধারণা করেন, কণ্ঠটি গ্রামের আমিনুলের। যোগাযোগের স্বার্থে সাহাবুদ্দিনের মুঠোফোনটি ওই সময় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছেই রাখা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থানায় একটি অপহরণের মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, যে মুঠোফোন থেকে কল দিয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে সে ফোনে অন্য একটি সিম ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর পুলিশ সাহাবুদ্দিনের মুঠোফোন থেকেই ওই নম্বরটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে দেখা যায়, সাহাবুদ্দিনের ফোনে ‘আসিনুর কাকি’ নামে নম্বরটি সেভ করা আছে।

এরপর পুলিশ আসিনুরের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় মুঠোফোন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আসিনুর, তার স্বামী কাশেম এবং ছেলে সাগরকে গ্রেপ্তারও করা হয়। পরদিন সাগর হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ পরে রিপন ও নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে। ফোনে কথা বলেছেন, এমন সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় আমিনুলকেও।

এরপর ২৬ ডিসেম্বর শিশু রাব্বির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসিনুর বেগমও আদালতে জবানবন্দি দেন। তিনি তার জবানবন্দিতে বলেন, বাড়ির পাশে হত্যার সময় রাব্বির চিৎকার তিনি শুনেছিলেন। ঘটনাটি বুঝতেও পেরেছিলেন। কিন্তু আসামি নাজমুল ও রিপন তাকে হুমকি দিয়েছেলিনে যে, ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে এবং তার স্বামীকেও হত্যা করা হবে। তাই তিনি কারও কাছে ঘটনা প্রকাশ করেননি।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেছেন, ঘটনা জেনেও প্রকাশ না করাটিও অপরাধ। আসিনুর বেগম এ অপরাধই করেছেন। এ জন্য তাকে অমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হলো। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই তাদের সাজা দেয়া হয়েছে।

আদালত আরও বলেছেন, সাহাবুদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন করে আসামিরা আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এতে সাহাবুদ্দিনের কোনো অপরাধ পাওয়া যায়নি। তাই তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। আর আমিনুলের কণ্ঠ ও রেকর্ড করা কণ্ঠ কোনো বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়নি। শুধু কয়েকজন মানুষের ধারণার ভিত্তিতে কাউকে সনাক্ত করা যায় না। অন্য আসামিরা তার সংশ্লিষ্টতার কথাও বলেননি। তাই তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছে আবুল কাশেমকেও।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্রে এই সাতজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় তারা সবাই আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে দণ্ডপ্রাপ্তদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এক মাসের মধ্যে তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।