ঢাকা ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

স্ত্রীসহ এসপি সুভাসকে দুদকে তলব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাড়ে আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের এফডিআরের মামলায় পুলিশ সুপার (এসপি) সুভাস চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী রীণা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত আছেন। মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ সই করা চিঠিতে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে আগামী ১৩ ডিসেম্বর উপস্থিত হতে সম্প্রতি তাদের তলব করেছে দুদক।

স্থাবর-অস্থাবর মালিকানাসংক্রান্ত দলিলাদি, ব্যাংক হিসাবের শুরু থেকে হালনাগাদ বিবরণী, দায়-দেনা ও আয়ের উৎস সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সব ধরনের রেকর্ডপত্র সঙ্গে আনার জন্য বলেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। এর আগে ওয়ান ব্যাংকের ১৯টি এফডিআরে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সাড়ে প্রায় আট কোটি টাকা পাওয়ার অভিযোগে ফরিদপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) সুভাষ চন্দ্র সাহা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকার সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে গত অক্টোবরে বংশাল থানায় মামলাটি করেন।

২০১৩ সালের ২৬ মে থেকে ২০১৭ সালের ২২ মে পর্যন্ত সময়কালের হিসাব অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্য থেকে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘সুভাষ চন্দ্র সাহা পুলিশ বিভাগে চাকরিকালে বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তাঁর নিজ নামে ও স্ত্রী রীনা চৌধুরীর নামে একাধিক এফডিআর হিসাব খোলেন। তাঁরা যৌথ নামে ওয়ান ব্যাংকের ঢাকার বংশাল শাখায় ছয়টি, এলিফ্যান্ট রোড শাখায় একটি এবং যশোর শাখায় ১২টি এফডিআর হিসাবে অর্থ জমা করেন। তাঁদের ১৯টি এফডিআর হিসাবে বর্তমানে মোট স্থিতির পরিমাণ আট কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৭ টাকা। এই অর্থের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন রেখে আসামি সুভাষ চন্দ্র সাহা ও তাঁর স্ত্রী রীনা চৌধুরী মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ‘তাঁদের যৌথনামীয় এফডিআরগুলোর স্থিতি ও তা অর্জনের উৎসের বিষয়টি ২০১৬-২০১৭ করবর্ষ পর্যন্ত দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া ২০১৬-২০১৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরে খোলা এফডিআর হিসাবে জমাকৃত অর্থের সমপরিমাণ টাকা ২০১৬-২০১৭ করবর্ষে তাঁদের দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নে উদ্বৃত্ত ছিল না। অর্থাৎ তিনি পুলিশ বিভাগে চাকরিকালে বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত এই অর্থের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করেছেন। আর তাঁর স্ত্রী রীনা চৌধুরী তাঁর স্বামীর অপরাধ হতে অর্জিত অর্থ জেনেও স্বামীর সঙ্গে যৌথ নামে এফডিআর হিসাবে জমা রেখে এবং তা গোপন করে উক্ত অপরাধ সংগঠনে সহায়তা করেছেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রীসহ এসপি সুভাসকে দুদকে তলব

আপডেট সময় ১০:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাড়ে আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের এফডিআরের মামলায় পুলিশ সুপার (এসপি) সুভাস চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী রীণা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত আছেন। মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ সই করা চিঠিতে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে আগামী ১৩ ডিসেম্বর উপস্থিত হতে সম্প্রতি তাদের তলব করেছে দুদক।

স্থাবর-অস্থাবর মালিকানাসংক্রান্ত দলিলাদি, ব্যাংক হিসাবের শুরু থেকে হালনাগাদ বিবরণী, দায়-দেনা ও আয়ের উৎস সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সব ধরনের রেকর্ডপত্র সঙ্গে আনার জন্য বলেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। এর আগে ওয়ান ব্যাংকের ১৯টি এফডিআরে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সাড়ে প্রায় আট কোটি টাকা পাওয়ার অভিযোগে ফরিদপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) সুভাষ চন্দ্র সাহা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকার সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে গত অক্টোবরে বংশাল থানায় মামলাটি করেন।

২০১৩ সালের ২৬ মে থেকে ২০১৭ সালের ২২ মে পর্যন্ত সময়কালের হিসাব অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্য থেকে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘সুভাষ চন্দ্র সাহা পুলিশ বিভাগে চাকরিকালে বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তাঁর নিজ নামে ও স্ত্রী রীনা চৌধুরীর নামে একাধিক এফডিআর হিসাব খোলেন। তাঁরা যৌথ নামে ওয়ান ব্যাংকের ঢাকার বংশাল শাখায় ছয়টি, এলিফ্যান্ট রোড শাখায় একটি এবং যশোর শাখায় ১২টি এফডিআর হিসাবে অর্থ জমা করেন। তাঁদের ১৯টি এফডিআর হিসাবে বর্তমানে মোট স্থিতির পরিমাণ আট কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৭ টাকা। এই অর্থের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন রেখে আসামি সুভাষ চন্দ্র সাহা ও তাঁর স্ত্রী রীনা চৌধুরী মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ‘তাঁদের যৌথনামীয় এফডিআরগুলোর স্থিতি ও তা অর্জনের উৎসের বিষয়টি ২০১৬-২০১৭ করবর্ষ পর্যন্ত দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া ২০১৬-২০১৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরে খোলা এফডিআর হিসাবে জমাকৃত অর্থের সমপরিমাণ টাকা ২০১৬-২০১৭ করবর্ষে তাঁদের দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নে উদ্বৃত্ত ছিল না। অর্থাৎ তিনি পুলিশ বিভাগে চাকরিকালে বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত এই অর্থের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করেছেন। আর তাঁর স্ত্রী রীনা চৌধুরী তাঁর স্বামীর অপরাধ হতে অর্জিত অর্থ জেনেও স্বামীর সঙ্গে যৌথ নামে এফডিআর হিসাবে জমা রেখে এবং তা গোপন করে উক্ত অপরাধ সংগঠনে সহায়তা করেছেন।’