ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

ট্রাম্পের স্বীকৃতি অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন: সৌদি আরব

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিতর্কিত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা ‘অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি বাদশা সালমানের বক্তব্য এমন একটি সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি তেলআবিব থেকে নিজেদের দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কথাও ঘোষণা দিয়েছেন।

সৌদি রয়াল কোর্টের বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এটি জেরুজালেম প্রশ্নে ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার নিরপেক্ষ অবস্থানের ব্যত্যয়।’ ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘স্পষ্টতই এটা ইসরায়েলের প্রতি একটি পুরস্কার।’ আর এই স্বীকৃতি যে ফিলিস্তিনের ভূমি ক্রমাগত দখল করতে ইসরায়েলকে উৎসাহিত করবে, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ভাষণের মধ্য দিয়ে জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির পরিবর্তন ঘটল। যদিও একে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জেরুজালেম পবিত্র ভূমি হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের কাছেই গণ্য। এর দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দ্বন্দ্বও বহু পুরোনো।

ইসরায়েল সব সময়ই জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে, পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে বলে দেশটির নেতারা বলে আসছেন।

তবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে বেশ শঙ্কিত সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। এ বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী স্থানান্তর ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জর্ডান। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তুরস্কেরও।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্তটি কিন্তু বেশ পুরোনো। ১৯৯৫ সালেই মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদিত এক আইনে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সাবেক সব প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য স্বাক্ষর করেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একই পথে হেঁটেছিলেন ট্রাম্পও। তবে এবার বেঁকে বসেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস স্থানাস্তর বিলম্বের জন্য প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের শেষ দিন। আর এদিন স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরে ১৯৮০ সালে তারা পূর্ব জেরুজালেমকে অধিগ্রহণ করে নেয় এবং ইসরায়েলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই অঞ্চলকে দখলকৃত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

ট্রাম্পের স্বীকৃতি অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন: সৌদি আরব

আপডেট সময় ১২:২৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিতর্কিত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা ‘অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি বাদশা সালমানের বক্তব্য এমন একটি সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি তেলআবিব থেকে নিজেদের দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কথাও ঘোষণা দিয়েছেন।

সৌদি রয়াল কোর্টের বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এটি জেরুজালেম প্রশ্নে ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার নিরপেক্ষ অবস্থানের ব্যত্যয়।’ ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘স্পষ্টতই এটা ইসরায়েলের প্রতি একটি পুরস্কার।’ আর এই স্বীকৃতি যে ফিলিস্তিনের ভূমি ক্রমাগত দখল করতে ইসরায়েলকে উৎসাহিত করবে, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ভাষণের মধ্য দিয়ে জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির পরিবর্তন ঘটল। যদিও একে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জেরুজালেম পবিত্র ভূমি হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের কাছেই গণ্য। এর দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দ্বন্দ্বও বহু পুরোনো।

ইসরায়েল সব সময়ই জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে, পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে বলে দেশটির নেতারা বলে আসছেন।

তবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে বেশ শঙ্কিত সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। এ বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী স্থানান্তর ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জর্ডান। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তুরস্কেরও।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্তটি কিন্তু বেশ পুরোনো। ১৯৯৫ সালেই মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদিত এক আইনে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সাবেক সব প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য স্বাক্ষর করেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একই পথে হেঁটেছিলেন ট্রাম্পও। তবে এবার বেঁকে বসেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস স্থানাস্তর বিলম্বের জন্য প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের শেষ দিন। আর এদিন স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরে ১৯৮০ সালে তারা পূর্ব জেরুজালেমকে অধিগ্রহণ করে নেয় এবং ইসরায়েলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই অঞ্চলকে দখলকৃত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।