ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

নিজেকে দোষী মনে করেন না বাচ্চু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাষ্ট্রয়াত্ত্ব বেসিক ব্যাংক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে নিজের কোনো দোষ দেখছেন না ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু। দুর্নীতি দমন কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে দুইটা পর্যন্ত বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে আসেন তিনি।

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতে যেসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেসিক ব্যাংক থেকে বেনামি ঋণ নেয়ার ঘটনা। সাধারণত শিল্প সচিবরা এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতেন। তবে ২০০৯ সালে আবদুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেয় সরকার। আর ২০১২ সালে মেয়াদ আরও বাড়ানো হয় তার।

বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি ব্যাংকটি থেকে দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি টাকা ঋণ হিসেবে দেয়া হয়। কিন্তু তার প্রায় সবই খেলাপি হয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে সরকার টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

ঋণ কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন আবদুল হাই বাচ্চু। পরের বছর বাচ্চুকে বাদ দিয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ১৫৬ জনের জনের জনের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় বাচ্চুকে আসামি না করার সমালোচনা ছিল শুরু থেকেই। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একাধিকবার বলেছেন, তিন মনে করেন বাচ্চুকেও আসামি করা উচিত ছিল।

এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা জড়িত মর্মে হাইকোর্ট বেশ কয়েকবার পর্যবেক্ষণ দেয়। দুদকের পক্ষ থেকে যেসব মামলা করা হয়েছে সেই মামলায় চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা কেন আসামি নয় সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট। এরপরই ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ১০ পরিচালককে তলব করে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। গত ২২ নভেম্বর থেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ ছিল বাচ্চুর দিন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুদক কার্যালয়ে আসার পর এক দফা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাচ্চু। তবে তিনি খুব বেশি সময় দেননি গণমাধ্যম কর্মীদের। ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় আপনি নিজেকে দোষী মনে করেন কি না- এমন প্রশ্নে ‘না’ জবাব দিয়ে তিনি কার্যালয়ে ঢুকে যান।

দুদক পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল বেলা বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে কী প্রশ্ন করা হয়েছে এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবারও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাচ্চু। দুদক কী নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে। দুদক যে অভিযোগগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। প্রয়োজনবোধে আমি আরো সহযোগিতা করব। যেটুকু আমার সম্ভব, তার উত্তর দেওয়া হয়েছে।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। কাজেই এ বিষয়ে বলা খুব মুশকিল। তদন্ত চলছে দেখা যাক কী হয়।’

দুই হাজার কোটি টাকা লোপাট

বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা করে দুদক। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় মোট আসামি করা হয় ১৫৬ জনকে। মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়।

রাজধানীর গুলশান শাখার মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখার মাধ্যমে অনিয়ম করে ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কেলেঙ্কারির অভিযোগের বাকি অংশের অনুসন্ধান দুদকে চলমান। মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রযেছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকার ও ঋণ গ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন।

এর মধ্যে ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮টি মামলায়। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, গ্রেপ্তার হওয়া মো. সেলিম ৮টি, বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খান ৩৫টি মামলার আসামি।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আসামি না করার বিষয়ে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কোনো সম্পৃক্ততা দুদকের অনুসন্ধানে আসেনি। তবে তদন্তকালে যদি তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে জাড়িতদের পরবর্তীকালে আসামি করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজেকে দোষী মনে করেন না বাচ্চু

আপডেট সময় ১১:০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাষ্ট্রয়াত্ত্ব বেসিক ব্যাংক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে নিজের কোনো দোষ দেখছেন না ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু। দুর্নীতি দমন কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে দুইটা পর্যন্ত বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে আসেন তিনি।

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতে যেসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেসিক ব্যাংক থেকে বেনামি ঋণ নেয়ার ঘটনা। সাধারণত শিল্প সচিবরা এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতেন। তবে ২০০৯ সালে আবদুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেয় সরকার। আর ২০১২ সালে মেয়াদ আরও বাড়ানো হয় তার।

বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি ব্যাংকটি থেকে দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি টাকা ঋণ হিসেবে দেয়া হয়। কিন্তু তার প্রায় সবই খেলাপি হয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে সরকার টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

ঋণ কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন আবদুল হাই বাচ্চু। পরের বছর বাচ্চুকে বাদ দিয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ১৫৬ জনের জনের জনের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় বাচ্চুকে আসামি না করার সমালোচনা ছিল শুরু থেকেই। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একাধিকবার বলেছেন, তিন মনে করেন বাচ্চুকেও আসামি করা উচিত ছিল।

এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা জড়িত মর্মে হাইকোর্ট বেশ কয়েকবার পর্যবেক্ষণ দেয়। দুদকের পক্ষ থেকে যেসব মামলা করা হয়েছে সেই মামলায় চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা কেন আসামি নয় সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট। এরপরই ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ১০ পরিচালককে তলব করে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। গত ২২ নভেম্বর থেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ ছিল বাচ্চুর দিন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুদক কার্যালয়ে আসার পর এক দফা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাচ্চু। তবে তিনি খুব বেশি সময় দেননি গণমাধ্যম কর্মীদের। ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় আপনি নিজেকে দোষী মনে করেন কি না- এমন প্রশ্নে ‘না’ জবাব দিয়ে তিনি কার্যালয়ে ঢুকে যান।

দুদক পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল বেলা বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে কী প্রশ্ন করা হয়েছে এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবারও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাচ্চু। দুদক কী নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে। দুদক যে অভিযোগগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। প্রয়োজনবোধে আমি আরো সহযোগিতা করব। যেটুকু আমার সম্ভব, তার উত্তর দেওয়া হয়েছে।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। কাজেই এ বিষয়ে বলা খুব মুশকিল। তদন্ত চলছে দেখা যাক কী হয়।’

দুই হাজার কোটি টাকা লোপাট

বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা করে দুদক। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় মোট আসামি করা হয় ১৫৬ জনকে। মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়।

রাজধানীর গুলশান শাখার মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখার মাধ্যমে অনিয়ম করে ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কেলেঙ্কারির অভিযোগের বাকি অংশের অনুসন্ধান দুদকে চলমান। মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রযেছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকার ও ঋণ গ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন।

এর মধ্যে ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮টি মামলায়। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, গ্রেপ্তার হওয়া মো. সেলিম ৮টি, বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খান ৩৫টি মামলার আসামি।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আসামি না করার বিষয়ে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কোনো সম্পৃক্ততা দুদকের অনুসন্ধানে আসেনি। তবে তদন্তকালে যদি তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে জাড়িতদের পরবর্তীকালে আসামি করা হবে।