ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

জেরুজালেমকে রাজধানী স্বীকৃতি দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: জর্ডান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করা হলে ‘পরিণাম গুরুতর’ হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর বিবিসির। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেছেন, এমন সিদ্ধান্তে আরব ও মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে আগেই কথা হয়েছে তার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ছিল এ বিষয়টি। এক টুইটে সাফাদি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করা হলে তা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার বলেছেন এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ট্রাম্পকে এমন ঘোষণা থেকে বিরত রাখতে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

তার অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের ফোন করেছেন তিনি। ‘জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বা সেখানে মার্কিন দূতাবাস স্থাপন করলে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে ধারণা দিতে’ আান্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে মাহমুদ আব্বাস কথা বলেছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন আব্বাসের উপদেষ্টা মাজদি আল-খালিদি।

এমন সিদ্ধান্ত ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনকে দুটি আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার পথে আরো বাধা সৃষ্টি করবে বলে ফিলিস্তিনের নেতারা আগেই সতর্ক করেছেন। ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় থেকে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। ১৯৮০’তে তারা এই এলাকা আত্মসাৎ করে ও নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে। আন্তর্জাতিক আইনে এই এলাকাকে দখল হওয়া অঞ্চল বলে অভিহিত করা হয়।

অবিভক্ত জেরুজালেমকে স্থায়ী রাজধানী হিসেবে চায় ইসরায়েল। আর পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায় ফিলিস্তিনিরা। ১৯৪৮ এর পর থেকে আলোচনার মাধ্যমে জেরুজালেম দ্বন্দ্বের সমাধানের কথা বলে এসেছে সব মার্কিন প্রশাসন। তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষপাতী নন যাতে আলোচনার সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে।

গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইসরায়েলের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দিনেই তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেবেন তিনি। তারপর থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে বুধবার বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেবেন।

রবিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের এক সভায় ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা. কুশনার বলেন, প্রেসিডেন্ট যথাযথ সময়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বিষয়টির খুঁটিনাটি যাচাই করছেন। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তিনিই আপনাদের জানাবেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

জেরুজালেমকে রাজধানী স্বীকৃতি দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: জর্ডান

আপডেট সময় ০৪:৩৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করা হলে ‘পরিণাম গুরুতর’ হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর বিবিসির। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেছেন, এমন সিদ্ধান্তে আরব ও মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে আগেই কথা হয়েছে তার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ছিল এ বিষয়টি। এক টুইটে সাফাদি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করা হলে তা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার বলেছেন এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ট্রাম্পকে এমন ঘোষণা থেকে বিরত রাখতে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

তার অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের ফোন করেছেন তিনি। ‘জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বা সেখানে মার্কিন দূতাবাস স্থাপন করলে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে ধারণা দিতে’ আান্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে মাহমুদ আব্বাস কথা বলেছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন আব্বাসের উপদেষ্টা মাজদি আল-খালিদি।

এমন সিদ্ধান্ত ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনকে দুটি আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার পথে আরো বাধা সৃষ্টি করবে বলে ফিলিস্তিনের নেতারা আগেই সতর্ক করেছেন। ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় থেকে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। ১৯৮০’তে তারা এই এলাকা আত্মসাৎ করে ও নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে। আন্তর্জাতিক আইনে এই এলাকাকে দখল হওয়া অঞ্চল বলে অভিহিত করা হয়।

অবিভক্ত জেরুজালেমকে স্থায়ী রাজধানী হিসেবে চায় ইসরায়েল। আর পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায় ফিলিস্তিনিরা। ১৯৪৮ এর পর থেকে আলোচনার মাধ্যমে জেরুজালেম দ্বন্দ্বের সমাধানের কথা বলে এসেছে সব মার্কিন প্রশাসন। তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষপাতী নন যাতে আলোচনার সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে।

গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইসরায়েলের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দিনেই তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেবেন তিনি। তারপর থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে বুধবার বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেবেন।

রবিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের এক সভায় ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা. কুশনার বলেন, প্রেসিডেন্ট যথাযথ সময়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বিষয়টির খুঁটিনাটি যাচাই করছেন। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তিনিই আপনাদের জানাবেন।’