অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দিলে ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সশস্ত্র প্রতিরোধ (ইন্তিফাদা) শুরুর ডাক দিয়েছে হামাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নিচ্ছেন; এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় হামাসের পক্ষ থেকে তৃতীয় ইন্তিফাদা শুরুর হুমকি দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের ওই সশস্ত্র সংগঠন বলছে, সেখানে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের অর্থ হবে জেরুজালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হামাস।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি মাসের ৬ তারিখেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপন করতে পারেন। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলেই জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতি পাবে। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বলছে, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করার দাবিকে পাশ কাটিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার প্রভাব হবে ধ্বংসাত্মক।
এই ‘নৃশংস সিদ্ধান্ত’র বাস্তবায়ন রুখতে ফিলিস্তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে হামাস। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আল-কুদস হচ্ছে আরব ও ইসলামি পরিচিতির শহর। এটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। এই পরিচয় মুছে ফেলার যে কোনও পরিকল্পনা রুখে দিতে আরব জাহান ও মুসলিম উম্মাহ’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
আরববিশ্বে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হয় ১৯৮৭ সালে। ইন্তিফাদা নামের সেই সময় শুরু হওয়া গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরের বছর হামাসের আত্মপ্রকাশ। প্রথম ইন্তিফাদার সময়ে হামাসের প্রাথমিক ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ‘ইসরায়েলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করাটাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য।’ হামাসের প্রাথমিক ঘোষণাপত্র ছিল ইহুদি বিদ্বেষে ঠাঁসা। তবে ফিলিস্তিনি জনতার জাতিসত্তার বোধ জাতিরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা জোরালো করে তুলতে শুরু করার পর, সেই পরিস্থিতির সমান্তরালে বদলে যেতে থাকে হামাস।
মূলত দ্বিতীয় ইন্তিফাদা, বা আল আকসা ইন্তিফাদার সময়কালে (২০০০–২০০৫) হামাসের রাজনীতিতে এক বিশেষ রূপান্তর ঘটতে শুরু করে। এ সময়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতাদর্শিক অবস্থানকে ছাপিয়ে যায় ফিলিস্তিনের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের রবিবারের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে আরেকটি প্রতিরোধ যুদ্ধের (ইন্তিফাদা) হুমকি দিলো হামাস। বিবৃতিতে হামাস বলছে, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি অন্যায়ভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে ফিলিস্তিনি জনতার প্রতি নতুন ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’ জারির আহ্বান জানাবে হামাস।
উল্লেখ্য, আরববিশ্বে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হয় ১৯৮৭ সালে। ইন্তিফাদা নামের সেই সময় শুরু হওয়া গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরের বছর হামাসের আত্মপ্রকাশ। ধর্মভিত্তিক সংগঠনের পরিচয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে দলটির। হামাসের প্রাথমিক ঘোষণাপত্র ছিল ইহুদিবিদ্বেষে ঠাঁসা।
তবে দলটি ফিলিস্তিনিদের জাতিরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা জোরালো করে তুলতে শুরু করার পর সেই পরিস্থিতির সমান্তরালে বদলে যেতে থাকে হামাস। এক পর্যায়ে ফিলিস্তিনি মুক্তির সংগ্রামই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান অঙ্গীকার। চলতি বছরে ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিযুক্ত হয় হামাস। তবে কেউ কেউ অভিযোগ করে থাকে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার দাবিকে রুখতেই মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনায় হামাসের জন্ম দেওয়া হয়েছে।
১৯৮৮ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডের সহযোগী সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠে হামাস। তবে এ বছরের ১ মে প্রকাশিত নতুন নীতিগত দলিলে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংগঠনটির বিচ্ছিন্নতাকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘হামাস একটি স্বতন্ত্র সংগঠন।’ হামাসের নতুন রাজনৈতিক দলিলে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করা হয়েছে। ওই দলিলে বলা হয়, হামাসের লড়াই জায়নবাদের বিরুদ্ধে। তা ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নয়।
সেখানে বলা হয়, ‘যে জায়নবাদী ইসরায়েলি নাগরিকরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধেই লড়াই করছি আমরা।’ তৃতীয় ইন্তিফাদার হুমকির মধ্য দিয়ে সেই জায়নবাদবিরোধী লড়াইকে জোরালো করার ঘোষণা দিলো সংগঠনটি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















