অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিনের শর্ত সংশোধন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। সাংবাদিকদের খুরশীদ আলম বলেন, আপিল বিভাগ অর্থ পরিশোধের শর্তে তাদের জামিন দিয়েছিল। সেই শর্ত সংশোধন চেয়ে তারা আবেদন করেছিল। তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
গত বছরের ২০ জুলাই অর্থ পরিশোধের শর্তে রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসাইনকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। আপিল বিভাগ ওই দুইজনের জামিন স্থগিত করে দেয়। এ আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে আত্মসাৎ করা টাকা জমা দেয়ার কথা বলে সর্বোচ্চ আদালত।
সে অনুসারে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ডেসনিটির পক্ষ থেকে গাছ বিক্রি করে টাকা দেয়ার কথা বলা হয়। ওইদিন হলফনামা দিয়ে আদালতকে জানানো হয়, তাদের কাছে ৩৫ লাখ গাছ আছে। প্রতিটি গাছ আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে পারবেন তারা। এর প্রেক্ষিতে জামিনের শর্ত পূরণে আপিল বিভাগ দুই আসামি যে কারাগারে আছেন, সেখানে তাদের সঙ্গে গাছ বিক্রির সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও আলোচনার সুযোগ দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।
ডেসটিনি ট্রি-প্ল্যান্টেশনের সিইও ড. শামসুল হক ভূঁইয়া এমপির তত্ত্বাবধানে সব কাজ সম্পন্ন হবে। যদি গাছ বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে না পারেন, তাহলে নগদ দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেবেন তারা। এর অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে।
এরপর যারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, যাচাই করে তাদের কাছে টাকা হস্তান্তরের পর জামিনে মুক্তি পাবেন দুই কর্মকর্তা। কিন্তু কয়েকমাস পরে তারা এ আদেশের সংশোধন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে কারাগারে থাকায় এ শর্ত পূরণ সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা। এ আবেদনেরই শুনানিতেই আদালত ডেসটিনির জব্দ করা অর্থের পরিমাণ তলব করে।
গত ৩০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে ডেসটিনির জব্দ করা স্থাবর-অস্থাবর ৭৮৬ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৯৩ টাকা সম্পত্তির হিসাব আদালতে দাখিল করা হয়। যার মধ্যে নগদ অর্থ হচ্ছে ১৫৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯২ দশমিক ৯৩ টাকা। এছাড়াও রয়েছে ১১২টি গাড়ি।
তিন হাজার ২৮৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান ডেসটিনি গ্রুপের সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ ও ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ প্রতিষ্ঠানটির ২২ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় পৃথক দুইটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ৪ মে এ দুই মামলায় অভিযোপত্র দেয় দুদক।
দুই মামলার মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লি. এর মামলার অভিযোগপত্রে এক হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়। অপর মামলাটি হয় ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন নিয়ে। এই মামলার অভিযোগপত্রে ২১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় ৪৬ জনকে। ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন মামলার আসামি ১৯ জন। দুই মামলার অভিন্ন আসামি ১৪ জন। দুই মামলারই প্রধান আসামি রফিকুল আমিন। দুই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১৫০ জনকে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























