অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
ইউরোপ যদি তেহরানের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে তাহলে এর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।শনিবার ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুসেইন সালামি বলেন, প্রযুক্তি নয়, কৌশলগত কারণেই ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি করছে না।
তার এ বক্তব্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ফ্রান্সের বর্তমান সমালোচনার প্রতিক্রিয়া বলে মনে করছে রয়টার্স। দুই বছর আগে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে করা তেহরানের চুক্তির বাইরে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ‘অনমনীয় মনোভাব’ নিয়ে নতুন আলোচনা করতে চায় ফ্রান্স।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ২০১৫ সালে করা ওই চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পদত্যাগের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিতে ‘পক্ষ নিচ্ছে’ বলে আগে অভিযোগ করেছিল তেহরান। ফ্রান্সও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইরানকে সতর্ক করে আসছে।
এ প্রসঙ্গেই ফারসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালামি বলেন, “ইউরোপকে এখনো আমরা হুমকি মনে করছি না। কিন্তু যদি তারা হুমকি হতে চায়, তাহলে আমরাও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবো।” গত মাসে রেভ্যুলেশনারি গার্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলি জাফারি বলেছিলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কত হবে, তা ঠিক করেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
তেহরানের কাছে যে পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আছে, তা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ‘আমেরিকার স্বার্থ ও শক্তির’ মোকাবেলা করা যাবে; এ কারণে আপাতত পাল্লা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর তুলনায় শক্তিশালী বিবেচনা করা যায়; দেশটির হাতে থাকা কিছু কিছু নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।
শনিবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে সালামি ইয়েমেনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য তেহরানকে দায়ী করে আসছে রিয়াদ। ওই ক্ষেপণাস্ত্র ইরানই সরবরাহ করেছে বলে দাবি সৌদি আরবের।
সালামি বলছেন, হুতি বিদ্রোহীরা নিজেরাই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ অর্জন করতে সক্ষম। “ইয়েমেনের চারপাশে অবরোধ। আমরা কিভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবো? “এরপরও যদি ইরান সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে পারে, তাহলে তা সৌদি জোট যে অদক্ষ সেটি প্রকাশ করবে। আমরা হুতিদেরকে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাইনি,” বলেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাফারিও বলেছিলেন, সামরিক নয় হুতিদের ‘পরামর্শ ও আত্মিক সমর্থন’ দিচ্ছে ইরান। সিরিয়ায় যুদ্ধে আসাদের হয়ে লড়ার কথাও অস্বীকার করেছে ইরান। তারা বলছে, যোদ্ধা নয়, সিরিয়ায় রেভ্যুলেশনারি গার্ডের উপস্থিতি পরামর্শদাতা হিসেবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন; ভবিষ্যতে ইরান এ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড যুক্ত করতে পারে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক ব্যবহারের জন্য, সামরিক পরাশক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে নয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























