অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
চৌদ্দ বছরের কিশোরী। জীবনের অনেক কিছুই জানা হয়নি তার। কিন্তু এরই মধ্যে তার কোলে এসেছে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান। পরিচিতি পেয়েছে কিশোরীমাতা হিসেবে। সন্তান জন্ম নেওয়ার কয়েকদিন আগেও স্কুলে গিয়েছিল সে। গত ১৬ নভেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী।
নবজাতক কন্যাশিশুটির নাম রাখা হয়েছে ইশরাক আহম্মেদ মৌ। অঘোরে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে নবজাতক শিশুটি। কিশোরী শিশুটিকে কোলে রেখে শিশুটির দিকে চাতক পাখির মতো অপলক তাকিয়ে দিনরাত অঝোরে কেঁদে চলেছে এই ভেবে, কী হবে শিশুটির পিতৃপরিচয়?
জানা যায়, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের নথখোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা চার সন্তানের জনক সোনা মিয়া মুন্সী (৬৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। ধর্ষণের ফলে ওই ছাত্রীটি গর্ভবতী হয়ে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
কিন্তু দুই মাস আগে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা ধারণা করেন, হয়তো মেয়েটির পেটে পাথর জাতীয় কিছু হয়েছে। এ ধারণা নিয়েই করটিয়ার একটি ক্লিনিকে মেয়েটিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে সে সাত মাসের অন্তঃসত্বা বলে জানায় ডাক্তার। পরে মেয়েটি তার পরিবারের কাছে ধর্ষণের বিবরণ দেয়। বিষয়টি অভিযুক্ত সোনা মিয়াকে জানালে তিনি মেয়েটির পেটের সন্তানটিকে নষ্ট করা জন্য এবং এক লাখ টাকা দিয়ে মীমাংসার কথা জানান।
এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদি হয়ে ২ অক্টোবর বাসাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনা মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদি ও অভিযুক্তের আর্থ-সামাজিক অবস্থার মধ্যে বিশাল ফারাক। ভুক্তভোগীর পরিবার হতদরিদ্র। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকার প্রভাবশালী।
মেয়েটির মা বলেন, ‘আমার এই একমাত্র মেয়েটি যখন পেটে তখন স্বামী অন্যজনকে বিয়ে করে আমাকে ছেড়ে চলে যায়। আমি মেয়েটিকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে থাকি। সোনা মিয়া বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছিলেন। ৯ মাস আগে এক হাজার টাকা ধার আনার জন্য মেয়েটিকে তার বাড়িতে পাঠালে সোনা মিয়া ধর্ষণ করে।’
ওই ছাত্রী বলে, ‘সোনা মিয়া আমাকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেন। সে জন্যই আমি ওই সময় কাউকে জানায়নি। এখন আমার কন্যাসন্তান জন্ম হয়েছে। মেয়েটিকে সোনা মিয়ার পরিচয়েই বড় করতে চায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘ওই ছাত্রীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছি। আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যে ওই পরিবারকে কিছু আর্থিক সহায়তা দিতে পারব।’
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাসাইল থানার এসআই মোহাম্মদ নাছিম বলেন, ‘১৬ নভেম্বর ওই ছাত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। মা ও মেয়ের ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করা হয়েছে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















