আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। রোববার সকাল ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় এক নেতা একাই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার হাতে প্ল্যাকার্ডসহ ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী ওই নেতার নাম ওয়াহিদুল আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওয়াহিদুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। তার হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর, করতে হবে’। ব্যানারের নিচে লেখা ছিল ‘প্রতিবাদে: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ‘রাজবন্দীদের মুক্তির’ দাবিতে আমি এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি।’ পাশাপাশি দেশে ছাত্রলীগের ওপর চলমান ‘মব সন্ত্রাস’ বন্ধের দাবিও জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমরা কোনোভাবেই স্বৈরাচারী শক্তির নেতাকর্মীদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেব না। যারা অতীতে স্বৈরাচারী মতাদর্শের প্রকাশ ঘটিয়েছে, তাদেরকে ইতোমধ্যে ছাত্রসমাজ প্রতিহত করেছে। ভবিষ্যতেও তাদের কোনো ধরনের অপকর্ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। যেহেতু তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান, তাই এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থান বজায় রাখবো।”
শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “আগেও ওই শিক্ষার্থীর ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দেখা গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। তার যে একাডেমিক ও সামগ্রিক শাস্তি প্রাপ্য ছিল, তা যদি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হতো, তাহলে এমন কর্মকাণ্ডের সাহস পেত না।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন তারা (ছাত্রলীগ) এ ধরনের কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য আইনগতভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনটি বহু আগেই শিক্ষার্থীদের কাছে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তারা বর্তমানে আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়ার মতো সাহস তাদের নেই। তারা লুকিয়ে-গোপনে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “তবে শিক্ষার্থীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেউই তাদের এই কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না। এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমেও মোকাবেলা করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি এবং ইতোমধ্যে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের তথ্য যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রশাসনকে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রলীগের বর্তমান অবস্থান বা এটি নিষিদ্ধ কিনা এ বিষয়ে আমি সরাসরি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে পারবো না। এ ধরনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকেই আসে, তাই প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।”
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















