ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

এক রাতেই যেভাবে বদলে গিয়েছিল সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকার

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিন নায়েফের জায়গায় বাদশাহ-পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানকে সৌদি যুবরাজ (ক্রাউন প্রিন্স) ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক ভাতুষ্পুত্রকে সরিয়ে নিজ ছেলেকে যুবরাজ ঘোষণার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই প্রাসাদ ষড়যন্ত্র হিসেবে পরিচিতি পায়। এবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ২১ জনু সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। বিন নায়েফের ঘনিষ্ঠ সূত্রসহ প্রাসাদের বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কীভাবে এক রাতের ব্যবধানে সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকার বদলে গিয়েছিল।

উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন ক্রাউন প্রিন্স বিন নায়েফ। সন্ত্রাসবিরোধী কথিত যুদ্ধেও ছিল তার নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। বাদশাহর পর তিনি ছিলেন সবচেয়ে ক্ষমতাবান। নায়েফের ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেতরে ভেতরে তার দ্বারা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছিলেন বাদশাহ সালমান। আর এরই এক পর্যায়ে ২১ জুন প্রাসাদে যাওয়ার পর তাকে পদত্যাগ করতে বলেন বাদশাহ, আনুগত্য স্বীকার করতে বলেন তার প্রিয়তম ছেলে মোহাম্মদের কাছে।

একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, সেদিন রাত ১১টায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠক ডেকেছিলেন বাদশাহ সালমান। তার আগেই বাদশাহর ছেলে মোহাম্মদের ফোন পান বিন নায়েফ। তার কাছে তখন এটি ‘স্বাভাবিক নিয়মের ডাক’ই মনে হয়েছিল। প্রাসাদে উপস্থিত হওয়ার পর সালমানের ছেলে মোহাম্মদ তাকে বলেন, বাদশাহ তার অপেক্ষায় রয়েছেন। বেনামি সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবের উত্তরাধিকার নির্ধারণ কমিটির সদস্যদের কাছে শাহী ফরমান যায়, যে কমিটিতে রাজ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা থাকেন।

তিনি বলেন, ওই সময়ে প্রাসাদের একটি কক্ষে বিন নায়েফকে বলতে গেলে আটক রাখা হয়। সেখানে আর কেউ ছিল না। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোনটি। এই সময়ের মধ্যে তার দেহরক্ষীদেরও বদলে দেওয়া হয়। এরপর রাজদূত ছোটেন উত্তরাধিকার নির্ধারণ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর আনতে। ৩৪ সদস্যের মধ্যে তিনজন বাদে সবাই বিন নায়েফের পদচ্যুতির সিদ্ধান্তে সই করেন। প্রাসাদের বেনামি সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স দাবি করে, যারা বাদশাহর সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন তাদের সবার ফোন কল রেকর্ড করা হয় এবং তা বিন নায়েফকে শোনানো হয়। তাকে বোঝানো হয় যে তোমার পক্ষে কেউ নেই।

রাতভর চিন্তার পর ভোরের আগেই হাল ছেড়ে দেন বিন নায়েফ; তিনি প্রাসাদের উপদেষ্টাকে বলেন যে বাদশাহর সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। খুব সংক্ষিপ্ত একটি বৈঠকেই সব সারা হয়ে যায়। পদত্যাগে রাজি হওয়ার কথা জানিয়ে কাগজে সই করে দেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি তুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

এক রাতেই যেভাবে বদলে গিয়েছিল সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকার

আপডেট সময় ০১:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিন নায়েফের জায়গায় বাদশাহ-পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানকে সৌদি যুবরাজ (ক্রাউন প্রিন্স) ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক ভাতুষ্পুত্রকে সরিয়ে নিজ ছেলেকে যুবরাজ ঘোষণার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই প্রাসাদ ষড়যন্ত্র হিসেবে পরিচিতি পায়। এবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ২১ জনু সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। বিন নায়েফের ঘনিষ্ঠ সূত্রসহ প্রাসাদের বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কীভাবে এক রাতের ব্যবধানে সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকার বদলে গিয়েছিল।

উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন ক্রাউন প্রিন্স বিন নায়েফ। সন্ত্রাসবিরোধী কথিত যুদ্ধেও ছিল তার নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। বাদশাহর পর তিনি ছিলেন সবচেয়ে ক্ষমতাবান। নায়েফের ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেতরে ভেতরে তার দ্বারা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছিলেন বাদশাহ সালমান। আর এরই এক পর্যায়ে ২১ জুন প্রাসাদে যাওয়ার পর তাকে পদত্যাগ করতে বলেন বাদশাহ, আনুগত্য স্বীকার করতে বলেন তার প্রিয়তম ছেলে মোহাম্মদের কাছে।

একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, সেদিন রাত ১১টায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠক ডেকেছিলেন বাদশাহ সালমান। তার আগেই বাদশাহর ছেলে মোহাম্মদের ফোন পান বিন নায়েফ। তার কাছে তখন এটি ‘স্বাভাবিক নিয়মের ডাক’ই মনে হয়েছিল। প্রাসাদে উপস্থিত হওয়ার পর সালমানের ছেলে মোহাম্মদ তাকে বলেন, বাদশাহ তার অপেক্ষায় রয়েছেন। বেনামি সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবের উত্তরাধিকার নির্ধারণ কমিটির সদস্যদের কাছে শাহী ফরমান যায়, যে কমিটিতে রাজ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা থাকেন।

তিনি বলেন, ওই সময়ে প্রাসাদের একটি কক্ষে বিন নায়েফকে বলতে গেলে আটক রাখা হয়। সেখানে আর কেউ ছিল না। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোনটি। এই সময়ের মধ্যে তার দেহরক্ষীদেরও বদলে দেওয়া হয়। এরপর রাজদূত ছোটেন উত্তরাধিকার নির্ধারণ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর আনতে। ৩৪ সদস্যের মধ্যে তিনজন বাদে সবাই বিন নায়েফের পদচ্যুতির সিদ্ধান্তে সই করেন। প্রাসাদের বেনামি সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স দাবি করে, যারা বাদশাহর সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন তাদের সবার ফোন কল রেকর্ড করা হয় এবং তা বিন নায়েফকে শোনানো হয়। তাকে বোঝানো হয় যে তোমার পক্ষে কেউ নেই।

রাতভর চিন্তার পর ভোরের আগেই হাল ছেড়ে দেন বিন নায়েফ; তিনি প্রাসাদের উপদেষ্টাকে বলেন যে বাদশাহর সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। খুব সংক্ষিপ্ত একটি বৈঠকেই সব সারা হয়ে যায়। পদত্যাগে রাজি হওয়ার কথা জানিয়ে কাগজে সই করে দেন তিনি।