ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল টিকা সংকটে হামের উচ্চ ঝুঁকিতে দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

ভুল চিকিৎসায় মা-নবজাতকের মৃত্যু, পালালেন চিকিৎসক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুল অপারেশনে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাধবপুর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। নিহত প্রসূতি উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. উজ্জ্বল মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার।

এদিকে রোগী ও নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।

নিহত সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান জানান, সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে সোনিয়া আক্তারকে রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। হসপিটালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এম. শরীফ আহম্মেদ প্রাথমিকভাবে সোনিয়া আক্তারকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রক্ত পরীক্ষা দেন। তারপর তিনি রোগীর স্বজনদের জানান, মা ও গর্ভের সন্তান উভয়ই ভাল আছে।

তবে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হবে না। অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করাতে হবে। এ কথা বলে ডা. এম শরীফ ও তার সহযোগীরা সোনিয়াকে অপারেশন থিয়োটারে নিয়ে যান। প্রায় ঘন্টাখানেক পর অপারেশন থিয়োটার থেকে ডা. শরীফ এসে সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নানকে একটি নবজাতাক দিয়ে বলেন বাচ্চাটি অসুস্থ, তাই কান্না করে না।

আপনারা জরুরিভিত্তিতে নবজাতককে পাশের দেবিদ্বারের একটি শিশু চিকিৎসক দেখান। তখন তারা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নবজাতককে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্তানটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে প্রায় দুই ঘন্টা পর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. শরীফ নিজেই একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে তাদের ফোনের মাধ্যমে জানান, তারা সোনিয়াকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছেন। তখন সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান দেবিদ্বার থেকে ওই অ্যাম্বুলেন্সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোনিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে সোনিয়া ও তার নবজাতকের মৃত্যুর খবরে এলাকার লোকজন রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভাঙচুর করে। এসময় ডাক্তার, নার্স ও কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যান। এ ব্যাপারে হসপিটালের কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির বলেন, সোনিয়া ও নবজাতকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ দিকে এ ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর হয়েছে। এই ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ভুল চিকিৎসায় মা-নবজাতকের মৃত্যু, পালালেন চিকিৎসক

আপডেট সময় ০৩:১৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুল অপারেশনে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাধবপুর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। নিহত প্রসূতি উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. উজ্জ্বল মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার।

এদিকে রোগী ও নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।

নিহত সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান জানান, সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে সোনিয়া আক্তারকে রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। হসপিটালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এম. শরীফ আহম্মেদ প্রাথমিকভাবে সোনিয়া আক্তারকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রক্ত পরীক্ষা দেন। তারপর তিনি রোগীর স্বজনদের জানান, মা ও গর্ভের সন্তান উভয়ই ভাল আছে।

তবে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হবে না। অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করাতে হবে। এ কথা বলে ডা. এম শরীফ ও তার সহযোগীরা সোনিয়াকে অপারেশন থিয়োটারে নিয়ে যান। প্রায় ঘন্টাখানেক পর অপারেশন থিয়োটার থেকে ডা. শরীফ এসে সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নানকে একটি নবজাতাক দিয়ে বলেন বাচ্চাটি অসুস্থ, তাই কান্না করে না।

আপনারা জরুরিভিত্তিতে নবজাতককে পাশের দেবিদ্বারের একটি শিশু চিকিৎসক দেখান। তখন তারা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নবজাতককে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্তানটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে প্রায় দুই ঘন্টা পর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. শরীফ নিজেই একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে তাদের ফোনের মাধ্যমে জানান, তারা সোনিয়াকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছেন। তখন সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান দেবিদ্বার থেকে ওই অ্যাম্বুলেন্সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোনিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে সোনিয়া ও তার নবজাতকের মৃত্যুর খবরে এলাকার লোকজন রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভাঙচুর করে। এসময় ডাক্তার, নার্স ও কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যান। এ ব্যাপারে হসপিটালের কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির বলেন, সোনিয়া ও নবজাতকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ দিকে এ ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর হয়েছে। এই ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।