অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতার পর এবার আলোচনায় রাজশাহী-কলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন। এরই মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আগামী মাসে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ে দেশগুলোর অংশগ্রহণে আগামী মাসে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নীতিনির্ধারণী আলোচনাতেও বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।
এক সময় অবিভক্ত বাংলায় মালদা কিংবা মুর্শিদাবাদ হয়েই কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল রাজশাহী। ১৯৪৭ সালের পর সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ভারত ঠিকই যেতে হয় এই অঞ্চলের মানুষকে। বিশেষ করে প্রতিদিনই এ অঞ্চলের বহুসংখ্যক অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার জন্য যান ভারতে। তাদের যাতায়াত সুবিধার কথা চিন্তা করে ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব করেন। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা পাঠান ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা জানান, ভারতের রেলপথ বিভাগ প্রস্তাবনাটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। আগামী মাসে তিনিও আবার এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলবেন। তখন বিষয়টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতা দুইটি মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন গেদে সীমান্ত দিয়ে চলাচল করলেও রাজশাহী-কলকাতার প্রস্তাবিত ট্রেনটি যাবে মালদার সিঙ্গাবাদ সীমান্ত দিয়ে। রাজশাহীর মানুষের ভারত যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের সিঙ্গাবাদ, মালদা, ফারাক্কা, কাটোয়া, খাগড়াঘাট হয়ে হাওড়ায় পৌঁছানোর কথা আছে।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলম বলেন, এই রুট দিয়ে এখন মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রীবাহী মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু খুব বেশি কঠিন হবে না। ট্রেনটি চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েকে একটি চিঠি লিখেছেন। দুই দেশ থেকেই আলাপ-আলোচনা করে ট্রেনটি দ্রুতই চালুর চেষ্টা চলছে।
এদিকে রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচলের খবরে রাজশাহীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে বর্তমানে ভারতের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রেন যোগাযোগ চালু রয়েছে। এজন্য দুই দেশের রেলপথও সংস্কার করা হয়েছে। নেপাল এ রুট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সার আমদানিও করেছে। নেপাল ভারত হয়ে তাদের সীমান্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রী পরিবহনে এ রুট ব্যবহার করতে রাজি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তৃতীয় এ মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হলে রহনপুর রেলস্টেশন চত্বরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সুবিধা চালু করতে হবে। বর্তমানে রহনপুরে কাস্টমস অফিস থাকলেও তাদের নিজস্ব ভবন নেই। রহনপুর রেল বন্দর চত্বরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস স্টেশন নির্মাণ করার জন্য রেলওয়ের যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। সে জায়গাতেই প্রয়োজনীয় সব অফিস খোলা হবে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।
সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা মনে করেন, তৃতীয় এই মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু হলে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব পাবে রাজশাহী। তখন রাজশাহী হয়ে উঠবে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। তাছাড়া ভারতগামী এ অঞ্চলের বহু মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করবে এই মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন। এসব বিষয় চিন্তা করেই তিনি ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















