অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
সাবেক মিসরীয় স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব আল-আদলির পরামর্শেই সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালাচ্ছেন। এক অনুসন্ধানে এমনটিই জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। হোসনি মুবারককে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে আল-আদলি নিষ্ঠুরতার এমন কোনো হাতিয়ার নেই যা প্রয়োগ করেননি। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিনি মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আরব বসন্তে মোবারকের পতনের পর আদলতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান বলে জানা যায়।
এ মাসের শুরুতে ১১ জন প্রিন্স, কয়েকজন মন্ত্রী, ব্যবসায়ীসহ কয়েক শ’ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে গ্রেফতার, বরখাস্তসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি আরব। তবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই তিনি এই ধরপাকড় চালাচ্ছেন। আর তার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন আল-আদলি।
কয়েক মাস ধরেই গুজব আছে যে, দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড হওয়ার পর আদলি সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্টে গতকাল বলা হয়েছে, আদলির উপদেষ্টা ও সাবেক এক মিসরীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে পরামর্শ দিচ্ছেন হাবিব আল আদলি। আদলি এমন একজন ব্যক্তি যিনি হোসনি মোবারকের শাসন টিকিয়ে রাখতে নৃসংসতা, নির্যাতন ও দুর্নীতির কোনো কিছুই বাদ নেই যা করেননি।
আদলির পরামর্শে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটেছে এমন খবরে আশ্চর্য হওয়ার কিছু দেখছেন না মিসরীয় নাগরিকেরা, বিশেষ করে যারা তার ক্ষমতার মেয়াদ দেখেছেন। ১৪ বছরের দায়িত্বকালে মানবাধিকার সংস্থাগুলো আদলি ও তার পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতন, গুম, ভিন্নমত দমনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছে। ২০১১ সালে মোবারকবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় কয়েক শ’ বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ২০১২ সালে গণতান্ত্রিক সরকারের সময় হত্যা দুর্নীতি, মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
তবে ২০১৪ সালে বর্তমান স্বৈরশাসক সিসি সরকারের একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। ২০১৫ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। চলতি বছর আরেকটি দুর্নীতির মামলা তার সাত বছরের জেল হয়, রায়ের সময় তিনি গৃহবন্দী ছিলেন, কিন্তু এরপরই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
লেবাননের পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে ফ্রান্সে পরিবারসহ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সাদ হারিরিকে পরিবারসহ প্যারিসে কিছু দিন থাকার আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। বুধবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন হারিরির আটক থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করার কয়েক ঘণ্টা পর এমন ঘোষণা আসে।
বুধবার ফরাসি প্রেসিডেন্টের এলিসি প্রাসাদ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান এবং লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির সাথে আলোচনা করার পর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সাদ হারিরি ও তার পরিবারকে ফ্রান্স সফরে আমন্ত্রণ জানান।’ ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থজ্যঁ-ইভস লা দ্রিয়াঁ আজ নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন হারিরি।
৪ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে এক ভাষণে আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদ হারিরি। ভাষণে তিনি পদত্যাগের জন্য প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য ইরান ও লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন। পদত্যাগের পর থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। লেবানন কর্তৃপ ও দেশটির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, হারিরি দেশে ফিরে কারণ ব্যাখ্যা না করা পর্যন্ত পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে না।
বুধবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরব সাদ হারিরিকে ‘আটক’ করে রেখেছে। শিগগিরই সৌদি আরবে ফেরার ঘোষণা দিলেও দেশে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সৌদি নেতারা।
এ দিকে হারিরিকে ফ্রান্স সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণের মাধ্যমে এই ধারণাই উঠে আসছে যে, তাকে হয়ত ইউরোপে ‘নির্বাসনে’ পাঠাচ্ছে সৌদি আরব। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ‘হারিরি যাতে সৌদি আরব থেকে নিরাপদে বের হতে পারেন তার একটি সহজ পথ বের করার চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। এ কারণেই তিনি সাদ হারিরিকে সপরিবারে ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’ তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, হারিরি ‘রাজনৈতিক নির্বাসন’ এর আমন্ত্রণ জানাননি ম্যাক্রোঁ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের এমন নেতা প্রয়োজন যারা নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে। আগামী দিনগুলোতে যেন হারিরি তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে পারে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















