অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
শীঘ্রই লেবানন ফিরছেন দেশটির সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী সা’দ আল-হারিরি। এক টেলিভিশনকে হারিরি বলেন, নিজেকে রক্ষা করার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়াও, দেশে ফিরেই তিনি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বিবিসির সংবাদ।
রিয়াদের ফিউচার টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে হারিরি বলেন, তিনি মুক্তই আছেন এবং শীঘ্রই তিনি লেবাননে ফিরছেন। তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরেই সাংবিধানিক রীতিতে পদত্যাগ করব। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্টসহ সরকারের অন্যান্যদের দাবি, হারিরিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সৌদি সরকার আটক করে রেখেছে।
গত সপ্তাহে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর গণমাধ্যমকে দেয়া এটিই তার কোন সাক্ষাৎকার। রিয়াদ সফরে গিয়ে হুট করে পদত্যাগের ঘোষণা দিলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়। তিনি এর জন্য ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন। তিনি দাবী করেন, জীবন নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
সা’দ আল-হারিরি পদত্যাগ ঘোষণার পরই সৌদি আরব, ইরান ও লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে সৌদি আরব এবং কুয়েত তাদের নাগরিকদের লেবানন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, লেবাননের রাজনৈতিক শক্তি এবং সামরিক বাহিনীতে হিজবুল্লাহ প্রভাব লক্ষণীয়। লেবাননের জনপ্রিয় ও শক্তিশালী সংগঠন হিজবুল্লাহ। বলা হয়, ইরান শিয়া মতাবলম্বী সংগঠনটিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। আর ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব লেবাননে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ হিজবুল্লাহর।
হিজবুল্লাহ প্রধানের দাবি, সা’দ আল-হারিরি সৌদি আরবের চাপে পড়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সৌদি আরব হারিরিকে সরিয়ে তার অনুগত রাজনীতিক বসিয়ে লেবাননের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে।
পদত্যাগের পর সংবাদ মাধ্যমে হারিরির কোন ধরণের মন্তব্য না আসায় হিজবুল্লাহর আশঙ্কাকেই সঠিক বলে ধরে নিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহল। যদিও তাদের অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি আরব।
সা’দ হারিরি লেবাননের একজন সুন্নি মতালম্বী রাজনীতিবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে এক বোমা হামলায় হারিরির পিতা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাফিক নিহত হন। এরজন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করে আসছেন হারিরি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















