অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজশাহীর দুর্গাপুরে উপজেলায় পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে শ্বশুর আবদুল মান্নানকে একঘরে করা হয়েছে। সেইসঙ্গে একঘরে করা ওই ব্যক্তির সঙ্গে কেউ কথা বললেও ৫শ টাকা জরিমানা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আবদুল মান্নান দুর্গাপুর উপজেলা কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের রাতুগ্রাম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সালিশে পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। এর আগে তার পুত্রবধূ শ্বশুরের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের লিখিত অভিযোগে করেন।
গৃহবধূর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তার শ্বশুর আবদুল মান্নান তিন মাস থেকে তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। লোকলজ্জার ভয়ে তিনি কাউকে কিছু বলতে পারেন নি। কিন্তু শ্বশুরের অশালীন আচারণে শেষ পর্যন্ত তিনি তার স্বামী শরিফুল ইসলামকে বিষয়টি খুলে বলেন। পরে বুধবার রাতে শ্বশুর তাকে আবারও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে ওই গৃহবধূ প্রতিকার চেয়ে গ্রাম্য প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে সালিশ বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাতুগ্রামের গ্রাম্য মাতব্বরা ও ইউপি সদস্যের উপস্থিতে সালিশ ডাকা হয়। তবে বৈঠকে শ্বশুরকে হাজির করা যায় নি। এসময় সালিশে পুত্রবধূর দেওয়া তথ্যে গ্রামের প্রধান মাতব্বর মামুন সরকার, সোবাহান খাঁ, আব্দুল কাদেরসহ সালিশী বৈঠকের লোকজন পুত্রবধূর শ্বশুর আবদুুল মান্নাকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেন।
একই সঙ্গে এলাকার মসজিদে নামাজ পড়া, টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া একঘরে থাকা অবস্থায় স্থানীয় কোন ব্যক্তি যদি মান্নানের সঙ্গে কথা বলে তাহলে তাকে ৫শ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে সালিশী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
পুত্রবধূর শ্বশুর আবদুল মান্নানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। অথচ গ্রামের মাতব্বরা সালিশী বৈঠক ডেকে তাকে একঘরে করেছেন। যদি নিজ স্ত্রী ছেলে সন্তানরা তার সঙ্গে কথা বলে তাদের ৫শ টাকা জরিমানা দিতে হবে মর্মে গ্রাম্য মাতব্বরা নিদের্শ দিয়েছেন। এমন কি গ্রামের নিজ মসজিদে নামাজপড়া ও টিউবয়েলের পানি পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছেন। শুক্রবারের জুমার নামাজ তিনি তার মসজিদে পড়তে পারেন নি। নির্যাতনের ভয়েই তিনি সালিশে উপস্থিত হয় নি বলে জানান।
রাতু গ্রামের প্রধান মাতব্বর মামুন সরকার, সোবাহান খাঁ ও আবদুল কাদের জানান, তিনি সালিশী বৈঠকে হাজির না হওয়ায় তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। এবং কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি নিজেই স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি ফয়সালা করে নেয়।
তারা আরো জানান, আবদুল মান্নানের পুত্রবধূর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সালিশী বৈঠক ডাকা হয়েছিলো। কিন্তু আবদুল মান্নান ওই সালিশী বৈঠকে হাজির হয় নি। পরে তার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যাতে তিনি দ্রুত সালিশী বৈঠকে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়টি ফয়সালা করে নিতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















