অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
লেবাননের ইসলামি সংগঠন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে আটক রেখে এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে সৌদি আরব লেবাননের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে শুক্রবার সন্ধ্যায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে হিজবুল্লাহ মহাসচিব এ কথা বলেছেন। ইমাম হোসেইন (আ)’র শাহাদাতের চেহলাম বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া তার এ ভাষণ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, ফিউচার দলের প্রধান ৪৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে সৌদি আরবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তার সঙ্গে কাউকে যেতে দেয়া হয় নি। রিয়াদে যাওয়ার পর হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে সৌদি আরব লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মারাত্মকভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, হারিরি যে ভাষায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তা থেকে পরিষ্কার হয় যে, তাকে এসব বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাকে এখন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, ‘হারিরি এখন সৌদি আরবে কারাবন্দি এবং নিজের দেশে ফিরতে পারছেন না। সৌদি আরব নিজের ইচ্ছা লেবানন সরকারের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। এখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে মধ্যে বিভেদের বীজ বোনার চেষ্টা করছে রিয়াদ এবং একদলকে অপরের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছে।’
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, ‘লেবাননে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য সৌদি আরব ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে কোটি কোটি ডলার খরচ করতে প্রস্তুত রয়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে সৌদি আরব লেবাননকে ধ্বংস করতে চায়। এই সৌদি আরবই ছিল ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রধান কারিগর।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, সাদ হারিরিকে আটক রেখে তাকে অপমান করা হয়েছে এবং এ অপমান গোটা লেবাননের জনগণের জন্য অপমান। তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে এবং এর কোনো মূল্য নেই। লেবাননের চলমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন পরিস্থিতি সামলে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তার কাজের ক্ষেত্রে সব দল ও মতের লোকজনকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান হাসান নাসরুল্লাহ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















