ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে: তারেক রহমান ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত’:আলী রিয়াজ পুরো বাংলাদেশের কাছে মির্জা আব্বাস বাহিনীর হামলার বিচার দিলাম: নাসীরুদ্দীন চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং ইলিয়াস মোল্লাহর জমি–গাড়ি–মার্কেট–ফ্ল্যাট জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ড নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ‘রাজনীতি শুধু ক্রিকেট নয়, গোটা মানবজাতির ক্ষতি করছে’: সাকলাইন মুশতাক ময়মনসিংহে জনসভায় যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে টেকনাফে দুই কিশোর আহত

রোববার নৌ পুলিশের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামীকাল রোববার নৌ পুলিশের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বরস্থ পুলিশ স্টাফ কলেজ কনভেনশন হলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে নৌ পুলিশের প্রধান ডিআইজি শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান বাসসকে বলেন, বর্তমান সরকার নৌ পথের নিরাপত্তায় ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর থেকে নৌ পুলিশের কার্যক্রম শুরু করে। তিনি বলেন, নদী পথে চোরাচালান, দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নদীর সম্পদ রক্ষায় নৌ পুলিশ নামে পুলিশের নতুন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। নৌপথের নিরাপত্তায় দেশের নৌ পুলিশ বিগত তিনবছরে ১ হাজার ৮৮২টি মামলা দায়ের এবং বিভিন্ন অভিযোগে ৫ হাজার ৫৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এসব অভিযানে দেশী-বিদেশী ৬৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এই সময়ে নৌ-পুলিশ ৫ হাজার ১৩৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, সাত কেজি হেরোইন, ১৮৩ কেজি গাঁজা, দুই হাজার ১৮৭ বোতল ফেন্সিডিল, প্রায় ৩৫ হাজার লিটার মদ এবং ৪০ কোটি ২৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১ লাখ কেজি জাটকা ইলিশ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে ৫৭ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মারুফ হাসান জানান, নদী পথ নিরাপদ রাখতে এবং নৌ পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ যেকোন সমস্যা দ্রুত সমাধানে দেশের ৬৪ জেলায় নৌ পুলিশে থানা ও ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নদীপথের নিরাপত্তায় ঢাকায় নৌ পুলিশের সদর দফতর করার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের নৌ পথকে ৮টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এ ভাগগুলো হচ্ছে- ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, খুলনা ও চট্টগ্রাম।

নৌ পুলিশের প্রধান জানান, অনুমোদিত ১৭টি নৌ থানা ও ১৪২টি নৌ ফাঁড়ির মধ্যে ১১টি নৌ থানা এবং ৬২টি নৌ ফাঁড়ি তাদের কার্যক্রম চালু করেছে। দেশের ৪০ শতাংশ মালামাল পরিবহন ও যাত্রী এখনো নৌ পথে চলাচল করে। নৌ পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নদীতে রয়েছে অফুরান্ত সম্পদ। নদী পথে চোরাচালান, দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধ ঘটতো। এসব কারণে নৌ পথের নিরাপত্তা, নদীর সম্পদ রক্ষাসহ নদীপথ কেন্দ্রীক অপরাধ নিয়ন্ত্রন ও নদী পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার।

নৌ-পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার ফরিদা পারভিন জানান, নৌ পুলিশে কর্মরত মোট জনবল রয়েছে ২ হাজার ৪শ’ ৭৪ জন। এর মধ্যে ডিআইজি একজন, অতিরিক্ত ডিআইজি ২ জন, পুলিশ সুপার ৬ জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১০ জন, সহকারি পুলিশ সুপার ১০ জন, পুলিশ পরিদর্শক ৬১ জন, এসআই ১৫৪ জন, এএসআই ২৬৫ জন, নায়েক ৯৬ জন, কনস্টেবল ৫৬২ জন। ফরিদা পারভিন বলেন, নৌ-পুলিশ সুন্দরবনসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে অবৈধভাবে হরিণ শিকার করার সরঞ্জাম, হরিণের চামড়া, অবৈধ শিকার ও অপরাধের কাজে ব্যবহৃত নৌকা-ট্রলার বন্যপ্রাণীসহ বিভিন্ন মালামালও উদ্ধার করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দোয়াই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেয়

রোববার নৌ পুলিশের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

আপডেট সময় ১০:৫৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামীকাল রোববার নৌ পুলিশের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বরস্থ পুলিশ স্টাফ কলেজ কনভেনশন হলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে নৌ পুলিশের প্রধান ডিআইজি শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান বাসসকে বলেন, বর্তমান সরকার নৌ পথের নিরাপত্তায় ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর থেকে নৌ পুলিশের কার্যক্রম শুরু করে। তিনি বলেন, নদী পথে চোরাচালান, দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নদীর সম্পদ রক্ষায় নৌ পুলিশ নামে পুলিশের নতুন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। নৌপথের নিরাপত্তায় দেশের নৌ পুলিশ বিগত তিনবছরে ১ হাজার ৮৮২টি মামলা দায়ের এবং বিভিন্ন অভিযোগে ৫ হাজার ৫৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এসব অভিযানে দেশী-বিদেশী ৬৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এই সময়ে নৌ-পুলিশ ৫ হাজার ১৩৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, সাত কেজি হেরোইন, ১৮৩ কেজি গাঁজা, দুই হাজার ১৮৭ বোতল ফেন্সিডিল, প্রায় ৩৫ হাজার লিটার মদ এবং ৪০ কোটি ২৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১ লাখ কেজি জাটকা ইলিশ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে ৫৭ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মারুফ হাসান জানান, নদী পথ নিরাপদ রাখতে এবং নৌ পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ যেকোন সমস্যা দ্রুত সমাধানে দেশের ৬৪ জেলায় নৌ পুলিশে থানা ও ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নদীপথের নিরাপত্তায় ঢাকায় নৌ পুলিশের সদর দফতর করার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের নৌ পথকে ৮টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এ ভাগগুলো হচ্ছে- ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, খুলনা ও চট্টগ্রাম।

নৌ পুলিশের প্রধান জানান, অনুমোদিত ১৭টি নৌ থানা ও ১৪২টি নৌ ফাঁড়ির মধ্যে ১১টি নৌ থানা এবং ৬২টি নৌ ফাঁড়ি তাদের কার্যক্রম চালু করেছে। দেশের ৪০ শতাংশ মালামাল পরিবহন ও যাত্রী এখনো নৌ পথে চলাচল করে। নৌ পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নদীতে রয়েছে অফুরান্ত সম্পদ। নদী পথে চোরাচালান, দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধ ঘটতো। এসব কারণে নৌ পথের নিরাপত্তা, নদীর সম্পদ রক্ষাসহ নদীপথ কেন্দ্রীক অপরাধ নিয়ন্ত্রন ও নদী পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার।

নৌ-পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার ফরিদা পারভিন জানান, নৌ পুলিশে কর্মরত মোট জনবল রয়েছে ২ হাজার ৪শ’ ৭৪ জন। এর মধ্যে ডিআইজি একজন, অতিরিক্ত ডিআইজি ২ জন, পুলিশ সুপার ৬ জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১০ জন, সহকারি পুলিশ সুপার ১০ জন, পুলিশ পরিদর্শক ৬১ জন, এসআই ১৫৪ জন, এএসআই ২৬৫ জন, নায়েক ৯৬ জন, কনস্টেবল ৫৬২ জন। ফরিদা পারভিন বলেন, নৌ-পুলিশ সুন্দরবনসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে অবৈধভাবে হরিণ শিকার করার সরঞ্জাম, হরিণের চামড়া, অবৈধ শিকার ও অপরাধের কাজে ব্যবহৃত নৌকা-ট্রলার বন্যপ্রাণীসহ বিভিন্ন মালামালও উদ্ধার করেছে।