ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোরে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে নাটোরের শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালের বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) হাসানুজ্জামান এই দণ্ডাদেশ দেন।

ট্রাইবুন্যাল সূত্রে জানা গেছে, বাবা কামরুজ্জামান বড়াইগ্রাম উপজেলার নটাবাড়িয়া উপজেলার সরদার বয়েত রেজার ছেলে। তিনি ঘটনার সময় কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সৈনিক ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি নিজ নাবালিকা (১১) মেয়েকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে ঘটনাটি না জানানোর জন্য হত্যার হুমকি দেন। পরবর্তীতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। তদন্তকালে মেয়েটির পরিধেয় (ঘটনার সময়ের) পোশাকের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়।

একইসঙ্গে তার বাবা ও মায়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েটির পোশাকে বাবার বীর্জের অস্তীত্ব পাওয়া যায়। আদালতের সাক্ষ্য প্রমাণ ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল যাচাই-বাছাই করে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের তৎকালীন সৈনিক কামরুজ্জামান বাড়িতে যান। সন্ধ্যার পর একমাত্র মেয়েকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়ে একপর্যায়ে তিনি উপজেলার সুতিরপাড়-ন্যাংটাদহের নির্জন রাস্তায় যান। সেখানে মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন। রাত সোয়া আটটার দিকে মেয়েকে বনপাড়ার ভাড়া বাসায় আসলে মেয়েটি তার পরনের সালোয়ার বদলায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে।

পরে তার মা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনা জানতে পারেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় মেয়র, কাউন্সিলরসহ প্রতিবেশীদের জানালে তারা মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। পরে কামারুজ্জামানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলা হলে উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সময় মেয়েটির পরনের কাপড়ের রাসয়নিক পরীক্ষা করান। একইসঙ্গে বাবা ও মায়ের রক্তের রাসায়নিক পরীক্ষা করান। এ পরীক্ষায় মেয়েটির পোশাকে বাবার বীর্য পাওয়া যায়।

মামলাটি নাটোরের শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালে বিচারে আসলে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার দুপুরে আদালতের বিচারক হাসানুজ্জামান আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে আদালত ঘটনাটিকে জঘন্য ও বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি এটাকে সমাজের চরম অবক্ষয় বলেও মন্তব্য করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন। রায়ের পর তাকে নাটোর কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসলী একেএম শাহাজাহান কবির সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আসামি পৈশাচিক অপরাধ করেছে। তার বিরুদ্ধে দেয়া দণ্ডাদেশ সমাজে নীতিনৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীত, প্রমাণিত হয় নি। তার মক্কেল রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ১১:২১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোরে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে নাটোরের শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালের বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) হাসানুজ্জামান এই দণ্ডাদেশ দেন।

ট্রাইবুন্যাল সূত্রে জানা গেছে, বাবা কামরুজ্জামান বড়াইগ্রাম উপজেলার নটাবাড়িয়া উপজেলার সরদার বয়েত রেজার ছেলে। তিনি ঘটনার সময় কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সৈনিক ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি নিজ নাবালিকা (১১) মেয়েকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে ঘটনাটি না জানানোর জন্য হত্যার হুমকি দেন। পরবর্তীতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। তদন্তকালে মেয়েটির পরিধেয় (ঘটনার সময়ের) পোশাকের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়।

একইসঙ্গে তার বাবা ও মায়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েটির পোশাকে বাবার বীর্জের অস্তীত্ব পাওয়া যায়। আদালতের সাক্ষ্য প্রমাণ ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল যাচাই-বাছাই করে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের তৎকালীন সৈনিক কামরুজ্জামান বাড়িতে যান। সন্ধ্যার পর একমাত্র মেয়েকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়ে একপর্যায়ে তিনি উপজেলার সুতিরপাড়-ন্যাংটাদহের নির্জন রাস্তায় যান। সেখানে মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন। রাত সোয়া আটটার দিকে মেয়েকে বনপাড়ার ভাড়া বাসায় আসলে মেয়েটি তার পরনের সালোয়ার বদলায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে।

পরে তার মা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনা জানতে পারেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় মেয়র, কাউন্সিলরসহ প্রতিবেশীদের জানালে তারা মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। পরে কামারুজ্জামানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলা হলে উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সময় মেয়েটির পরনের কাপড়ের রাসয়নিক পরীক্ষা করান। একইসঙ্গে বাবা ও মায়ের রক্তের রাসায়নিক পরীক্ষা করান। এ পরীক্ষায় মেয়েটির পোশাকে বাবার বীর্য পাওয়া যায়।

মামলাটি নাটোরের শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালে বিচারে আসলে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার দুপুরে আদালতের বিচারক হাসানুজ্জামান আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে আদালত ঘটনাটিকে জঘন্য ও বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি এটাকে সমাজের চরম অবক্ষয় বলেও মন্তব্য করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন। রায়ের পর তাকে নাটোর কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসলী একেএম শাহাজাহান কবির সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আসামি পৈশাচিক অপরাধ করেছে। তার বিরুদ্ধে দেয়া দণ্ডাদেশ সমাজে নীতিনৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীত, প্রমাণিত হয় নি। তার মক্কেল রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন।