ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

কী হচ্ছে সৌদি আরবে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দুর্নীতির অভিযোগে গত শনিবার সৌদি ধনকুবের প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালালসহ ১৭ প্রিন্স ও ৪ মন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া অনেককে তাদের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে নৌবাহিনী প্রধান এবং জাতীয় গার্ডের প্রধানও রয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এর আগে সৌদি বাদশাহ সালমান এক ডিক্রির মাধ্যমে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রধান করে নতুন দুর্নীতি দমন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই প্রিন্স, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের গ্রেফতার এবং শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ঘটনা ঘটে। আল আরাবিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে জেদ্দায় বন্যার সময় দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়। সম্প্রতি সেই কমিশনের নেতৃত্ব পান প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপরই তিনি গ্রেফতার অভিযানের উদ্যোগ নেন।

সৌদির সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল জনতার স্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয় তা দেখা, দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি দেয়া এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, দেশটির ওপর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বর্তমানে ক্ষমতাধর হলেও ২০১৫ সালের আগে খুব কম মানুষই তার নাম জানতেন। ওই বছর তার বাবা সালমান বিন আবদুল আজিজ সৌদি বাদশাহর সিংহাসনে বসেন। এসময় তিনি নিজের ভাইপো মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ দেন। আর মোহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই সঙ্গে প্রিন্স সালমান সৌদি আরবের অর্থনীতি এবং উন্নয়ন বিষয়ক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান।

মোহাম্মদ বিন সালমান ২০৩০ সালকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দেশের বাইরে তিনি তার বাবা সালমান বিন আবদুল আজিজের প্রতিনিধিত্ব করে বেইজিং ও ওয়াশিংটন সফর করেন। এসময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত ২১ জুন সৌদি বাদশাহ উত্তরসূরীর পদ থেকে নিজের ভাইপো মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে মোহাম্দ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন।

আল জাজিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুবরাজ হওয়ার পর দেশে বেশ কিছু সংস্কার করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। যেমন, কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটিতে মেয়েদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তিনি রক্ষণশীল মনোভাব পরিবর্তন করে দেশে আধুনিক ইসলাম কায়েম করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা দেশের জনগণ ইতিবাচকভাবে নেয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি পরিবর্তন আনেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সৌদি সরকার গত বছর ভিশন ২০৩০ নামে যে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এর পেছনে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি পরামর্শকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে এও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ ও তাকে ঘিরে থাকা লোকজন ভাল করেই জানেন, একদিন তাদের তেল কূপগুলো শুকিয়ে যাবে। হয়তো খুব দ্রুতই ইলেকট্রিক কারের প্রচলন ঘটবে। তখন তেলের চাহিদাও কমে যাবে।

এদিকে আল জাজিরার রাজনীতি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, যুবরাজ সালমান যে দ্রুতই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন, সেটা আড়াই বছর ধরে বোঝা যাচ্ছে। কেননা এই সময়ে বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ সালমান দু’জনেই দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। তবে গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আনা পরিবর্তন কখনোই ভালো পরিকল্পনা হতে পারে না। এটা দেশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, রাজপরিবারে নিজের আধিপত্য বিস্তারের জন্যই সৌদি প্রিন্স এমনটা করেছেন। পাশাপিাশি সেনাবাহিনী ও ন্যশনাল গার্ডকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়াই গ্রেফতার অভিযানে মূল উদ্দেশ্য; এখানে দুর্নীতি দমন কোন বিষয় নয়। ক্ষমতা দখলের আগে নিজের আধিপত্য বিস্তার নাকি আধুনিক রাষ্ট্র তৈরির লক্ষ্যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এগিয়ে চলেছেন তা সময়ই বলে দেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

কী হচ্ছে সৌদি আরবে

আপডেট সময় ১১:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দুর্নীতির অভিযোগে গত শনিবার সৌদি ধনকুবের প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালালসহ ১৭ প্রিন্স ও ৪ মন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া অনেককে তাদের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে নৌবাহিনী প্রধান এবং জাতীয় গার্ডের প্রধানও রয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এর আগে সৌদি বাদশাহ সালমান এক ডিক্রির মাধ্যমে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রধান করে নতুন দুর্নীতি দমন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই প্রিন্স, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের গ্রেফতার এবং শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ঘটনা ঘটে। আল আরাবিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে জেদ্দায় বন্যার সময় দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়। সম্প্রতি সেই কমিশনের নেতৃত্ব পান প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপরই তিনি গ্রেফতার অভিযানের উদ্যোগ নেন।

সৌদির সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল জনতার স্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয় তা দেখা, দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি দেয়া এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, দেশটির ওপর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বর্তমানে ক্ষমতাধর হলেও ২০১৫ সালের আগে খুব কম মানুষই তার নাম জানতেন। ওই বছর তার বাবা সালমান বিন আবদুল আজিজ সৌদি বাদশাহর সিংহাসনে বসেন। এসময় তিনি নিজের ভাইপো মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ দেন। আর মোহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই সঙ্গে প্রিন্স সালমান সৌদি আরবের অর্থনীতি এবং উন্নয়ন বিষয়ক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান।

মোহাম্মদ বিন সালমান ২০৩০ সালকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দেশের বাইরে তিনি তার বাবা সালমান বিন আবদুল আজিজের প্রতিনিধিত্ব করে বেইজিং ও ওয়াশিংটন সফর করেন। এসময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত ২১ জুন সৌদি বাদশাহ উত্তরসূরীর পদ থেকে নিজের ভাইপো মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে মোহাম্দ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন।

আল জাজিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুবরাজ হওয়ার পর দেশে বেশ কিছু সংস্কার করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। যেমন, কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটিতে মেয়েদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তিনি রক্ষণশীল মনোভাব পরিবর্তন করে দেশে আধুনিক ইসলাম কায়েম করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা দেশের জনগণ ইতিবাচকভাবে নেয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি পরিবর্তন আনেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সৌদি সরকার গত বছর ভিশন ২০৩০ নামে যে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এর পেছনে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি পরামর্শকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে এও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ ও তাকে ঘিরে থাকা লোকজন ভাল করেই জানেন, একদিন তাদের তেল কূপগুলো শুকিয়ে যাবে। হয়তো খুব দ্রুতই ইলেকট্রিক কারের প্রচলন ঘটবে। তখন তেলের চাহিদাও কমে যাবে।

এদিকে আল জাজিরার রাজনীতি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, যুবরাজ সালমান যে দ্রুতই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন, সেটা আড়াই বছর ধরে বোঝা যাচ্ছে। কেননা এই সময়ে বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ সালমান দু’জনেই দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। তবে গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আনা পরিবর্তন কখনোই ভালো পরিকল্পনা হতে পারে না। এটা দেশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, রাজপরিবারে নিজের আধিপত্য বিস্তারের জন্যই সৌদি প্রিন্স এমনটা করেছেন। পাশাপিাশি সেনাবাহিনী ও ন্যশনাল গার্ডকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়াই গ্রেফতার অভিযানে মূল উদ্দেশ্য; এখানে দুর্নীতি দমন কোন বিষয় নয়। ক্ষমতা দখলের আগে নিজের আধিপত্য বিস্তার নাকি আধুনিক রাষ্ট্র তৈরির লক্ষ্যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এগিয়ে চলেছেন তা সময়ই বলে দেবে।