ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষা আইন হচ্ছে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বাধীনতার ৪৬ বছরে এসে আকাশপথে যাত্রী, ব্যাগেজ ও মালামাল সুরক্ষায় আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি। এটি বাস্তবায়ন হলে যে কোনও এয়ারলাইন্সের কারণে যাত্রী কিংবা তাদের পণ্যের ক্ষতির জন্য জরিমানা আদায়সহ অন্যান্য বিষয়েও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ‘আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষা’ আইনটির খসড়া জমা দিয়েছে সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সব পদ্ধতি অনসুরণ করে আইন হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে এই আইন। ফলে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সুরক্ষা নিশ্চিত হবে আরও বেশি।’

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষা আইন না থাকায় ও দীর্ঘদিন ধরে মন্ট্রিল কনভেনশন (যাত্রী সুবিধা) অনুসরণ না করায় এয়ারলাইন্সগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির জন্য জরিমানা করা যায় না। ফলে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি ভাবমূর্তির সংকটও বাড়ছে।

এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ওয়ারসো কনভেনশন ও মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানায় ওই সূত্র। তাদের অভিমত, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নের জন্য সুরক্ষা আইনও দরকার।

সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা যায়, আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষায় বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশ ১৯৯৯ সালের মন্ট্রিল কনভেনশন অনুসরণ করে। বাংলাদেশে অনুসরণ করা হয় ১৯২৯ সালের ওয়ারসো কনভেনশন।

মন্ট্রিল কনভেনশনের আওতায় কোনও পণ্য হারালে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হয় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে।

অন্যদিকে ওয়ারসো কনভেনশন অনুযায়ী কোনও পণ্য হারালে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারমূল্যের পরিবর্তে পণ্যের ওজনের (প্রতি কেজি ২০ ডলার) ভিত্তিতে দেওয়া হয় ক্ষতিপূরণ। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে মন্ট্রিল কনভেনশনে স্বাক্ষর করলেও এখন পর্যন্ত তা র‍্যাটিফাই করেনি।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষা আইন না থাকা ও মন্ট্রিল কনভেনশন অনুসরণ না করায় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী, ব্যাগেজ ও পণ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দেয় কম।

কোনও যাত্রীর ব্যাগ বা মালামাল হারানো গেলে পণ্যের বাজারমূল্যের পরিবর্তে কেজিপ্রতি ক্ষতিপূরণ দেয় ২০ ডলার। ‍উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চার লাখ টাকা মূল্যের আধা কেজি ওজনের ক্যামেরা হারালেও ১০ ডলার (কেজিপ্রতি ২০ ডলার হারে) ক্ষতিপূরণ দেয় এয়ারলাইন্সগুলো।

সূত্র জানায়— খসড়া আইনে যাত্রী, মালামাল, কার্গোর সুরক্ষায় ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে যা পরিশোধ করবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স। এছাড়া উড়োজাহাজে ভ্রমণে কোনও যাত্রী আহত বা নিহত হলেও কিংবা আকাশপথে কার্গোর পণ্য হারানো গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ‘নিরাপদে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে আমরা সবসময় সতর্ক। যাত্রীদের কোনও ব্যাগের ক্ষয়ক্ষতি হলে ওয়ারসো কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সরকার কোনও আইন করলে সেই অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকে বিমান।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষা আইন হচ্ছে

আপডেট সময় ০২:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বাধীনতার ৪৬ বছরে এসে আকাশপথে যাত্রী, ব্যাগেজ ও মালামাল সুরক্ষায় আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি। এটি বাস্তবায়ন হলে যে কোনও এয়ারলাইন্সের কারণে যাত্রী কিংবা তাদের পণ্যের ক্ষতির জন্য জরিমানা আদায়সহ অন্যান্য বিষয়েও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ‘আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষা’ আইনটির খসড়া জমা দিয়েছে সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সব পদ্ধতি অনসুরণ করে আইন হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে এই আইন। ফলে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সুরক্ষা নিশ্চিত হবে আরও বেশি।’

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষা আইন না থাকায় ও দীর্ঘদিন ধরে মন্ট্রিল কনভেনশন (যাত্রী সুবিধা) অনুসরণ না করায় এয়ারলাইন্সগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির জন্য জরিমানা করা যায় না। ফলে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি ভাবমূর্তির সংকটও বাড়ছে।

এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ওয়ারসো কনভেনশন ও মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানায় ওই সূত্র। তাদের অভিমত, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নের জন্য সুরক্ষা আইনও দরকার।

সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা যায়, আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষায় বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশ ১৯৯৯ সালের মন্ট্রিল কনভেনশন অনুসরণ করে। বাংলাদেশে অনুসরণ করা হয় ১৯২৯ সালের ওয়ারসো কনভেনশন।

মন্ট্রিল কনভেনশনের আওতায় কোনও পণ্য হারালে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হয় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে।

অন্যদিকে ওয়ারসো কনভেনশন অনুযায়ী কোনও পণ্য হারালে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারমূল্যের পরিবর্তে পণ্যের ওজনের (প্রতি কেজি ২০ ডলার) ভিত্তিতে দেওয়া হয় ক্ষতিপূরণ। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে মন্ট্রিল কনভেনশনে স্বাক্ষর করলেও এখন পর্যন্ত তা র‍্যাটিফাই করেনি।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে আকাশপথে পরিবহন সুরক্ষা আইন না থাকা ও মন্ট্রিল কনভেনশন অনুসরণ না করায় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী, ব্যাগেজ ও পণ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দেয় কম।

কোনও যাত্রীর ব্যাগ বা মালামাল হারানো গেলে পণ্যের বাজারমূল্যের পরিবর্তে কেজিপ্রতি ক্ষতিপূরণ দেয় ২০ ডলার। ‍উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চার লাখ টাকা মূল্যের আধা কেজি ওজনের ক্যামেরা হারালেও ১০ ডলার (কেজিপ্রতি ২০ ডলার হারে) ক্ষতিপূরণ দেয় এয়ারলাইন্সগুলো।

সূত্র জানায়— খসড়া আইনে যাত্রী, মালামাল, কার্গোর সুরক্ষায় ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে যা পরিশোধ করবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স। এছাড়া উড়োজাহাজে ভ্রমণে কোনও যাত্রী আহত বা নিহত হলেও কিংবা আকাশপথে কার্গোর পণ্য হারানো গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ‘নিরাপদে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে আমরা সবসময় সতর্ক। যাত্রীদের কোনও ব্যাগের ক্ষয়ক্ষতি হলে ওয়ারসো কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সরকার কোনও আইন করলে সেই অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকে বিমান।’