ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ভারতের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রামনাথ কোবিন্দ, ফল বৃহস্পতিবার

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দই হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি। বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বিদায়ের পর তিনি হবেন রাইসিনা হিলসের পরবর্তী বাসিন্দা। সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটের ফল প্রকাশ না হলেও ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় কোবিন্দের জয় শুরু থেকেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল শুধু ভোট ও ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত ভোট দেন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভার সাংসদ এবং রাজ্যের বিধানসভাগুলোর বিধায়করা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভোটের আনুষ্ঠানিকতা। বাকি রইলো শুধু ফল প্রকাশ, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার। জয়ী প্রার্থী আগামী ২৫ জুলাই শপথ নেবেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বিদায় নেবেন। রাইসিনা হিল ছেড়ে চলে যাবেন রাজাজি মার্গে। এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রামনাথের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পার্লামেন্টর সাবেক স্পিকার মীরা কুমার। কংগ্রেসসহ ১৬টি বিরোধী দল তাকে সমর্থন জানায়।

সম্ভাব্য ভোটসংখ্যার বিচারে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই দৌড়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন বিহারের সাবেক রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দ। বিজেপির বিশাল ভোটব্যাংক ছিল কোবিন্দের সমর্থনে। বলা হচ্ছিল, এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর পক্ষে ৫,৩৭,৬৮৩ ভোট রয়েছে। ভোটের এই সংখ্যা ‘ম্যাজিক ফিগার’ থেকে প্রায় ১২ হাজার কমলেও তা কোবিন্দের জয়ের পথে কোনো বাধা হবে না। ভোটের আগ মুহূর্তেও তার জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তাদের আশা, ভারতের অন্তত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে তাদের প্রার্থী কোবিন্দ জয়ী হবেন।

সোমবার সকালের দিকে নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্টে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, ফল প্রকাশের আগেই কোবিন্দকে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটাভুটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। সম্ভবত এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে কোনো পক্ষই অশালীন মন্তব্য করেননি, যা তাদের মর্যাদাহানি ঘটায়।’ সকালের দিকেই ভোট দেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং অন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। এবারের নির্বাচনে বিরোধীদের মধ্যে এনডিএ জোটের প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়ায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল, দক্ষিণ ভারতের এআইএডিএমকে, অন্ধ্রের তেলগু দেশম, তেলেঙ্গানার রাষ্ট্রীয় সমিতি, ওয়াইএস কংগ্রেসসহ আরও অনেক দল।

এদিকে কোবিন্দের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি হলেও এই শেষ আশায় ভর করে ভোট দিলেন বিরোধী দলী কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সহসভাপতি রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী এমপি-বিধায়করা। প্রার্থী মীরা কুমারকে জয়ী করার জোর চেষ্টা করেন কংগ্রেস নেত্রী। লড়াইয়ে দলীয় সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালান সোনিয়া গান্ধী। মীরা কুমারের পক্ষে ছিল কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী, বহুজন সমাজসহ ১৬টি রাজনৈতিক দল। সোনিয়া গান্ধী পার্লামেন্ট সদস্যদের এক সভায় আগেই বলেছিলেন, সংখ্যার বিচারে এনডিএ এগিয়ে আছে। তবে এটা আসলে সংখ্যার নয়, আদর্শের লড়াই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ভারতের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রামনাথ কোবিন্দ, ফল বৃহস্পতিবার

আপডেট সময় ০৩:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দই হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি। বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বিদায়ের পর তিনি হবেন রাইসিনা হিলসের পরবর্তী বাসিন্দা। সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটের ফল প্রকাশ না হলেও ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় কোবিন্দের জয় শুরু থেকেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল শুধু ভোট ও ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত ভোট দেন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভার সাংসদ এবং রাজ্যের বিধানসভাগুলোর বিধায়করা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভোটের আনুষ্ঠানিকতা। বাকি রইলো শুধু ফল প্রকাশ, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার। জয়ী প্রার্থী আগামী ২৫ জুলাই শপথ নেবেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বিদায় নেবেন। রাইসিনা হিল ছেড়ে চলে যাবেন রাজাজি মার্গে। এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রামনাথের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পার্লামেন্টর সাবেক স্পিকার মীরা কুমার। কংগ্রেসসহ ১৬টি বিরোধী দল তাকে সমর্থন জানায়।

সম্ভাব্য ভোটসংখ্যার বিচারে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই দৌড়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন বিহারের সাবেক রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দ। বিজেপির বিশাল ভোটব্যাংক ছিল কোবিন্দের সমর্থনে। বলা হচ্ছিল, এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর পক্ষে ৫,৩৭,৬৮৩ ভোট রয়েছে। ভোটের এই সংখ্যা ‘ম্যাজিক ফিগার’ থেকে প্রায় ১২ হাজার কমলেও তা কোবিন্দের জয়ের পথে কোনো বাধা হবে না। ভোটের আগ মুহূর্তেও তার জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তাদের আশা, ভারতের অন্তত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে তাদের প্রার্থী কোবিন্দ জয়ী হবেন।

সোমবার সকালের দিকে নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্টে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, ফল প্রকাশের আগেই কোবিন্দকে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটাভুটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। সম্ভবত এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে কোনো পক্ষই অশালীন মন্তব্য করেননি, যা তাদের মর্যাদাহানি ঘটায়।’ সকালের দিকেই ভোট দেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং অন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। এবারের নির্বাচনে বিরোধীদের মধ্যে এনডিএ জোটের প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়ায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল, দক্ষিণ ভারতের এআইএডিএমকে, অন্ধ্রের তেলগু দেশম, তেলেঙ্গানার রাষ্ট্রীয় সমিতি, ওয়াইএস কংগ্রেসসহ আরও অনেক দল।

এদিকে কোবিন্দের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি হলেও এই শেষ আশায় ভর করে ভোট দিলেন বিরোধী দলী কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সহসভাপতি রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী এমপি-বিধায়করা। প্রার্থী মীরা কুমারকে জয়ী করার জোর চেষ্টা করেন কংগ্রেস নেত্রী। লড়াইয়ে দলীয় সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালান সোনিয়া গান্ধী। মীরা কুমারের পক্ষে ছিল কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী, বহুজন সমাজসহ ১৬টি রাজনৈতিক দল। সোনিয়া গান্ধী পার্লামেন্ট সদস্যদের এক সভায় আগেই বলেছিলেন, সংখ্যার বিচারে এনডিএ এগিয়ে আছে। তবে এটা আসলে সংখ্যার নয়, আদর্শের লড়াই।