অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অক্টোবর মাসে নবজাতকসহ পাঁচটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই খুনের ঘটনাগুলি ঘটে। এ অবস্থায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নাগরপাড়া গ্রামে গাভীতে ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে রঞ্জু মিয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে প্রতিবেশীরা বাড়িতে ডেকে নিয়ে বেধরক পিটিয়ে আহত করে। পরি তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। রঞ্জু মিয়ার বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এক মাস পার হলেও ওই হত্যার সাথে জড়িত কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
১০ অক্টোবর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়া গ্রামের যুবক শাকিল নিখোঁজ হয়। পুলিশ তিনদিন পর পার্শ্ববর্তী রানাশাল গ্রামের চকের মধ্য থেকে শাকিলের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ওই মামলায় মেহেদি হাসান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেন। ওই যুবক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা উত্তর পাড়া গ্রামের মানিক হোসেনের স্ত্রী রিনা বেগম পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে গর্ভবতী হয়। রিনা বেগম তার ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মুশুরিয়াগোনা গ্রামে গিয়ে ১৭ অক্টোবর অবৈধ সন্তান প্রসবের পরই গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা শিশু বাচ্চাটিকে উদ্দার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধায় শিশুটি মারা যায়। পুলিশ ওই ঘটনায় পাষন্ড মা রিনা বেগম এবং তার পরকীয়া প্রেমিক শিপন খানকে গ্রেফতার জেল হাজতে পাঠায়।
২৬ অক্টোবর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের ভাবখন্ড গ্রামের মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী ফিরোজ মিয়া কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা ফটিক মিয়াকে হত্যা করে। পুলিশ ফিরোজকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। সেও আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সর্বশেষ ২৯ অক্টোবর মির্জাপুর থানা পুলিশ নিখোঁজের ১১ দিন পর জামুর্কী ইউনিয়নের গোড়ান গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সুবেদার মেজর আব্দুল মালেকের গলিত মৃতদেহ একই ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়া এলাকার ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক জানান, তিনিটি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে দুটি মামলার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অন্য ঘটনাগুলির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















