অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নওগাঁর মান্দায় পর্নোগ্রাফি আইনে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আলী আহসান মুজাহিদ (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্বামী মুজাহিদ উপজেলার চকখোপা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মুজাহিদের স্ত্রী রিনা আক্তার সুমি বাদী হয়ে গত ২৫ অক্টোবর নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী মুজাহিদসহ তার দুই বন্ধুকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন- উপজেলার খুদিয়াডাঙ্গা প্রামানিকপাড়া গ্রামের মতিউর রহমান মতির ছেলে নবাব আলী ও নুরুল্লাবাদ গ্রামের এরশাদ আলী শাহের ছেলে মিজানুর রহমান।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার এলেঙ্গা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রিনা আক্তার সুমির সঙ্গে গত বছরের ২০ নভেম্বর চকখোপা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আলী আহসান মুজাহিদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বিভিন্ন দৃশ্য গোপনে মোবাইলফোনে ধারণ করে রেখেছিলেন স্বামী মুজাহিদ। সম্প্রতি যৌতুকের দাবি করে সুমির ওপর মুজাহিদ বিভিন্নভাবে নিপীড়ন-নির্যাতন শুরু করেন। তার দাবি বাবার বাড়ি থেকে সুমিকে এনে দিতে হবে পাঁচ লাখ টাকা।
কিন্তু সুমি ও তার পরিবার যৌতুকের এ দাবি পূরণ করতে অস্বীকার করলে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় তার স্বামী মুজাহিদ। এমনকি গোপনে ভিডিও করা স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখিয়েও সুমিকে যৌতুকের জন্য জিম্মি করা হয়। এতেও যৌতুকের টাকা আদায় করতে না পেরে স্বামী মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গোপন ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দেয়।
সুমি দম্পতির এ ছবিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মোবাইলফোন ব্যবহারকারীদের হাতে হাতে। মুজাহিদের দুই বন্ধু নবাব ও মিজানুর এ ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দেয়ার কাজে সহযোগিতা করে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিনা আক্তার সুমী বাদি হয়ে গত ২৫ অক্টোবর নওগাঁ নারী ও শিশু আদালতে স্বামী মুজাহিদসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি রেকর্ড করে মান্দা থানাকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনামাসহ মামলাটি হাতে পাওয়ার পর আসামি মুজাহিদকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















