ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মাঝ আকাশে ছিনতাইয়ের কবলে আমিরাতের উড়োজাহাজ: বীরত্বের গল্প প্রকাশ্যে

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েছিল। ওমানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজটির ককপিটে হঠাৎ এক চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড়ে চলা উড়োজাহাজটিতে থাকা একজন পাইলট ককপিটে থাকা কুঠার সদৃশ সরঞ্জাম ‘ক্র্যাশ এক্স’ দিয়ে স্মিথ মছার নামে আরেক পাইলটের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান। এবার ওই দুই পাইলটের নামও প্রকাশ্যে এসেছে। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় সহ–পাইলট ‘ক্র্যাশ এক্স’ (ককপিটে রাখা কুঠারের মতো সরঞ্জাম) দিয়ে হঠাৎ স্মিথ মছারের ওপর হামলা করেন। ‘মনে হচ্ছিল উড়োজাহাজ না, রোলারকোস্টার, হুড়মুড়িয়ে নিচে নামছিল’। পাইলট, মিস্ত্রি, দন্তচিকিৎসক—কার কার চেষ্টায় রক্ষা পেল ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজটি।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, হামলাকারী ওই যাত্রী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন, যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার দ্বারা অনুপ্রাণিত। এই আকস্মিক হামলায় উড়োজাহাজটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। পাইলট স্মিথ মছার জানান, প্রথম আঘাত পাওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন উড়োজাহাজের কাঠামোয় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে, তবে মুহূর্তের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের ককপিটে মহাহট্টগোল। তিনি ‘কট্টর ইসলামপন্থী’ মতাদর্শে বিশ্বাসী।

রক্তাক্ত অবস্থায়ও স্মিথ মছার অসীম সাহসের পরিচয় দেন। রক্তাক্ত হলেও নিয়ন্ত্রণ ছাড়েননি তিনি।

ককপিটের দরজা খোলার পর তাঁকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকা উড়োজাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন যাত্রী হিসেবে থাকা ইয়ানিভ হায়ুন।

তিনি জানান, হামলাকারীকে টেনে বের করে তিনি উড়োজাহাজের স্টিয়ারিং বা ইয়োক চেপে ধরলে বিমানটি কিছুটা সোজা করা সম্ভব হয়। এর ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় বিমানটি এবং সেটিকে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। আক্রান্ত পাইলট স্মিথের সাহসিকতায় ঠেকানো যায় হামলাকারীকে।

এই সংকটে অন্যদের মতো সাহসিকতা দেখিয়েছেন ছুটিতে থাকা দুই পাইলট—ফিজির হেনসন স্টিভেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রোয়ান টুথ। হেনসন এর আগে ফিজি এয়ারওয়েজে এবং রোয়ান ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এয়ারলিংকে দায়িত্ব পালন করেছেন। সৌদি আরব থেকে উড়োজাহাজটি ফেরত আনার পথেও এই দুই পাইলট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ ঘটনায় ভারতীয় পাইলট স্মিথ মছারের সাহসিকতা দেশে–বিদেশে প্রশংসায় ভেসেছে। পরে উড়োজাহাজের যাত্রীর আসনে থাকা দুজন পাইলট এগিয়ে এসে দায়িত্ব নেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল–নাহিয়ান গত সপ্তাহে হেনসন, রোয়ান ও সংশ্লিষ্ট ক্রুদের যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অসামান্য সাহসিকতার জন্য বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছেন। গুরুতর আহত পাইলট স্মিথ মছারকেও দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দেওয়া হয়। আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিথ জানান, সুস্থ হতে তাঁর অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র জানান, হামলাকারী ওমানের নাগরিক এবং তিনি চরম কট্টরপন্থী মতাদর্শী। তবে এই নাশকতার পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণের পর ওই পাইলট ও সাহসী যাত্রীদের ভূমিকার বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। এ ঘটনায় ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের সকল ক্রু এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তাঁর এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানা যায়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে এমবিবিএস ও বিডিএস পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

মাঝ আকাশে ছিনতাইয়ের কবলে আমিরাতের উড়োজাহাজ: বীরত্বের গল্প প্রকাশ্যে

আপডেট সময় ০৪:০৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েছিল। ওমানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজটির ককপিটে হঠাৎ এক চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড়ে চলা উড়োজাহাজটিতে থাকা একজন পাইলট ককপিটে থাকা কুঠার সদৃশ সরঞ্জাম ‘ক্র্যাশ এক্স’ দিয়ে স্মিথ মছার নামে আরেক পাইলটের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান। এবার ওই দুই পাইলটের নামও প্রকাশ্যে এসেছে। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় সহ–পাইলট ‘ক্র্যাশ এক্স’ (ককপিটে রাখা কুঠারের মতো সরঞ্জাম) দিয়ে হঠাৎ স্মিথ মছারের ওপর হামলা করেন। ‘মনে হচ্ছিল উড়োজাহাজ না, রোলারকোস্টার, হুড়মুড়িয়ে নিচে নামছিল’। পাইলট, মিস্ত্রি, দন্তচিকিৎসক—কার কার চেষ্টায় রক্ষা পেল ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজটি।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, হামলাকারী ওই যাত্রী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন, যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার দ্বারা অনুপ্রাণিত। এই আকস্মিক হামলায় উড়োজাহাজটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। পাইলট স্মিথ মছার জানান, প্রথম আঘাত পাওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন উড়োজাহাজের কাঠামোয় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে, তবে মুহূর্তের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের ককপিটে মহাহট্টগোল। তিনি ‘কট্টর ইসলামপন্থী’ মতাদর্শে বিশ্বাসী।

রক্তাক্ত অবস্থায়ও স্মিথ মছার অসীম সাহসের পরিচয় দেন। রক্তাক্ত হলেও নিয়ন্ত্রণ ছাড়েননি তিনি।

ককপিটের দরজা খোলার পর তাঁকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকা উড়োজাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন যাত্রী হিসেবে থাকা ইয়ানিভ হায়ুন।

তিনি জানান, হামলাকারীকে টেনে বের করে তিনি উড়োজাহাজের স্টিয়ারিং বা ইয়োক চেপে ধরলে বিমানটি কিছুটা সোজা করা সম্ভব হয়। এর ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় বিমানটি এবং সেটিকে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। আক্রান্ত পাইলট স্মিথের সাহসিকতায় ঠেকানো যায় হামলাকারীকে।

এই সংকটে অন্যদের মতো সাহসিকতা দেখিয়েছেন ছুটিতে থাকা দুই পাইলট—ফিজির হেনসন স্টিভেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রোয়ান টুথ। হেনসন এর আগে ফিজি এয়ারওয়েজে এবং রোয়ান ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এয়ারলিংকে দায়িত্ব পালন করেছেন। সৌদি আরব থেকে উড়োজাহাজটি ফেরত আনার পথেও এই দুই পাইলট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ ঘটনায় ভারতীয় পাইলট স্মিথ মছারের সাহসিকতা দেশে–বিদেশে প্রশংসায় ভেসেছে। পরে উড়োজাহাজের যাত্রীর আসনে থাকা দুজন পাইলট এগিয়ে এসে দায়িত্ব নেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল–নাহিয়ান গত সপ্তাহে হেনসন, রোয়ান ও সংশ্লিষ্ট ক্রুদের যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অসামান্য সাহসিকতার জন্য বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছেন। গুরুতর আহত পাইলট স্মিথ মছারকেও দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দেওয়া হয়। আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিথ জানান, সুস্থ হতে তাঁর অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র জানান, হামলাকারী ওমানের নাগরিক এবং তিনি চরম কট্টরপন্থী মতাদর্শী। তবে এই নাশকতার পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণের পর ওই পাইলট ও সাহসী যাত্রীদের ভূমিকার বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। এ ঘটনায় ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের সকল ক্রু এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তাঁর এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানা যায়নি।