সাবেক ‘মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স’ ও বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের একটি রহস্যময় মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের ইনস্টাগ্রামে তনুশ্রী লেখেন—‘শয়তানের মৃত্যু’। এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অভিনেত্রী পরবর্তীতে তার একটি ভিডিও বার্তায় এই নেতিবাচক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি যে ধরনের নেতিবাচকতার মুখোমুখি হচ্ছি, তা হয়তো অন্য কারো অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলবে না। অন্যদের অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে এটাই বাস্তবতা। আমি পুরোনো বিষয় নতুন করে সামনে আনতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি মানুষকে হয়রানি করে, তাদের ভুক্তভোগী বানায় এবং নানা অপকর্ম করে, তাহলে তার মৃত্যুর পর কী সব মুছে যায়? তার হিসাব কি বন্ধ হয়ে যায়?”
ট্রলিং ও নানা পাটেকরের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতা
তনুশ্রী দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালানো ট্রলকারী ও ইউটিউবারদের কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। সেই সাথে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, ২০২০ সালের পর তার ওপর একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “গুণ্ডারা আমার পিছু নিত। আমার গাড়ির ব্রেক নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।” উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অভিনেতা নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী, যা সেই সময় বলিউডে ‘মি টু’ আন্দোলনকে জোরালো করেছিল। তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার একটি গানে নানা পাটেকর তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিলেন। তবে এই অভিযোগ নানা পাটেকর সবসময় অস্বীকার করে এসেছেন এবং পরবর্তীতে তিনি এ মামলায় আইনি ক্লিনচিট পান।
লখনৌর অনুষ্ঠানে তনুশ্রীর প্রতিক্রিয়া
ভিডিও বার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর লখনৌর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তনুশ্রী দত্ত। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা পাটেকরের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আজকের দিনটা তাদের জন্য, তাদের অনুষ্ঠানের জন্য। আমি চাই, অনুষ্ঠানটি সফল হোক। এখন আর কী বলতে পারি? যারা চলে গেছেন, তারা তো চলেই গেছেন।”
অভিনেত্রীর জীবন ও ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট
- তনুশ্রী দত্ত ১৯৮৪ সালের ১৯ মার্চ ঝাড়খন্ডের জামশেদপুরের একটি বাঙালি হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জামশেদপুরের ডি. বি. এম. এস. ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা শেষে পুনে ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- ২০০৪ সালে ‘মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর ২০০৫ সালে ‘আশিক বানায়া আপনে’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন।
- তার ক্যারিয়ারের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘চকোলেট’, ‘ভাগাম ভাগ’, ‘রাকীব’, ‘ঢোল’, ‘গুড বয় ব্যাড বয়’ এবং ‘অ্যাপার্টমেন্ট’।
- দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র জগত থেকে দূরে থাকলেও নানা পাটেকরের মৃত্যু নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যটি আবারও তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














